Read today's news --> ⚡️Click here 

কাছাড় বন্যা প্রস্তুতি নিয়ে UNICEF-এর সহযোগিতায় শিলচরে বৈঠক, বর্ষার আগেই তৎপর জেলা প্রশাসন

আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই কাছাড় বন্যা প্রস্তুতি নিয়ে শিলচরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। UNICEF-এর সহায়তায় আয়োজিত এই বৈঠকে কাছাড় জেলা প্রশাসন, রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (SDMA), স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন বলে বরাক বুলেটিন জানিয়েছে। বন্যার আগাম পরিকল্পনা, উদ্ধার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপ্রবণ এলাকার মানুষদের সচেতন করার বিষয়গুলো আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছে। ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি এখনও বরাক উপত্যকার মানুষের মনে তাজা — সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে কী আলোচনা হলো

কাছাড় বন্যা প্রস্তুতি বৈঠকে জেলার বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলোকে চিহ্নিত করে একটি হালনাগাদ ঝুঁকি মানচিত্র (Risk Map) প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বরাক বুলেটিনের প্রতিবেদনে জানা গেছে। বরাক নদী ও তার শাখানদীগুলোর নিকটবর্তী গ্রামগুলো প্রতি বছর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় — এই গ্রামগুলোতে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা (Early Warning System) কার্যকর করার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে বৈঠকে।

UNICEF-এর প্রতিনিধিরা বৈঠকে শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন। বন্যার সময় শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ে — ডায়ারিয়া, চর্মরোগ ও অপুষ্টির প্রকোপ বাড়ে। UNICEF-এর সহায়তায় স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ, ত্রাণ সামগ্রী মজুদ এবং ত্রাণ বিতরণের পরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয়ে কর্মকর্তারা একমত হয়েছেন। জেলা প্রশাসনের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, “এবার আমরা প্রতিক্রিয়া নয়, পূর্বপ্রস্তুতির উপর মনোযোগ দিতে চাই — কারণ সঠিক পরিকল্পনাই পারে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে।”

২০২২-এর বিপর্যয় থেকে শিক্ষা

২০২২ সালের জুন-জুলাই মাসে কাছাড় জেলায় যে বন্যা হয়েছিল, তা ছিল গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ। শিলচর শহরের প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা কয়েক দিন জলের নিচে ডুবে ছিল। লক্ষাধিক মানুষ গৃহহীন হয়েছিলেন, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল এবং বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছিল। সেই বিপর্যয়ে ত্রাণ ও উদ্ধার কাজে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছিল।

পরবর্তী বছরগুলোতে NDRF (National Disaster Response Force) ও SDRF (State Disaster Response Force)-এর সক্ষমতা বাড়ানো হলেও স্থানীয় পর্যায়ে পূর্বপ্রস্তুতির ঘাটতি রয়ে গেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। এবারের UNICEF-সহায়তাকৃত বৈঠক সেই ঘাটতি পূরণের একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। UNICEF ইতোমধ্যেই অসমের বন্যাপ্রবণ জেলাগুলোতে Community-Based Disaster Risk Reduction (CBDRR) কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

হাইলাকান্দি লালার জন্য কী বার্তা

কাছাড় বন্যা প্রস্তুতির এই উদ্যোগ পার্শ্ববর্তী হাইলাকান্দি জেলার জন্যও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। হাইলাকান্দি জেলার লালা, কাটলিছড়া ও আলগাপুর এলাকা প্রতি বছর বর্ষায় বন্যার কবলে পড়ে। সোনাই নদী ও কুশিয়ারা নদীর উপচে পড়া জল লালা শহরের নিম্নাঞ্চলে ঢুকে পড়ে — বাড়িঘর, দোকানপাট ও কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতি করে। লালা বাজারের অনেক ব্যবসায়ী প্রতি বছর বন্যায় পণ্য ও অবকাঠামোর ক্ষতির মুখোমুখি হন।

হাইলাকান্দি জেলা প্রশাসনও এই বছর বর্ষার আগেই প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জেলা সূত্রে জানা গেছে। তবে UNICEF-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় কাঠামোবদ্ধ প্রশিক্ষণ ও সম্পদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে হাইলাকান্দি এখনও পিছিয়ে আছে। স্থানীয় সুশীল সমাজ ও পঞ্চায়েত প্রতিনিধিরা দাবি করে আসছেন যে হাইলাকান্দিতেও কাছাড়ের মতো সমন্বিত বন্যা প্রস্তুতি বৈঠক আয়োজন করা হোক এবং UNICEF বা সমতুল্য সংস্থার কারিগরি সহায়তা নেওয়া হোক।

লালা শহরের বাসিন্দাদের জন্য বন্যার মৌসুমে কিছু ব্যবহারিক প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি — গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উঁচু জায়গায় রাখা, ত্রাণ কেন্দ্রের অবস্থান জেনে রাখা এবং স্থানীয় পঞ্চায়েত ও আপদকালীন যোগাযোগ নম্বর সংগ্রহে রাখা। জাতীয় দুর্যোগ হেল্পলাইন ১০৭৮ যেকোনো বন্যা পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা যায়।

কাছাড় জেলার এই কাছাড় বন্যা প্রস্তুতি বৈঠক শুধু একটি প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা নয় — এটি বরাক উপত্যকার লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষার একটি সক্রিয় প্রচেষ্টা। UNICEF-এর মতো সংস্থার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা থাকলে স্থানীয় প্রশাসনের সক্ষমতা অনেকটাই বাড়ে। আগামী বর্ষা মৌসুমে কাছাড় ও হাইলাকান্দি জেলা এই প্রস্তুতির সুফল পাবে কি না, তা নির্ভর করবে পরিকল্পনার সুষ্ঠু বাস্তবায়নের উপর — এবং সেটিই হবে প্রশাসনের আসল পরীক্ষা।

কাছাড় বন্যা প্রস্তুতি নিয়ে UNICEF-এর সহযোগিতায় শিলচরে বৈঠক, বর্ষার আগেই তৎপর জেলা প্রশাসন
Scroll to top