
১০ এপ্রিল শুক্রবার SEBA ঘোষিত HSLC 2026 ফলাফলে বরাক উপত্যকার তিনটি জেলার চিত্র সুস্পষ্টভাবে বিভক্ত। বরাক উপত্যকা HSLC 2026 জেলাওয়ারি ফলাফলে হাইলাকান্দি জেলা উপত্যকায় সর্বোচ্চ পাশের হার অর্জন করেছে, অন্যদিকে কাছাড় জেলার পাশের হার মাত্র ৪৯.১৩ শতাংশ — যা ২০২৬ সালে সমগ্র আসামে সর্বনিম্ন। রাজ্যের সর্বোচ্চ পাশের হার অর্জন করেছে দিমা হাসাও — ৮৮.২৩ শতাংশ। Fastresult.in ও Shiksha.com-এ প্রকাশিত SEBA-র আনুষ্ঠানিক জেলাওয়ারি পরিসংখ্যান থেকে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। কাছাড়ের এই ফলাফল শিক্ষা মহলে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
তিন জেলার পরিসংখ্যান: হাইলাকান্দি সেরা, কাছাড় তলানিতে
বরাক উপত্যকার তিন জেলার জেলাওয়ারি তুলনামূলক চিত্রটি এবার বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। হাইলাকান্দি এবারও বরাক উপত্যকায় সর্বোচ্চ পাশের হার নিয়ে উপত্যকার শীর্ষে রয়েছে। করিমগঞ্জ মাঝখানে। আর কাছাড় রয়েছে সর্বনিম্নে — শুধু বরাক উপত্যকায় নয়, সারা আসামেও।
কাছাড়ের ৪৯.১৩ শতাংশ পাশের হার মানে প্রতি দুইজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজনেরও বেশি অনুত্তীর্ণ। এই পরিসংখ্যান Fastresult.in-এ প্রকাশিত SEBA-র ২০২৬ সালের জেলাওয়ারি তালিকায় স্পষ্টভাবে নথিভুক্ত। Barak Bulletin এবং Sentinel Assam-এর ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, সেই বছরও কাছাড়ের পাশের হার ছিল ৫১.৫৮ শতাংশ — বরাক উপত্যকায় সর্বনিম্ন এবং রাজ্যের নিচের দিক থেকে পঞ্চম। অর্থাৎ কাছাড়ের এই দুর্বল পারফরম্যান্স নতুন নয় — এটি একটি ধারাবাহিক সমস্যা যা ক্রমশ আরও গভীর হচ্ছে।
হাইলাকান্দি ও লালা টাউন: ধারাবাহিক উন্নতির গল্প
এই প্রেক্ষাপটে হাইলাকান্দির ফলাফল একটি ইতিবাচক ব্যতিক্রম। বরাক উপত্যকা HSLC 2026 জেলাওয়ারি ফলাফলে হাইলাকান্দি এবারও উপত্যকায় শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। গত কয়েক বছরের ইতিহাস বলছে, এই জেলা ধারাবাহিকভাবে উপত্যকায় সেরা ফলাফল দিয়ে আসছে। ২০২৫ সালে হাইলাকান্দির পাশের হার ছিল ৫৮.৩৮ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৭৭.৯ শতাংশ এবং ২০২০ সালে ৫৪.৬০ শতাংশ — প্রতিটি বছরই বরাক উপত্যকায় হাইলাকান্দি এক নম্বরে ছিল। Barak Bulletin, Sentinel Assam ও Just Hailakandi-এ প্রকাশিত বার্ষিক পরিসংখ্যান এই চিত্র নিশ্চিত করে।
লালা টাউন ও আশপাশের বিদ্যালয়গুলো — যেমন লালা এমএ জুনিয়র কলেজ, লালা হাইস্কুল এবং কাটলিছড়া অঞ্চলের স্কুলগুলো — হাইলাকান্দির এই সামগ্রিক ভালো ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এমনকি এবার লালা এমএ জুনিয়র কলেজ থেকে একজন ছাত্র গণিতে ১০০-তে ১০০ নম্বর পেয়ে জেলার সম্মান আরও বাড়িয়েছে। হাইলাকান্দির সীমিত পরিকাঠামো ও শিক্ষক-সংকটের মাঝেও এই ধারাবাহিক সাফল্য স্থানীয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অদম্য পরিশ্রমের প্রমাণ।
দিমা হাসাও শীর্ষে, কাছাড়ের সমস্যা কোথায়?
