পশ্চিম এশিয়ার সংকট ও বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন VIP কনভয় কমানো ও জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছেন, তখন একটি তথ্য আলোচনায় এসেছে — আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ইতিমধ্যে গত পাঁচ বছর ধরে ভারতের সবচেয়ে ছোট Z Plus নিরাপত্তা কনভয়গুলির একটি নিয়ে চলছেন। মোদির মিতব্যয়িতার ডাকের অনেক আগে থেকেই এই অভ্যাস তাঁর — এবং এবার ১৩ মে-র প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমস্ত মন্ত্রীর কনভয় কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হিমন্তের ছোট কনভয় — পাঁচ বছরের পুরনো নীতি
Z Plus নিরাপত্তাপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও হিমন্ত বিশ্ব শর্মার গুয়াহাটির মধ্যে কনভয়ে মাত্র ছয়টি গাড়ি থাকে। অধিকাংশ উচ্চ নিরাপত্তাবলয়ের রাজনৈতিক নেতাদের কনভয়ে যে আলাদা অ্যাম্বুলেন্স বা জ্যামার গাড়ি থাকে, আসামের CM-এর ক্ষেত্রে তা নেই। এই নীতি নতুন নয় — ২০২২ সালের ২৭ জানুয়ারি আসাম মন্ত্রিসভা আনুষ্ঠানিকভাবে গুয়াহাটির মধ্যে CM-এর কনভয় ছয় গাড়িতে সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। New Indian Express ও NE Now-এর সেই সময়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলায় সফরের সময় কনভয় সর্বোচ্চ ১২টি গাড়িতে সীমিত রাখা হয়, পাইলট ও এসকর্ট গাড়ি বাদে। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত হয়েছিল — CM-এর কনভয়ের জন্য ট্র্যাফিক আগে থেকে বন্ধ রাখা যাবে না, এবং অ্যাম্বুলেন্সকে কনভয়ের চেয়ে সবসময় অগ্রাধিকার দিতে হবে।
১৩ মে-র ক্যাবিনেট বৈঠকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন — নতুন কী সিদ্ধান্ত
১৩ মে তারিখে হিমন্ত সরকার ২.০-র প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে — আগামী ছয় মাসের জন্য রাজ্যের সমস্ত মন্ত্রীর কনভয় ছোট করা হবে, এবং এই নীতি মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপালের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। একই বৈঠকে সরকার আরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে — ছয় মাসের জন্য বিদেশি পণ্য সরকারি কাজে আমদানি বন্ধ রাখা হবে এবং কোনো সরকারি বিভাগ এই সময়ে সশরীরে সেমিনার বা কর্মশালার আয়োজন করতে পারবে না। এই সিদ্ধান্তগুলো প্রধানমন্ত্রী মোদির মিতব্যয়িতার ডাকের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ এবং রাজ্য সরকারের সামগ্রিক ব্যয় সংকোচনের একটি স্পষ্ট অভিমুখ স্থির করে দিচ্ছে।
এছাড়া, হিমন্ত শর্মা এখন জেলায় সফরের সময় “কারাভান স্টাইল” অফিসিয়াল গাড়ির পরিকল্পনা করছেন — যেখানে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ ও বিভাগীয় প্রতিনিধিরা CM-এর সঙ্গেই একটি বড় গাড়িতে থাকবেন। এতে অতিরিক্ত গাড়ির সংখ্যা কমবে এবং চলতে চলতেই প্রশাসনিক আলোচনা ও প্রকল্প পর্যালোচনা করা সম্ভব হবে।
মোদির আহ্বান — দেশজুড়ে কী প্রভাব পড়ছে
প্রধানমন্ত্রী মোদি হায়দ্রাবাদে তেলেঙ্গানা BJP-র একটি সমাবেশে বক্তব্যের সময় মিতব্যয়িতার ডাক দেন। তিনি পেট্রোল-ডিজেলের ব্যবহার কমানো, শহরে মেট্রো ও গণপরিবহন ব্যবহার, কার্পুলিং, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ানো, পণ্য পরিবহনে রেল সেবার ব্যবহার এবং Work from Home-এর উপর জোর দেন। মোদি নিজেও তাঁর সাম্প্রতিক গুজরাট ও আসাম সফরে কনভয়ের আকার ৫০ শতাংশ কমিয়ে এনেছেন, এবং নতুন গাড়ি কিনতে না গিয়ে বিদ্যমান কনভয়ে যেখানে সম্ভব EV অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ CM, মন্ত্রী ও অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কনভয় ৫০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন। UP-এর জলশক্তি প্রতিমন্ত্রী দীনেশ খাটিক তাঁর এসকর্ট গাড়ি ফিরিয়ে দিয়ে ঘোষণা করেছেন তিনি জেলা সফরে মোটরসাইকেল ব্যবহার করবেন। BJP নেতৃত্বাধীন একাধিক রাজ্য সরকার এই মিতব্যয়িতার নীতি কার্যকর করতে শুরু করেছে — কারণ একদিকে PM জনগণকে সাশ্রয়ের আহ্বান জানাচ্ছেন, আর অন্যদিকে সরকারি VIP কনভয়গুলি বহাল থাকলে বিরোধিতার মুখে পড়তে হবে।
বরাক উপত্যকা ও হাইলাকান্দিতে প্রাসঙ্গিকতা
এই মিতব্যয়িতার নীতি শুধু রাজধানীর মন্ত্রিসভাকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই — এর প্রভাব হাইলাকান্দি সহ বরাক উপত্যকার প্রশাসনিক সংস্কৃতিতেও ধীরে ধীরে পড়বে। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কনভয় ও সরকারি গাড়ির ব্যবহার কমলে সরকারি তেল খরচ সাশ্রয় হবে। যদি CM-এর কারাভান মডেলটি সত্যিই চালু হয়, তাহলে ভবিষ্যতে মুখ্যমন্ত্রীর হাইলাকান্দি সফরে কম সংখ্যক গাড়ির কনভয় থাকবে এবং সফরের সময়টি আরও কার্যকরভাবে প্রশাসনিক কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
আগামী ছয় মাস ধরে কনভয় সীমিত রাখা, বিদেশি পণ্য আমদানি বন্ধ এবং ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের সংস্কৃতি চালু করা — এই তিনটি সিদ্ধান্ত একসঙ্গে আসাম সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। বৈশ্বিক সংকটের সময়ে রাজ্য কীভাবে খরচ নিয়ন্ত্রণ করে এবং সেই অর্থ উন্নয়নমূলক কাজে পুনর্বিনিয়োগ করে, সেটাই এখন নজরদারির কেন্দ্রে। PM মোদির ডাক ও হিমন্ত শর্মার পূর্ব থেকেই প্রচলিত নীতির এই মিলন একটি ইতিবাচক নজির স্থাপন করছে — যা অন্যান্য রাজ্যের জন্যও অনুসরণযোগ্য হতে পারে।