Read today's news --> ⚡️Click here 

আসামে ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, গুয়াহাটি-শ্রীভূমিতে বিপর্যস্ত জীবন

আসামে ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে শুক্রবার (১৫ মে) গুয়াহাটি ও শ্রীভূমি জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। লাগাতার বর্ষণের জেরে শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক জলের নিচে চলে যায়, ফলে অফিসযাত্রী, ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। আবহাওয়া দপ্তর (IMD) জানিয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও স্থানীয় নিম্নচাপের প্রভাবে এই ভারী বৃষ্টি হচ্ছে।

গুয়াহাটি শ্রীভূমিতে তীব্র জলাবদ্ধতা

গুয়াহাটির জু-রোড, আনিল নগর, নবানগর ও বেলতলা এলাকার মতো নিম্নাঞ্চলে জল জমে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বেশ কিছু জায়গায় হাঁটু থেকে কোমর সমান জল জমেছে। স্কুলগামী ছাত্রছাত্রীদের অনেকেই সমস্যায় পড়ে, এবং বহু অফিসকর্মী দেরিতে কাজে পৌঁছান।

অন্যদিকে, শ্রীভূমি জেলাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শহরের বাজার এলাকা ও সংলগ্ন বসতিতে জল ঢুকে পড়ে।  ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও দ্রুত জল নিষ্কাশনের অভাব এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কতা বৃষ্টিপাতের তথ্য

ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর (IMD) জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় আসামের বিভিন্ন জেলায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কিছু এলাকায় ৫০–৮০ মিমি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। IMD-এর এক কর্মকর্তা বলেন, “আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্ব ভারতের কয়েকটি অংশে আরও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, তাই সতর্ক থাকতে হবে।”

এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন নাগরিকদের অপ্রয়োজনে বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছে। জলাবদ্ধ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করা হয়েছে।

যান চলাচল দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব

গুয়াহাটিতে জলাবদ্ধতার কারণে বহু গুরুত্বপূর্ণ রুটে যানজট সৃষ্টি হয়। গণপরিবহন পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় অফিসযাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ে। কিছু জায়গায় অটো ও বাস পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা এলেই এই সমস্যা দেখা দেয়। এক বাসিন্দা জানান, “ড্রেন পরিষ্কার না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জল জমে যায়, এবার তো অবস্থা আরও খারাপ।”

হাইলাকান্দি লালা এলাকার সম্ভাব্য প্রভাব

যদিও এই জলাবদ্ধতার মূল প্রভাব গুয়াহাটি ও শ্রীভূমিতে দেখা গেছে, তবুও একই আবহাওয়ার প্রভাবে বরাক উপত্যকার জেলাগুলিতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হাইলাকান্দি জেলা প্রশাসন স্থানীয়ভাবে নজরদারি বাড়িয়েছে এবং নীচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

লালা টাউন ও আশেপাশের অঞ্চলেও অতিবৃষ্টির ফলে জল জমার আশঙ্কা রয়েছে, বিশেষ করে যেসব এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা দুর্বল। স্থানীয় পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গেছে, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি প্রস্তুতি

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বৃষ্টির ধারা আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে জলাবদ্ধতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসন ইতিমধ্যেই পাম্পিং ব্যবস্থা ও জল নিষ্কাশনের কাজ জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শহুরে পরিকল্পনার ঘাটতি ও অপর্যাপ্ত নিকাশি ব্যবস্থা এই ধরনের পরিস্থিতির জন্য দায়ী। দীর্ঘমেয়াদে এই সমস্যার সমাধানে অবকাঠামোগত উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নাগরিকদের সতর্কতা অবলম্বন করা এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আসামে ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, গুয়াহাটি-শ্রীভূমিতে বিপর্যস্ত জীবন
Scroll to top