অসমের ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী ১২৬ জন বিধায়কের আর্থিক ও আইনি পটভূমি বিশ্লেষণ করে Association for Democratic Reforms (ADR) একটি বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। এই অসম বিধায়ক ফৌজদারি মামলা ADR রিপোর্ট ২০২৬ অনুযায়ী, ১২৬ জন বিজয়ী প্রার্থীর মধ্যে ২১ জন — অর্থাৎ মোট বিধায়কের ১৭% — তাঁদের হলফনামায় নিজেদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকার কথা ঘোষণা করেছেন। ইতিবাচক দিক হলো, ২০২১ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩৪ জন বা ২৭% — এবারে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে একই সময়ে রাজ্যের বিধায়কদের সম্পদের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বেড়েছে — ৮৫% বিধায়ক কোটিপতি।
দলভিত্তিক বিশ্লেষণ — Congress-এ সর্বোচ্চ, BPF সম্পূর্ণ পরিষ্কার
অসম বিধায়ক ফৌজদারি মামলা ADR রিপোর্ট ২০২৬-এর সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো তথ্য হলো দলগত বৈষম্য। India Today NE-র বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৯টি আসনে জয়ী Congress-এর ৯ জন বিধায়ক — অর্থাৎ ৪৭% — নিজেদের বিরুদ্ধে মামলা থাকার কথা ঘোষণা করেছেন, যা সব দলের মধ্যে সর্বোচ্চ হার। BJP ৮২টি আসনে জয়ী হয়েছে এবং তার মধ্যে ৭ জন বিধায়ক (৯%) ফৌজদারি মামলার কথা জানিয়েছেন। AIUDF-এর দুটি আসনের দুটিতেই মামলা রয়েছে এবং Trinamool Congress-এর একমাত্র বিধায়কেরও মামলা রয়েছে।
এর সম্পূর্ণ বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছে Bodoland People’s Front (BPF)। ১০টি আসনে জয়ী BPF-এর সবকটি বিধায়ক সম্পূর্ণ পরিষ্কার — একটিও ফৌজদারি মামলা নেই। ADR রিপোর্ট অনুযায়ী, Raijor Dal-এর একজন বিধায়কের এবং AGP-রও একজনের গুরুতর মামলা রয়েছে।
গুরুতর মামলার হিসেবে ১৯ জন বিধায়ক (১৫%) গুরুতর অপরাধের অভিযোগের সম্মুখীন — ২০২১ সালে এই হার ছিল ২২%। গুরুতর মামলার তালিকায় রয়েছে তিনটি হত্যাচেষ্টার মামলা এবং দুটি নারী সংক্রান্ত অপরাধের মামলা — যা সমাজের জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয়। গুরুতর অভিযোগ রয়েছে BJP-র ৭ জন, Congress-এর ৭ জন, AIUDF-এর ২ জন, Trinamool-এর ১ জন, Raijor Dal-এর ১ জন এবং AGP-র ১ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে।
বিধায়কদের সম্পদ — ৮৫% কোটিপতি, গড় বৃদ্ধি ৩.৩৪ কোটি
অসম বিধায়ক ফৌজদারি মামলা ADR রিপোর্ট ২০২৬-এর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিধায়কদের সম্পদ বৃদ্ধির চিত্র। ১২৬ জনের মধ্যে ১০৭ জন বিধায়ক — অর্থাৎ ৮৫% — কোটিপতি। দলওয়ারি হিসেবে BJP সবচেয়ে এগিয়ে: তাদের ৯০% বিধায়ক কোটিপতি। BPF-এর ৮০% এবং Congress-এর ৭৪% বিধায়ক কোটিপতি। AIUDF, Trinamool ও Raijor Dal-এর সব বিধায়কই ১ কোটির বেশি সম্পদ ঘোষণা করেছেন।
CM হিমন্ত বিশ্বশর্মা ৩৫ কোটি টাকার সম্পদ ঘোষণা করে বিধায়কদের সম্পদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। ADR-এর আনুষ্ঠানিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২১ সালে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ৮৩ জন বিধায়কের গড় সম্পদ ছিল ৪.১৮ কোটি টাকা এবং ২০২৬ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৭.৫২ কোটি টাকা — পাঁচ বছরে গড় বৃদ্ধি ৩.৩৪ কোটি টাকা। এই তথ্য বিধায়কদের সম্পদ বৃদ্ধির হার নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলছে।
হাইলাকান্দি ও বরাক উপত্যকার প্রাসঙ্গিকতা
এই ADR রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে লালা শহর ও হাইলাকান্দি জেলার পাঠকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে — এই জেলার দুই নতুন বিধায়ক কোন অবস্থানে রয়েছেন? হাইলাকান্দি সদর আসনের BJP বিধায়ক মিলন দাস এবং আলগাপুর-কাটলিছড়া আসনের Congress বিধায়ক জুবায়ের আনাম মজুমদার — উভয়ই সদ্য নির্বাচিত। রাজ্যব্যাপী ADR রিপোর্টে দলওয়ারি তথ্য স্পষ্ট করেছে যে Congress-এর ৪৭% বিধায়কের মামলা রয়েছে — এই পরিসংখ্যান লালা শহরের ভোটারদের নিজেদের বিধায়ক সম্পর্কে সচেতন থাকার প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে। ADR-এর মতো সংস্থা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ভোটারদের জন্য যে তথ্য সরবরাহ করছে, তা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ADR-এর এই রিপোর্ট একটি স্বাগতযোগ্য প্রবণতা দেখাচ্ছে — ২০২১ থেকে ২০২৬-এ ফৌজদারি মামলা-সম্পন্ন বিধায়কের সংখ্যা ৩৪ থেকে ২১-এ নেমে এসেছে। কিন্তু একই সঙ্গে বিধায়কদের সম্পদের ব্যাপক বৃদ্ধি এবং কোটিপতির আধিপত্য প্রশ্ন তুলছে — অসমের বিধানসভায় সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্ব কতটা থাকছে? নির্বাচন বিশ্লেষকরা মনে করেন, হলফনামায় সৎভাবে তথ্য প্রকাশ করা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ, কিন্তু এই তথ্যের ভিত্তিতে ভোটারদের আরও সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়াই আসল পরিবর্তন আনতে পারে। ADR প্রতিটি নির্বাচনের পর এই ধরনের বিশ্লেষণ প্রকাশ করে — এবং ভবিষ্যতে বিধায়কদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণও তাদের কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।