সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন (CWC) অসম ও ত্রিপুরার জন্য একটি বিশেষ বন্যা পরামর্শ জারি করার পরেও কাছাড় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (DDMA) স্পষ্ট জানিয়েছে — এই মুহূর্তে কাছাড় বন্যা সতর্কতা জারির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে CWC-র পরামর্শের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন পুরোপুরি প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে এবং বরাক নদী-সহ তার উপনদীগুলোর জলস্তর প্রতিমুহূর্তে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ১ মে থেকে ৬ মে-র মধ্যে ব্রহ্মপুত্র ও বরাক নদীর প্রধান উপনদীগুলোর জলস্তর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে CWC সতর্ক করেছে।
CWC-র বিশেষ পরামর্শে ঠিক কী বলা হয়েছে
সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে অসম ও ত্রিপুরার জন্য একটি বিশেষ বন্যা পরামর্শ প্রকাশ করেছে। এই পরামর্শে সরাসরি উল্লেখ রয়েছে যে হাইলাকান্দি জেলার মাতিজুরিতে কাটাখাল নদীর জলস্তর ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত ১৩.৫২ মিটারে পৌঁছে গিয়েছিল। পাশাপাশি, ব্রহ্মপুত্র নদীর প্রধান উপনদীগুলোর পাশাপাশি বরাক নদী ও তার শাখানদীগুলো ১ মে থেকে ৬ মে পর্যন্ত আরও ফুলে উঠতে পারে বলে কমিশন জানিয়েছে।
অসম সরকারের জল সম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কাছাড়ের A.P. ঘাটে বরাক নদীর বিপৎসীমা ১৯.৮৩ মিটার এবং সর্বোচ্চ রেকর্ড করা জলস্তর ২১.৮৪ মিটার, যা ১৯৮৯ সালে রেকর্ড হয়েছিল। কাছাড়ের মাতিজুরিতে কাটাখাল নদীর বিপৎসীমা ২০.২৭ মিটার। এই প্রেক্ষাপটে CWC-র সতর্কবার্তা আসায় কাছাড় DDMA তাৎক্ষণিকভাবে সব দপ্তরকে সতর্ক অবস্থায় রেখেছে এবং ত্রাণ শিবির, নৌকা ও জরুরি সরঞ্জামের প্রস্তুতি যাচাই করেছে।
কাছাড় DDMA-র বর্তমান অবস্থান ও পদক্ষেপ
কাছাড়ের জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, CWC-র পরামর্শকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই নেওয়া হচ্ছে — কিন্তু বর্তমানে বরাক নদী বা তার উপনদীগুলো বিপৎসীমায় পৌঁছায়নি বলে আনুষ্ঠানিক বন্যা সতর্কতা এখনই জারি করা হয়নি। ২০২৫ সালের জুনে কাছাড় DDMA-র তরফে ডিসি তথা DDMA চেয়ারপার্সন মৃদুল যাদব জানিয়েছিলেন, “যানবাহন বা হেঁটে বন্যার জলে পার হওয়ার চেষ্টা করবেন না — এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং দুর্ঘটনা বা আটকে পড়ার কারণ হতে পারে।” এই বছরও একই নির্দেশিকা প্রযোজ্য থাকবে যদি পরিস্থিতির অবনতি হয়।
অসম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (ASDMA) ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে আপডেট দিয়ে জানিয়েছে যে রাজ্যের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সব জেলা প্রশাসনকে হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে। গুয়াহাটিসহ অসমের একাধিক অংশে ৩০ এপ্রিলের ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার খবর এসেছে, যা বরাক উপত্যকায় কী আসতে পারে তার একটি ইঙ্গিত।
হাইলাকান্দি ও লালার জন্য এই সতর্কবার্তার অর্থ কী
কাছাড় বন্যা সতর্কতা এখনও জারি না হলেও হাইলাকান্দি জেলার বাসিন্দাদের — বিশেষত লালা ও তার আশপাশের এলাকার মানুষদের — সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কারণ CWC-র বিশেষ পরামর্শে সরাসরি হাইলাকান্দির কাটাখাল নদীর জলস্তরের উল্লেখ রয়েছে। ধলেশ্বরী নদীর ঘারমুরা পয়েন্ট হাইলাকান্দি জেলায় অবস্থিত, এবং গত বছর এই নদীও বিপৎসীমার উপর দিয়ে বয়েছিল।
লালা টাউন বরাক নদীর উপনদী ও ঢেপাখাল অববাহিকার কাছাকাছি অবস্থিত। প্রতি বছর বর্ষার মরসুমে এই অঞ্চলের নিচু এলাকাগুলো বন্যার ঝুঁকিতে থাকে। এ বছরের বর্ষা এখনও সবে শুরু হয়েছে এবং CWC মে মাসের প্রথম সপ্তাহেই সতর্কবার্তা দিয়েছে — এটি স্বাভাবিকের চেয়ে আগাম সতর্কতা। তাই লালা ও হাইলাকান্দির বাসিন্দারা, যারা প্রতিবছর বন্যার ক্ষতির মুখে পড়েন, তাঁরা এখনই কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে পারেন।
বাসিন্দারা এখনই যা করতে পারেন
DDMA-র পূর্ববর্তী পরামর্শের ভিত্তিতে বরাক উপত্যকার বাসিন্দাদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা মনে রাখা দরকার। প্রথমত, জরুরি খাদ্য সামগ্রী, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও প্রয়োজনীয় ওষুধের মজুত রাখুন। বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম যথাসম্ভব উঁচুতে সরিয়ে রাখুন। মোবাইল ফোন চার্জ রাখুন এবং সরকারি তথ্যের জন্য ASDMA ও জেলা প্রশাসনের অফিশিয়াল পেজ অনুসরণ করুন। জরুরি প্রয়োজনে কাছাড় DDMA-র কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করতে পারেন — ফোন নম্বর: ০৩৮৪২-২৩৯২৪৯ / ০৩৮৪২-২৩৪০০৫, মোবাইল: ৯৪০১৬-২৪১৪১।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং জলস্তর বিপৎসীমা অতিক্রম করলে জেলা প্রশাসন অবিলম্বে আনুষ্ঠানিক সতর্কতা জারি করবে। বর্ষার প্রথম সপ্তাহেই CWC-র এই বিশেষ পরামর্শ একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত — এবং আগাম প্রস্তুতিই এই অঞ্চলের মানুষের সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। লালাবাজার.কম বরাক উপত্যকার বন্যা পরিস্থিতির উপর নজর রাখবে এবং যেকোনো নতুন সতর্কতা বা প্রশাসনিক নির্দেশের আপডেট পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেবে।