Read today's news --> ⚡️Click here 

হিমন্ত বিশ্ব শর্মার পশ্চিমবঙ্গ শিল্প কর্মসংস্থানের আহ্বান: বাম ও TMC শাসনের সমালোচনায় অসম CM

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ২৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে  Twitter-এ একটি পোস্টে পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীক্ষ্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন পশ্চিমবঙ্গ তার বিপুল ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও শিল্প ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেনি। হিমন্ত বিশ্ব শর্মার পশ্চিমবঙ্গ শিল্প কর্মসংস্থান নিয়ে এই বক্তব্য পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর প্রচারপর্বে রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

রবীন্দ্রনাথ থেকে নেতাজি: সম্ভাবনার রাজ্যে কেন শিল্পের অবক্ষয়

হিমন্ত বিশ্ব শর্মা তাঁর পোস্টে স্মরণ করিয়ে দেন যে পশ্চিমবঙ্গ ঐতিহ্যগতভাবে ভারতের বৌদ্ধিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের কেন্দ্র ছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুভাষচন্দ্র বসু এবং স্বামী বিবেকানন্দের মতো মহামানবদের জন্মভূমি এই রাজ্যে দশকের পর দশক ধরে শিল্পের ধারাবাহিক পতন হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

শর্মার অভিযোগ, এই অবক্ষয়ের মূল কারণ হলো Communist Party of India (Marxist) বা CPI(M)-নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্টের দীর্ঘ শাসনকাল। তাঁর মতে, বামফ্রন্টের নীতি শিল্পকে স্থবির করেছিল, বিনিয়োগকারীদের দূরে ঠেলেছিল এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতিকে থামিয়ে দিয়েছিল। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, শর্মা দাবি করেছেন যে বর্তমান All India Trinamool Congress বা TMC সরকারের আমলেও এই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেনি।

পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক সুবিধা: কাজে লাগানো হচ্ছে না

হিমন্ত বিশ্ব শর্মা পশ্চিমবঙ্গ শিল্প কর্মসংস্থান নিয়ে তাঁর বিশ্লেষণে রাজ্যটির ভৌগোলিক কৌশলগত অবস্থানের দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গের সমুদ্রবন্দরের সুবিধা, উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে সংযোগ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে প্রবেশাধিকারের সুযোগ — এই সব মিলিয়ে রাজ্যটির বিনিয়োগ আকর্ষণের অসাধারণ সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু সেই সুযোগ এখনও পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগানো হয়নি।

হিমন্ত শর্মা পশ্চিমবঙ্গে BJP-র নির্বাচনী প্রচারে একাধিকবার অংশ নিয়েছেন এবং সেখানে প্রতিবারই তিনি শিল্প পুনরুজ্জীবন, কর্মসংস্থান ও সুশাসনের ইস্যুগুলি সামনে এনেছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে একই সুরে বলেছেন যে BJP ক্ষমতায় এলে প্রতি বছর এক লক্ষ যুবককে মেধার ভিত্তিতে কর্মসংস্থান দেওয়া হবে।

নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে শর্মার বক্তব্যের তাৎপর্য

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর সময় এই বক্তব্য স্পষ্টতই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক। BJP-র মূল রণনীতি হলো TMC সরকারের বিরুদ্ধে শিল্পনীতির ব্যর্থতা এবং দুর্নীতির অভিযোগকে সামনে রেখে তরুণ বেকার প্রজন্মের ভোট আকর্ষণ করা। হিমন্ত শর্মার মতো একজন সফল BJP মুখ্যমন্ত্রী যিনি অসামে বিনিয়োগ আনার ক্ষেত্রে নিজস্ব রেকর্ড তৈরি করেছেন, তাঁর কণ্ঠে এই আহ্বান বেশি বিশ্বাসযোগ্য শোনায় বলে দলের নির্বাচনী কৌশলবিদরা মনে করছেন।

হিমন্ত শর্মা তাঁর পোস্টে স্পষ্ট বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের জন্য চারটি উপাদান অপরিহার্য: শিল্প পুনরুজ্জীবন, নীতিগত স্থিতিশীলতা, স্বচ্ছ শাসন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এই চারটি বিষয়কে একসাথে উপস্থাপন করে তিনি মূলত TMC শাসনকালে এই চারটি ক্ষেত্রেই ব্যর্থতার একটি চিত্র এঁকে দিয়েছেন।

বরাক উপত্যকা হাইলাকান্দির দৃষ্টিভঙ্গিতে এই রাজনীতি

পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচনী বিতর্ক হাইলাকান্দি ও লালা টাউনের পাঠকদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। বরাক উপত্যকার বাংলাভাষী মানুষের একটি বড় অংশ পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে পারিবারিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিকভাবে গভীরভাবে যুক্ত। পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের বিকাশ না হওয়ার কারণে প্রতি বছর বহু তরুণ কর্মসংস্থানের সন্ধানে বরাক উপত্যকা ও আসামে আসেন — এই প্রবাহ উভয় অঞ্চলের শ্রমবাজারকে প্রভাবিত করে।

আসামের CM হিমন্ত শর্মা নিজে WEF ২০২৬-এ আসামকে বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরেছিলেন এবং সেমিকন্ডাক্টর, গ্রিন এনার্জি ও পর্যটন ক্ষেত্রে প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ আলোচনার কথা জানিয়েছিলেন। সেই পটভূমিতে তাঁর পশ্চিমবঙ্গ সমালোচনা কেবল রাজনৈতিক নয় — এটি দুটি পড়শি রাজ্যের শিল্পনীতির মধ্যে একটি তুলনামূলক চিত্রও তুলে ধরছে।

আগামী দিনে কী দেখার

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ যত ঘনিয়ে আসছে, হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মতো BJP নেতাদের রাজ্যে প্রচারসফর ও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের তীব্রতা বাড়ছে। TMC সরকার এই অভিযোগগুলো সম্পর্কে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শিল্প ও কর্মসংস্থানের প্রশ্নটি এই নির্বাচনে একটি কেন্দ্রীয় ইস্যু হয়ে উঠবে — বিশেষত সেই জেলাগুলোতে যেখানে পুরনো শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বেকারত্ব দীর্ঘস্থায়ী সমস্যায় পরিণত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ভোটাররা শেষ পর্যন্ত শিল্প পুনরুজ্জীবনের প্রতিশ্রুতিকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করবেন কি না — সেটিই এই নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

হিমন্ত বিশ্ব শর্মার পশ্চিমবঙ্গ শিল্প কর্মসংস্থানের আহ্বান: বাম ও TMC শাসনের সমালোচনায় অসম CM
Scroll to top