আসামের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। হিমন্ত বিশ্বশর্মা দ্বিতীয় মেয়াদে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পথ এখন প্রায় সুনিশ্চিত। ১০ মে ২০২৬ গুয়াহাটিতে BJP বিধায়ক দলের বৈঠকের আগে বিহপুরিয়া কেন্দ্র থেকে বিজয়ী BJP নেতা ভূপেন কুমার বরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন — দল “১০০ শতাংশ” হিমন্ত বিশ্বশর্মার পক্ষে। ভূপেন কুমার বরার এই মন্তব্য দলের অভ্যন্তরীণ ঐকমত্যকে সর্বসমক্ষে প্রকাশ করে দিয়েছে।
বিধায়ক দলের বৈঠক ও হিমন্তের পুনর্নির্বাচন
গুয়াহাটিতে BJP বিধায়ক দলের বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন দলনেতা নির্বাচন করা হয়। ANI-কে দেওয়া বিবৃতিতে ভূপেন কুমার বরা বলেন, “আজ আসামের মানুষের আশা ও প্রত্যাশা পূরণ হবে। আমরা ১০০ শতাংশ ডক্টর হিমন্ত বিশ্বশর্মার পক্ষে এবং আমি খুবই আশাবাদী যে BJP হাইকমান্ড আসামের মানুষের কণ্ঠস্বর শুনবে।” তিনি বিহপুরিয়া কেন্দ্রে মোট ৭৩,০৫০ ভোট পেয়ে কংগ্রেস প্রার্থী নারায়ণ ভুঁইয়াকে ৮,২৩৬ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন — যা এই কেন্দ্রে BJP-র শক্তিশালী অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
বরিষ্ঠ BJP নেতা শিলাদিত্য দেব বৈঠকটিকে “ঐতিহাসিক” বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “আমাদের নেতা ডক্টর হিমন্ত বিশ্বশর্মা আবারও দলনেতা নির্বাচিত হবেন। তিনি দ্বিতীয়বারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হবেন। তিনি শুধু আসামের হৃদয়স্পন্দন নন, সারা দেশ জুড়ে তিনি একজন সম্মানিত নেতা।” গোরেশ্বর কেন্দ্রের বিজয়ী MLA ভিক্টর কুমার দাস এবং মঙ্গলদাই কেন্দ্রের MLA নীলিমা দেবীও হিমন্তের মুখ্যমন্ত্রী পদে পুনরায় নির্বাচনের বিষয়ে আস্থা প্রকাশ করেছেন।
AGP-সহ সমগ্র NDA জোটের সমর্থন
শুধু BJP-ই নয়, NDA জোটের গুরুত্বপূর্ণ শরিক অসম গণ পরিষদ (AGP)-ও ৬ মে আনুষ্ঠানিকভাবে হিমন্ত বিশ্বশর্মার দ্বিতীয় মেয়াদের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে। AGP সভাপতি অতুল বরা নবনির্বাচিত দলীয় MLA-দের নিয়ে দলের সদর দপ্তরে বৈঠক করেন এবং সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে হিমন্ত বিশ্বশর্মার নাম প্রস্তাব করা হয়। AGP নেতা ও বিহপুরিয়ার MLA ভূপেন কুমার বরা হিমন্তকে “গতিশীল নেতা” বলে বর্ণনা করেন এবং বলেন যে BJP নেতৃত্বাধীন সরকারের উন্নয়নমূলক কাজই জনগণের সমর্থন আদায় করেছে।
২০২৬ সালের আসাম বিধানসভা নির্বাচনে NDA জোট ১২৬টি আসনের মধ্যে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে — নিউজ বাজার২৪ ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গেরুয়া শিবির ম্যাজিক ফিগার অতিক্রম করে কার্যত বিরোধীশূন্য জয় পেয়েছে। এর আগে ২০২১ সালেও BJP নেতৃত্বাধীন NDA জোট ৭৫টি আসন পেয়ে ক্ষমতায় আসে — যা আসামে কংগ্রেস-বহির্ভূত কোনো জোটের প্রথম টানা মেয়াদে জয় ছিল। ২০২৬ সালের ফলাফল সেই ধারাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
হাইলাকান্দি ও বরাক উপত্যকার জন্য কী বার্তা
হিমন্ত বিশ্বশর্মার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা বরাক উপত্যকার রাজনীতিতেও যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক। গত মেয়াদে তাঁর সরকার হাইলাকান্দি, কাছাড় ও করিমগঞ্জ জেলায় একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প ঘোষণা করেছিল — যার মধ্যে রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য। লালা শহর ও হাইলাকান্দির অনেক মানুষ এই নির্বাচনে BJP-র পক্ষে ভোট দিয়েছেন — এবং নতুন সরকারের কাছে তাঁদের প্রত্যাশা হলো জেলায় শিল্প, কর্মসংস্থান এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া হবে।
বরাক উপত্যকার বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীর কাছে রাজ্য সরকারের নীতি — বিশেষত ভাষা, সংস্কৃতি ও নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে — সরাসরি প্রভাব ফেলে। এই প্রেক্ষিতে দ্বিতীয় মেয়াদে হিমন্ত সরকার এই অঞ্চলের প্রতি কতটা সহানুভূতিশীল নীতি গ্রহণ করে, সেটি হাইলাকান্দির রাজনৈতিক ও সাধারণ মহলে গভীর আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠবে।
আসামের রাজনৈতিক দিগন্তে এখন একটিই নাম — হিমন্ত বিশ্বশর্মা। দ্বিতীয় মেয়াদে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তাঁর সামনে থাকবে প্রথম মেয়াদের প্রতিশ্রুতিগুলি পূরণ করা এবং নতুন প্রত্যাশার সঙ্গে তাল মেলানোর চ্যালেঞ্জ। BJP হাইকমান্ড, AGP সহ সমগ্র NDA জোটের এককণ্ঠ সমর্থন ইতিমধ্যে স্পষ্ট হয়ে গেছে — এবং হিমন্ত বিশ্বশর্মার দ্বিতীয় মেয়াদে আসামের রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, তার উপর দেশের দৃষ্টি নিবদ্ধ।