Read today's news --> ⚡️Click here 

ইরান যুদ্ধে আমেরিকার খরচ ২৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল — হার্ভার্ড অধ্যাপকের আশঙ্কা ১ ট্রিলিয়নে পৌঁছাবে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের ব্যয় এখন ২৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ইরান যুদ্ধে আমেরিকার খরচ ২৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর কথা জানিয়েছেন পেন্টাগনের সিনিয়র বাজেট কর্মকর্তা জেই হার্স্ট, যিনি মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেসের হাউস অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির শুনানিতে এই হিসাব দেন। মাত্র দুই সপ্তাহ আগে কংগ্রেসকে যে ২৫ বিলিয়ন ডলারের অনুমান দেওয়া হয়েছিল, তা এখন ৪ বিলিয়ন ডলার বেড়ে ২৯ বিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি আসল ব্যয়ের একটি অংশমাত্র — হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের অধ্যাপক লিন্ডা বিলমেস আশঙ্কা করছেন, মোট ব্যয় শেষমেশ ১ ট্রিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকবে।

পেন্টাগনের হিসাব বাড়ছে — কেন এত দ্রুত?

পেন্টাগন কম্পট্রোলার জেই হার্স্ট কংগ্রেসের শুনানিতে স্পষ্ট করেছেন, ব্যয় বৃদ্ধির মূল কারণ দু’টি — যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জাম মেরামত ও প্রতিস্থাপনের আপডেটেড হিসাব এবং যুদ্ধক্ষেত্রে সৈন্য মোতায়েন রাখার সাধারণ পরিচালন খরচ। হার্স্ট সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস সাবকমিটির শুনানিতে আরও জানান যে এই ২৯ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো যে ক্ষতির শিকার হয়েছে তার হিসাব এখনও যোগ করা হয়নি। এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে, যখন মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। সেই হিসাবে মাত্র নয় সপ্তাহের মাথায় ব্যয় ইতিমধ্যে ২৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই মার্কিন ব্যয় হয়েছিল ১১.৩ বিলিয়ন ডলার, তবে বিলমেস বলছেন প্রকৃত খরচ ছিল ১৬ বিলিয়ন ডলার — কারণ পেন্টাগন সাধারণত পুরনো ইনভেন্টরি মূল্যে হিসাব করে, বাজারে বর্তমান প্রতিস্থাপন খরচে নয়। যুদ্ধের পুরো সক্রিয় পর্বে প্রতিদিন প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে।

হার্ভার্ড অধ্যাপকের ট্রিলিয়ন ডলারের সতর্কবার্তা

সবচেয়ে উদ্বেগজনক পূর্বাভাস এসেছে হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের পাবলিক পলিসি বিশেষজ্ঞ ও যুদ্ধ-বাজেট গবেষক অধ্যাপক লিন্ডা বিলমেসের কাছ থেকে। তিনি বলেছেন, “আমি নিশ্চিত যে ইরান যুদ্ধে আমেরিকা ১ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে। হয়তো সেই পরিমাণ ইতিমধ্যেই জমা হয়ে গেছে।” বিলমেস যুক্তি দিচ্ছেন, পেন্টাগনের দেওয়া ২৯ বিলিয়ন ডলারের হিসাবে শুধু তাৎক্ষণিক সামরিক খরচ ধরা হচ্ছে — দীর্ঘমেয়াদী সেনাবাহিনীর চিকিৎসা ও পুনর্বাসন খরচ, ভেটেরান্স কেয়ার, ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জামের পূর্ণ প্রতিস্থাপন খরচ এবং প্রতিরক্ষা বিভাগের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের ব্যয় একত্রিত করলে মোট পরিমাণ ১ ট্রিলিয়নে পৌঁছাবে।

দীর্ঘমেয়াদী মেরামত ও সামরিক সম্পদ প্রতিস্থাপন যোগ করলে মোট খরচ ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে যেতে পারে। এছাড়া ১৯ মার্চ যখন যুদ্ধের ব্যয় ১৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল, সেই সময়েই পেন্টাগন কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলারের বরাদ্দ চেয়েছিল। হোয়াইট হাউস ইতিমধ্যে প্রতিরক্ষা বাজেট ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার প্রস্তাব রেখেছে — দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা বরাদ্দ বৃদ্ধির এই অনুরোধ পুরো পরিস্থিতির গুরুত্ব স্পষ্ট করে দেয়।

ভারত বরাক উপত্যকায় প্রভাব — জ্বালানি মূল্যস্ফীতির চাপ

ইরান যুদ্ধে আমেরিকার খরচ বৃদ্ধি ও সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা ভারতের অর্থনীতিতেও সরাসরি প্রভাব ফেলছে। হরমুজ প্রণালির কাছে উত্তেজনা বাড়লে ভারতের কাঁচা তেল আমদানিতে সরাসরি বিঘ্ন ঘটতে পারে — এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়। GIMS-এর গবেষণাপত্র অনুযায়ী, ইরান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্য ২৫-৪০ শতাংশ বাড়তে পারে, যা ভারতের আমদানি বিল ও মুদ্রাস্ফীতির উপর সরাসরি চাপ তৈরি করবে।

হাইলাকান্দি ও বরাক উপত্যকার মতো অঞ্চলে যেখানে কৃষি ও ছোট ব্যবসার উপর মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল, সেখানে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের দাম পর্যন্ত প্রভাব পড়ে। এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এবং হরমুজ প্রণালিতে শিপিং বাধাগ্রস্ত হলে ভারতের আমদানি খরচ আরও বাড়বে — যার প্রভাব লালা টাউন ও হাইলাকান্দির বাজারেও অনুভূত হতে পারে।

আগামী দিনে মার্কিন কংগ্রেসে যুদ্ধের বাজেট নিয়ে আরও শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে, এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ রক্ষা করছে বলে DW জানাচ্ছে। পেন্টাগনের নিজের হিসাবও বারবার সংশোধিত হচ্ছে — মাত্র দুই সপ্তাহে ২৫ থেকে ২৯ বিলিয়ন ডলারে উঠে আসার এই গতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে প্রকৃত ব্যয় আরও অনেক বেশি হতে পারে। লিন্ডা বিলমেস যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের কথা বলছেন — সেই পরিসংখ্যান যদি সত্যি হয়, তাহলে এটি হবে ইতিহাসের অন্যতম ব্যয়বহুল সামরিক সংঘাতগুলির একটি।

ইরান যুদ্ধে আমেরিকার খরচ ২৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল — হার্ভার্ড অধ্যাপকের আশঙ্কা ১ ট্রিলিয়নে পৌঁছাবে
Scroll to top