Read today's news --> ⚡️Click here 

মিলন দাস হিমন্ত সাক্ষাৎ — জয়ের পরেই দিসপুরে CM-এর কাছে হাইলাকান্দি উন্নয়নের অঙ্গীকার

হাইলাকান্দি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ঐতিহাসিক জয়ের পর নবনির্বাচিত BJP বিধায়ক ডক্টর মিলন দাস দিসপুরে মুখ্যমন্ত্রী ডক্টর হিমন্ত বিশ্বশর্মার আধিকারিক বাসভবনে সাক্ষাৎ করলেন। মিলন দাস হিমন্ত সাক্ষাৎ-এর এই মুহূর্তটি শুধু একটি সৌজন্যমূলক পরিদর্শন নয় — বরং হাইলাকান্দির উন্নয়নে নতুন অধ্যায়ের সূচনার বার্তাও বহন করছে। ডক্টর মিলন দাস তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানিয়েছেন, NDA জোটের অভূতপূর্ব সাফল্যের প্রেক্ষাপটে CM-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং আগামী পাঁচ বছর হাইলাকান্দির সর্বাঙ্গীণ উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

CM-এর বাসভবনে সাক্ষাৎ — অভিনন্দন অঙ্গীকার

মিলন দাস হিমন্ত সাক্ষাৎকালে হাইলাকান্দির নবনির্বাচিত বিধায়ক স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে বিগত পাঁচ বছরে মুখ্যমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্ব, নিরলস পরিশ্রম এবং জনমুখী উন্নয়নমূলক কাজ সমগ্র অসম জুড়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের যে ধারা সৃষ্টি করেছে, ২০২৬ সালের নির্বাচনের ফলাফল তারই সুস্পষ্ট প্রতিফলন। তাঁর ভাষায়, “মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মহোদয়ের জনকল্যাণমূলক নীতি ও আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে অসম বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এ হাইলাকান্দি বিধানসভা সমষ্টির সম্মানিত জনগণ আমাকে তাঁদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেছেন — তার জন্য আমি সকলের কাছে গভীরভাবে কৃতজ্ঞ ও গর্বিত।” এই বৈঠকে BJP অসম প্রদেশ, BJYM অসম, দিলীপ শইকিয়া ও রাকেশ দাস-সহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য,  অনুযায়ী এই নির্বাচনে ডক্টর মিলন দাস হাইলাকান্দি কেন্দ্রে মোট ১,১৯,৫৯১ ভোট পেয়ে কংগ্রেসের রাহুল রয়কে ৫৫,৮১৭ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। এই রেকর্ড জয়ের পর CM-এর কাছে সরাসরি যাওয়াটি রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ — এটি ইঙ্গিত দেয় যে হাইলাকান্দির নতুন বিধায়ক শাসনকাজে সরাসরি সম্পর্ক ও যোগাযোগকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

পাঁচ বছরের পরাজয়ের পর — উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির ভার

মিলন দাস হিমন্ত সাক্ষাৎ-এর এই পদক্ষেপটিকে বুঝতে হলে পাঁচ বছর আগের প্রেক্ষাপটটি স্মরণে রাখা জরুরি। ২০২১ সালে একই হাইলাকান্দি কেন্দ্রে তিনি AIUDF প্রার্থীর কাছে ২৩,৭৫৪ ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন। সেই পরাজয়ের পরও তিনি এলাকা ছাড়েননি। অসম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের প্রাক্তন সভাপতি ও তরুণ রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত মিলন দাস পাঁচ বছর ধরে মাঠে থেকে কাজ করে গেছেন। সেই অধ্যবসায়ের ফল এসেছে এই রেকর্ড জয়ের মাধ্যমে।

এখন CM-এর সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন — “আগামী পাঁচ বছর মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মহাশয়ের দিকনির্দেশনা ও আশীর্বাদকে পাথেয় করে হাইলাকান্দির সর্বাঙ্গীণ উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে সর্বদা নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাব” — সেই প্রতিশ্রুতির বোঝা এখন তাঁর কাঁধে। হাইলাকান্দি জেলায় সড়ক পরিকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থান — এই চারটি ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ঘাটতি রয়েছে এবং নতুন বিধায়ক সেই ঘাটতি পূরণে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেন, তাই এখন প্রশ্নের কেন্দ্রে।

লালা শহর হাইলাকান্দি — নতুন বিধায়কের কাছে প্রত্যাশার তালিকা

লালা শহর হাইলাকান্দি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত — তাই মিলন দাস হিমন্ত সাক্ষাৎ-এর এই ঘটনাটি লালাবাজার ডটকমের পাঠকদের কাছে সরাসরি প্রাসঙ্গিক। লালা ও আশপাশের এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি রয়েছে উন্নত সড়ক সংযোগ, বিশেষত শিলচর মেডিকেল কলেজে যাওয়ার রাস্তার উন্নয়ন, স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর (PHC) আধুনিকীকরণ, এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়নে প্রশাসনিক সহায়তা।

NDA-র অসম বিজয় সম্পর্কে  BJP-নেতৃত্বাধীন জোট ১২৬ আসনের মধ্যে ১০২টি পেয়েছে। এত বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নতুন সরকার গঠিত হচ্ছে — এবং শপথ গ্রহণ আসন্ন। এই পরিস্থিতিতে হাইলাকান্দির মতো একটি জেলা, যেখানে BJP এই প্রথম এত বড় জয় পেয়েছে, সেখানে উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা আগের তুলনায় অনেক বেশি।

নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর বিধানসভার প্রথম অধিবেশন থেকেই বোঝা যাবে ডক্টর মিলন দাস হাইলাকান্দির কণ্ঠস্বর হিসেবে কতটা সরব ভূমিকা নেন। ১,১৯,৫৯১ জন ভোটারের বিশ্বাস ও ৫৫,৮১৭ ভোটের ব্যবধানে জেতা একটি আসন — এই দায়িত্ব কম নয়। CM হিমন্তের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ স্থাপনের এই পদক্ষেপ যদি আগামী দিনে হাইলাকান্দির জন্য বাস্তব সুফল বয়ে আনে, তাহলেই সেই প্রতিশ্রুতি সার্থক হবে — আর সেই হিসাবটা রাখছেন লালা থেকে শুরু করে গোটা হাইলাকান্দির সাধারণ মানুষ।

মিলন দাস হিমন্ত সাক্ষাৎ — জয়ের পরেই দিসপুরে CM-এর কাছে হাইলাকান্দি উন্নয়নের অঙ্গীকার
Scroll to top