Read today's news --> ⚡️Click here 

অসমে সরকারি স্কুল পোশাক অনিরাপদ: শিবসাগরে অভিভাবকদের অভিযোগ, শিশুস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ

অসমে সরকারি স্কুল পোশাক অনিরাপদ — এই গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন শিবসাগর জেলার একাধিক অভিভাবক। সরকার বিনামূল্যে বিতরণ করা এই ইউনিফর্ম পরার পর তাদের সন্তানদের ত্বকে জ্বালাপোড়া, চুলকানি ও অ্যালার্জির মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে বলে তারা জানিয়েছেন। অভিভাবকদের দাবি, পোশাকে ব্যবহৃত কাপড়ের মান নিম্নমানের এবং তাতে শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান থাকতে পারে। এই অভিযোগ রাজ্যের শিক্ষা বিভাগ ও প্রশাসনকে নতুন চাপে ফেলেছে।

শিবসাগরে অভিভাবকদের অভিযোগ: কী ঘটছে

শিবসাগর জেলার সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে বিতরণ করা ইউনিফর্ম নিয়ে অসন্তোষ তীব্র হয়ে উঠেছে। স্থানীয় অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন যে তাদের শিশুরা এই পোশাক পরার পর শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করছে। এই ধরনের অভিযোগ শুধু শিবসাগরে সীমাবদ্ধ নয়। ২০২৫ সালে All Assam School Uniform Supplier Association (AASUSA) ইতোমধ্যে অভিযোগ তুলেছিল যে নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা নিম্নমানের ইউনিফর্ম পেয়েছেন। এই ধারাবাহিক অভিযোগ প্রমাণ করে যে অসমে সরকারি স্কুল পোশাকের গুণমান নিয়ে সমস্যা বহু বছর ধরেই চলে আসছে।

ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক স্কুল ইউনিফর্মে ব্যবহৃত কাপড়ে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ থাকতে পারে যা শিশুদের ত্বকে জ্বালাপোড়া, চুলকানি, শ্বাসকষ্ট এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কম খরচে কাপড় সরবরাহ করে বেশি মুনাফা করার লক্ষ্যে অসাধু সরবরাহকারীরা এই ধরনের নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করেন বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। শিশুদের ত্বক বয়স্কদের তুলনায় অনেক বেশি সংবেদনশীল হওয়ায় ক্ষতিকর রাসায়নিকের প্রভাব তাদের ওপরে দ্রুত এবং তীব্রভাবে পড়ে।

সমস্যার শিকড়: বছরের পর বছর ধরে চলা অনিয়ম

অসমে সরকারি স্কুল ইউনিফর্ম নিয়ে অভিযোগ নতুন নয়। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে অসম বিধানসভার প্রশ্নোত্তর পর্বে CM হিমন্ত বিশ্ব শর্মা স্বীকার করেছিলেন যে রাজ্যের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে স্কুল ইউনিফর্ম সরবরাহে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। CM শর্মা সেই সময় বলেছিলেন, “এবার আমরা অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করব।” তিনি MLA-দের নিজেদের এলাকার স্কুল পরিদর্শন করে ইউনিফর্মের মান গ্রেডিং করার আহ্বান জানান এবং জানান যে ‘C’ গ্রেড পাওয়া স্কুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একই বছর মার্চ মাসে, CM-এর নির্দেশে অসম শিক্ষা বিভাগ কালিয়াবর কলেজের গবেষণাগারে ইউনিফর্মের কাপড় পরীক্ষা শুরু করে। পরীক্ষায় সালফিউরিক অ্যাসিড দ্রবণে কাপড়ের নমুনা ডুবিয়ে সুতার বিশুদ্ধতা ও তুলার পরিমাণ যাচাই করা হয়। এই পদক্ষেপটি সঠিক দিকে ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালেও একই অভিযোগ ওঠার অর্থ হলো, সেই পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর পরিবর্তন আনতে পারেনি। সরবরাহ শৃঙ্খলে দুর্নীতি ও নজরদারির ঘাটতি এখনও রয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

হাইলাকান্দি লালা শহরের পরিপ্রেক্ষিতে এই ঘটনার প্রাসঙ্গিকতা

অসমে সরকারি স্কুল পোশাক অনিরাপদ হওয়ার এই অভিযোগ শুধু শিবসাগরের সমস্যা নয় — এটি সমগ্র অসমের সরকারি বিদ্যালয়গুলোর একটি সাধারণ সমস্যার প্রতিফলন। হাইলাকান্দি জেলার লালা শহর ও আশেপাশের গ্রামাঞ্চলের সরকারি বিদ্যালয়গুলোতেও প্রতি বছর সরকার বিনামূল্যে ইউনিফর্ম বিতরণ করে। বরাক উপত্যকার অনেক দরিদ্র পরিবার এই সরকারি ইউনিফর্মের উপরেই নির্ভরশীল — বাজার থেকে আলাদা করে পোশাক কেনার সামর্থ্য তাদের নেই।

লালা ও হাইলাকান্দির অভিভাবকদের উচিত হবে নিজেদের সন্তানের পোশাক পরার পর যদি কোনো ত্বকের সমস্যা লক্ষ্য করেন, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো এবং স্থানীয় জেলা শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা। একক অভিযোগের চেয়ে সংগঠিত অভিযোগ প্রশাসনিক সাড়া পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বেশি কার্যকর।

অসম সরকারের সামনে এখন কী করণীয়

শিবসাগরের এই সাম্প্রতিক অভিযোগ অসম সরকারকে ইউনিফর্ম সরবরাহ ব্যবস্থায় মৌলিক সংস্কারের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। ২০২৪ সালে ইউনিফর্ম অনিয়মের বিরুদ্ধে FIR দায়েরের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন কতটা হয়েছে তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে। শুধু গবেষণাগারে কাপড় পরীক্ষা নয়, দরপত্র প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা, সরবরাহকারী নির্বাচনে কঠোর মান নির্ধারণ এবং প্রতিটি ব্যাচের পোশাক বিতরণের আগে তৃতীয় পক্ষের গুণমান যাচাই বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।

শিশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা কোনো আপোষের বিষয় নয়। সরকার যখন বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়, তখন সেই পোশাক শিশুর শরীরে পরার যোগ্য কিনা সেটা নিশ্চিত করাও সরকারেরই দায়িত্ব। শিবসাগরের এই অভিযোগ যদি যথাযথভাবে তদন্ত হয় এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে। রাজ্যজুড়ে অভিভাবক, শিক্ষক ও সুশীলসমাজের মানুষ এখন সরকারের পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন।

অসমে সরকারি স্কুল পোশাক অনিরাপদ: শিবসাগরে অভিভাবকদের অভিযোগ, শিশুস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ
Scroll to top