রাজ্যের জেলাওয়ারি তালিকায় দিমা হাসাও এবার সর্বোচ্চ ৮৮.২৩ শতাংশ পাশের হার নিয়ে শীর্ষে — এটি শিক্ষামহলে একটি বিস্ময়কর ও অনুপ্রেরণামূলক ঘটনা। এই পার্বত্য জেলার শিক্ষার্থীরা যেখানে রাজ্যের সেরা ফলাফল দেখাচ্ছে, সেখানে কাছাড়ের মতো তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এবং বড় শহর শিলচর অধ্যুষিত জেলাটি কেন এত পিছিয়ে — সেই প্রশ্নটি এখন অনেকের মুখে।
Fastresult.in-এর তালিকায় ২০২৬ সালে কাছাড়ের পর দ্বিতীয় সর্বনিম্ন পাশের হারের জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে ধুবড়ি ও গোয়ালপাড়ার মতো সীমান্তবর্তী জেলা। ২০২৫ সালে শ্রীভূমি ছিল রাজ্যে সর্বনিম্নে (৪৭.৯৬%), কাছাড় ছিল পঞ্চম নিচে (৫১.৫৮%)। এবার ২০২৬-এ কাছাড় সরাসরি তলানিতে। এই অবনতি নিয়ে শিক্ষা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের তাৎক্ষণিক পর্যালোচনা জরুরি বলে শিক্ষাবিদরা মনে করছেন।
কাছাড়ের দুর্বল ফলাফলের পেছনে বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করা যায়। প্রথমত, শিলচর শহরকেন্দ্রিক মনোযোগের কারণে গ্রামীণ ও চা বাগান এলাকার বিদ্যালয়গুলো প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে। দ্বিতীয়ত, বন্যা ও দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চল হওয়ায় শিক্ষার ধারাবাহিকতা বিঘ্নিত হয়। তৃতীয়ত, শিক্ষক শূন্যপদ পূরণে দীর্ঘসূত্রিতা। এই কারণগুলো একত্রিত হয়ে কাছাড়ের ফলাফলকে বছরের পর বছর নিচে টেনে রাখছে।
রাজ্যের সামগ্রিক চিত্র ও ঐতিহাসিক তুলনা
SEBA-র ২০২৬ সালের মোট পাশের হার ৬৫.৬২ শতাংশ — ২০২৫-এর ৬৩.৯৮ শতাংশের তুলনায় ১.৬৪ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। মোট ৪,২৯,২৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২,৮১,৭০১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। Fastresult.in-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে এবার প্রথম হয়েছেন জ্যোতির্ময় দাস — সংকরদেব শিশু নিকেতন, পাটাচার্কুচির ছাত্র। শীর্ষ ১০ জেলার মধ্যে দিমা হাসাওয়ের পর রয়েছে শিবসাগর (৮৪.০৮%) এবং কামরূপ মেট্রোপলিটন (৭৬.২০%)।
এই তুলনায় বরাক উপত্যকার তিনটি জেলাই রাজ্যের গড়ের নিচে — যা দীর্ঘদিনের একটি পরিচিত সমস্যা। তবে হাইলাকান্দির ধারাবাহিক উন্নতি এই অন্ধকারের মধ্যে একটি আলোর রেখা।
সামনের পথ: কাছাড়ের জন্য জরুরি পদক্ষেপ
বরাক উপত্যকা HSLC 2026 জেলাওয়ারি ফলাফলের এই চিত্র রাজ্য সরকার ও জেলা শিক্ষা প্রশাসনের সামনে একটি স্পষ্ট বার্তা রেখে গেল। কাছাড়ে রাজ্যের সর্বনিম্ন পাশের হার একটি জরুরি সতর্কসংকেত। বিদ্যমান শিক্ষক শূন্যপদ পূরণ, গ্রামীণ বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন, অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য কম্পার্টমেন্টাল পরীক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং বিশেষ সংশোধনমূলক কার্যক্রম চালু করা — এই পদক্ষেপগুলো না নিলে কাছাড়ের ফলাফল আগামী বছরেও তলানিতে থাকবে। হাইলাকান্দির মডেল অনুসরণ করে কাছাড় যদি তার গ্রামীণ বিদ্যালয়গুলোতে বিনিয়োগ বাড়ায়, তাহলে পরিবর্তন সম্ভব — এই বিশ্বাস শিক্ষাবিদদের।