অসমের ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল AIUDF প্রধান বদরুদ্দিন অজমলের রাজনৈতিক জীবনে একটি কঠিন বার্তা নিয়ে এসেছে। দলটি ২৭টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাত্র ২টি আসন পেয়েছে — যা AIUDF-এর ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ প্রদর্শন। অজমল AIUDF ২ আসন পেয়ে Congress-কে তীব্রভাবে আক্রমণ করেছেন। ৪ মে হোজাইয়ে সাংবাদিকদের সামনে অজমল বলেন, “Congress অসমে শেষ হয়ে গেছে। Congress মুসলিম লিগ হয়ে গেছে।” এই উক্তি নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অজমল নিজে নবগঠিত বিন্নাকান্দি আসনে জয়ী হয়েছেন — যা রাজ্য রাজনীতিতে তাঁর ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তন হলেও দলীয় দুর্দশা ঢাকতে পারছে না।
২৫ আসনের প্রতিশ্রুতি থেকে ২ আসনের বাস্তবতা
নির্বাচনের আগে অজমল AIUDF ২ আসন পাবে এমন কোনো ইঙ্গিতও দেননি। NDTV-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “আমরা আশাবাদী যে ২৫টির বেশি আসন পাব।” মার্চ মাসে New Indian Express-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও তিনি একই দাবি করেছিলেন। বাস্তবে ঘটেছে সম্পূর্ণ বিপরীত। ২৭টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে AIUDF মাত্র ২টি আসন পেয়েছে। তুলনার জন্য: ২০১১ সালে AIUDF সর্বোচ্চ ১৮টি আসন পেয়েছিল, ২০২১ সালে ১৫টি আসন ছিল এবং এবার সেই সংখ্যা ২-এ নেমে এসেছে।
AIUDF-এর পতনের গল্পটি শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে। ধুবড়িতে অজমল Congress-এর রাকিবুল হোসেনের কাছে ১০,১২,৪৭৬ ভোটের রেকর্ড ব্যবধানে হেরেছিলেন এবং AIUDF সেই আসনে মাত্র ১৮.৭২% ভোট পেয়েছিল। সেই পরাজয়ের পর থেকেই AIUDF-এর ভিত দ্রুত দুর্বল হতে শুরু করে এবং সংখ্যালঘু ভোটারদের একটি বড় অংশ Congress-মুখী হয়ে পড়েন।
অজমলের Congress-আক্রমণ — “মুসলিম লিগ” মন্তব্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
অজমল AIUDF ২ আসনে সীমিত হওয়ার পরেও Congress-এর বিরুদ্ধে তাঁর তীক্ষ্ণ মন্তব্য থামেনি। “Congress অসমে শেষ হয়ে গেছে। Congress মুসলিম লিগ হয়ে গেছে” — এই উক্তি করে তিনি আসলে বলতে চেয়েছেন যে Congress এখন সংখ্যালঘু নির্ভর দলে পরিণত হয়েছে এবং তার ফলে রাজ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। অজমলের এই মন্তব্য অবশ্য তাঁর নিজের রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিপরীতে বিশেষ তাৎপর্য রাখে — কারণ AIUDF-এর মূল ভোটব্যাংক বাংলাভাষী মুসলিম ভোটারদের একটি বড় অংশ এবার Congress-এর পক্ষে চলে গেছে।
নির্বাচনের আগে ভোট দেওয়ার পর NDTV-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অজমল বলেছিলেন, Congress BJP-কে সরাসরি ক্ষমতায় আসার সুযোগ করে দিয়েছে। কিন্তু ভোটারদের রায় ঠিক উল্টো কথা বলছে — সংখ্যালঘু ভোটাররা AIUDF ছেড়ে Congress-এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন। আগে থেকেই CM হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেছিলেন, “অজমলের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা শেষ হয়ে গেছে এবং AIUDF অসমের রাজনীতিতে আর গ্রহণযোগ্য নয়।” এবারের ফলাফল সেই মন্তব্যকেই প্রমাণিত করেছে বলে মনে হচ্ছে।
বরাক উপত্যকায় AIUDF-এর অনুপস্থিতি ও স্থানীয় প্রভাব
অজমল AIUDF ২ আসনে সীমিত হওয়ার প্রভাব বরাক উপত্যকায়ও অনুভূত হচ্ছে। NDTV-র আগের প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল যে AIUDF বরাক উপত্যকার বেশ কিছু আসনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে — কিন্তু এখানেও দলটির প্রভাব ব্যাপকভাবে কমেছে। হাইলাকান্দি জেলার আলগাপুর-কাটলিছড়া আসনে AIUDF-এর সুজাম উদ্দিন লস্কর — যিনি আগের আসনের বিধায়ক ছিলেন — এবার তৃতীয় স্থানে নেমে গেছেন এবং Congress-এর জুবায়ের আনাম মজুমদার ১ লক্ষেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। এটি স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে লালা শহর ও আলগাপুর-কাটলিছড়া অঞ্চলের সংখ্যালঘু ভোটাররাও AIUDF-এর পরিবর্তে Congress-এর পক্ষে সুস্পষ্টভাবে সরে এসেছেন।
অসমের সংখ্যালঘু রাজনীতির এই বড় পরিবর্তন আগামী দিনে কোন দিকে যাবে তা এখনই বলা সম্ভব নয়। অজমল বিন্নাকান্দিতে জয়ী হয়ে রাজ্য রাজনীতিতে টিকে রইলেন — কিন্তু একটি মাত্র আসন নিয়ে বিধানসভায় তাঁর প্রভাব অত্যন্ত সীমিত থাকবে। AIUDF ২০২৬-এর এই ভরাডুবির পর দলটি নিজেকে পুনর্গঠন করতে পারবে কি না, নাকি অসমের সংখ্যালঘু রাজনীতিতে Congress-ই এখন একমাত্র কার্যকর শক্তি হয়ে উঠবে — এই প্রশ্নের উত্তর আগামী বছরগুলো দেবে।