গুয়াহাটিতে পেট্রোল ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পেয়ে মে ২০২৬-এ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। রাজ্যের রাজধানী গুয়াহাটিতে পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ১০১ টাকা ছাড়িয়ে গেছে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে ডিজেলের দামও ৮৯ থেকে ৯২ টাকার কাছাকাছি অবস্থান করছে। জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি চাপ ফেলছে।
কেন বাড়ছে জ্বালানির দাম?
রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি (OMCs) প্রতি মাসে প্রায় ৩০,০০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছিল। বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের বাজারে মূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ছে। এই চাপ সামলাতে না পেরে তেল সংস্থাগুলি শেষ পর্যন্ত মে ২০২৬-এর প্রথম দিক থেকে দাম সংশোধন করে। এটি প্রায় চার বছরে দেশে প্রথম বড় জ্বালানি মূল্য সংশোধন।
ইন্সটাগ্রামে প্রকাশিত একটি পোস্ট অনুসারে, ১ মে ২০২৬ থেকে পেট্রোলের দাম লিটারে ৬.৫১ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এই একটি বৃদ্ধিই গুয়াহাটির মতো শহরে পেট্রোলকে সরাসরি তিন অঙ্কের ঘরে নিয়ে গেছে। এই মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি LPG সিলিন্ডারের দামও ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে।
গুয়াহাটিতে পেট্রোল ডিজেলের বর্তমান দাম
Goodreturns-এর তথ্য অনুযায়ী, গুয়াহাটিতে পেট্রোলের দাম এক পর্যায়ে ১০১.২১ টাকায় উঠেছে। ১৪-১৫ মে ২০২৬ তারিখে গুয়াহাটিতে ডিজেলের দাম লিটারে ৮৯.৪৬ থেকে ৮৯.৫৬ টাকার মধ্যে রয়েছে। গত বছরের তুলনায় ডিজেলের দাম প্রায় ১.০৬ শতাংশ বেশি বলে জানিয়েছে।
এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে যানবাহন চালকদের পাশাপাশি কৃষিকাজে ডিজেল ব্যবহারকারী কৃষক, ছোট ব্যবসায়ী এবং পরিবহন শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন। অটোরিকশা ও ট্যাক্সিচালকরা ভাড়া বৃদ্ধির দাবি তুলছেন, কারণ জ্বালানি খরচ বাড়ায় তাদের আয় কমে গেছে।
হাইলাকান্দি ও লালা টাউনে প্রভাব
শুধু গুয়াহাটিতে নয়, আসামের বরাক উপত্যকার জেলাগুলিতেও জ্বালানির দাম বেড়েছে। Parkplus-এর তথ্যমতে, হাইলাকান্দি জেলায় ১৪-১৫ মে ২০২৬ তারিখে পেট্রোলের দাম লিটারে ৯৬.৯১ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৮৯.২১ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এপ্রিল ২০২৬-এ হাইলাকান্দিতে পেট্রোলের দাম ৯৮.৬২ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।
লালা টাউন ও হাইলাকান্দি জেলার মানুষেরা মূলত কৃষি, ছোট ব্যবসা ও দিনমজুরির উপর নির্ভরশীল। এই অঞ্চলে গণপরিবহন ব্যবস্থা সীমিত হওয়ায় মানুষকে ব্যক্তিগত বা ভাড়ার যানবাহনে চলাচল করতে হয়। ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে যানবাহন ভাড়া থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও পরোক্ষভাবে বাড়ে। স্থানীয় বাজারে সবজি, মাছ ও মুদিখানার পণ্যের পরিবহন খরচ বাড়ায় সাধারণ ক্রেতাদের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা
মূল্যবৃদ্ধির আগে থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছিল। লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী গত ২৮ এপ্রিল এক পোস্টে সতর্ক করেন যে বিভিন্ন রাজ্যে ভোটপর্ব শেষ হওয়ার পরই পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ানো হবে। তিনি আরও বলেন, “যখন তেলের দাম সস্তা ছিল, মোদি সরকার লাভ পকেটে পুরেছে। এখন দাম বাড়তে থাকলে সেই বোঝা জনগণের ঘাড়ে চাপানো হবে।” আসামেও বিধানসভা নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এই মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর হওয়ায় বিরোধীদের এই সমালোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
সামনের দিন: স্বস্তি মিলবে কি?
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম না কমলে ভারতের ভোক্তারা স্বল্পমেয়াদে স্বস্তি পাবেন না। সরকার পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে বলে জানা গেছে, তবে তেল সংস্থাগুলির আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা কম। লালা টাউনসহ গোটা হাইলাকান্দি জেলার বাসিন্দাদের জন্য এই মুহূর্তে সাশ্রয়ী পরিবহন ও জ্বালানির বিকল্প খোঁজা জরুরি হয়ে পড়েছে। জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি কতদিন চলবে এবং সরকার কোনো ত্রাণ-ব্যবস্থা ঘোষণা করে কিনা — সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি।