Read today's news --> Click here

যাতায়াতের বিপুল খরচ ও দূরত্বের জের: ৯ এপ্রিলের বিধানসভা নির্বাচনে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হাজার হাজার পরিযায়ী অসমীয়া

আগামী ৯ এপ্রিল অসমে ১৫তম বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। রাজ্যে ৭২.৮৩ লক্ষ যুব ভোটারের এক বিশাল অংশ থাকলেও, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের তাগিদে ভিনরাজ্যে বা বিদেশে বসবাসকারী হাজার হাজার অসমীয়া এবারও তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হতে চলেছেন। মূলত বিমান ভাড়ার আকাশছোঁয়া দাম, ট্রেনে ৫০ ঘণ্টারও বেশি দীর্ঘ যাতায়াত এবং কর্মক্ষেত্র থেকে ছুটির অভাবের কারণেই তাঁরা চাইলেও ভোট দিতে নিজেদের রাজ্যে ফিরতে পারছেন না।

মুম্বই প্রবাসী আকাঙ্খা খাউন্ড এবং ২৪ বছর বয়সী বাস্তব তপন বরদলৈয়ের মতো তরুণ ভোটাররা জানিয়েছেন, রাজ্য থেকে দূরে থাকার কারণে তাঁরা রাজনৈতিকভাবে আরও বেশি সচেতন হলেও ভোট দিতে না পারার আক্ষেপ তাঁদের প্রতিনিয়ত তাড়িয়ে বেড়ায়। বাস্তব বলেন, “ইচ্ছা থাকলেও যাতায়াতের এই বাস্তব সমস্যাগুলি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।” এছাড়া, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে আকাশসীমায় বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার কারণেও যাতায়াত আরও জটিল ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে এবং নির্বাচনের সময়টি বিহু উৎসবের সাথে মিলে যাওয়ায় টিকিটের দামও নাগালের বাইরে চলে গেছে।

সম্প্রতি ‘খার_সিং’ (Khar_Singh) নামের এক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও বার্তায় খোদ মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার কাছে এই বিষয়ে সরাসরি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, সাধারণ আয়ের পরিযায়ী কর্মীদের পক্ষে নির্বাচনের মরশুমে দেড় মাসের বেতনের সমান টাকা খরচ করে বিমানের টিকিট কাটা প্রায় অসম্ভব। এর সমাধানের জন্য তিনি ভোটের সময় বড় শহরগুলি থেকে অসম পর্যন্ত বিশেষ ট্রেন চালানোরও আর্জি জানিয়েছেন সরকারের কাছে।

বেঙ্গালুরুতে কর্মরত ভাস্বতী বরঠাকুর এবং ২৩ বছর বয়সী সুরঙ্গনা গোস্বামীও একই হতাশা প্রকাশ করেছেন। সুরঙ্গনা জানান, পড়াশোনা এবং কাজের জন্য বাইরে থাকার কারণে তিনি যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত একবারও ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি, যা তাঁর কাছে নিজের নাগরিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ার মতোই। পোস্টাল ব্যালটের সুবিধা থাকলেও, তা শুধুমাত্র সরকারি আধিকারিক এবং সশস্ত্র বাহিনীর জন্য সীমাবদ্ধ থাকায় বেসরকারি খাতের কর্মী এবং ছাত্রছাত্রীরা এর কোনো সুফল পান না।

এই পরিস্থিতিতে ভিনরাজ্যে বসবাসকারী ভোটাররা ভোটদানের ক্ষেত্রে বিকল্প ও আধুনিক ব্যবস্থার জোরালো দাবি তুলছেন। তাঁদের প্রস্তাব, বড় শহরগুলিতে অনুমোদিত ভোটিং কেন্দ্র খোলা হোক অথবা সম্পূর্ণ নিরাপদ ও স্বচ্ছ ‘রিমোট ডিজিটাল ভোটিং’ (Remote digital voting) পরিকাঠামো তৈরি করা হোক। এই পরিযায়ী ভোটারদের স্পষ্ট বার্তা— ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে যেন দেশের কোনো নাগরিকেরই ভোটাধিকার খর্ব না হয়।

যাতায়াতের বিপুল খরচ ও দূরত্বের জের: ৯ এপ্রিলের বিধানসভা নির্বাচনে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হাজার হাজার পরিযায়ী অসমীয়া
Scroll to top