Read today's news --> ⚡️Click here 

শিলচর রামনগর অস্ত্র গ্রেনেড উদ্ধার — ভাড়াবাড়ি থেকে পিস্তলসহ মণিপুরের দুজন আটক

৬ মে ২০২৬ তারিখে শিলচরের রামনগর এলাকায় একটি ভাড়াবাড়িতে কাছাড় পুলিশের তল্লাশি অভিযানে উদ্ধার হয়েছে একটি ইতালি-নির্মিত ৯mm পিস্তল, একটি চাইনিজ-টাইপ হ্যান্ড গ্রেনেড এবং পাঁচটি জ্যান্ত কার্তুজ। শিলচর রামনগর অস্ত্র গ্রেনেড উদ্ধারের এই অভিযানে মণিপুরের চুরাচাঁদপুরের বাসিন্দা লাইশ্রাম তিকেই মেইতেই ও মোনালিসা চানু নামে দুজনকে আটক করা হয়েছে। বিকাল ৪.৩০টায় FCI রোডের ওই ভাড়াবাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ — এবং অস্ত্র উদ্ধারের পরপরই Assam Rifles-এর বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বরাক উপত্যকায় এই ঘটনা ব্যাপক নিরাপত্তা-উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ভাড়াটে পরিচয়ে থাকা — তল্লাশিতে বেরিয়ে এল অস্ত্রের ভাণ্ডার

আটক দুজন রামনগরের স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে নিজেদের ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভাড়াটে হিসেবে বসবাস করছিলেন। কিন্তু পুলিশের তল্লাশিতে বেরিয়ে আসে অন্য চিত্র। শুধু পিস্তল ও গ্রেনেডই নয়, পুলিশ একাধিক পরিচয়পত্র, সন্দেহজনক নথিপত্র এবং বেশ কয়েকটি মোবাইল হ্যান্ডসেটও জব্দ করেছে। এই নথিগুলো এখন তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে।

এই অভিযানটি চালানো হয়েছে লাখিপুর থানার মামলা নম্বর ৬৪/২০২৬-এর সূত্র ধরে — যেটি ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩০৮(৪) ধারা ও Arms Act-এর ২৫(১)(a) ধারায় নথিভুক্ত। অর্থাৎ এই অভিযানটি হঠাৎ করে হয়নি — পূর্বনিবন্ধিত মামলার সরাসরি অনুসন্ধান হিসেবেই পুলিশ এই বাড়িতে পৌঁছায়। গ্রেনেড পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে Assam Rifles-এর বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড ডেকে পাঠানো হয় এবং তারা গ্রেনেডটি সুরক্ষিত করেছেন। পরে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে সেটি বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে।

মণিপুরের জাতিগত সংঘাত — শিলচরে অস্ত্র আসার কারণ?

শিলচর রামনগর অস্ত্র গ্রেনেড উদ্ধারের ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হলো আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও তাদের বক্তব্য। আটক পুরুষ লাইশ্রাম তিকেই মেইতেই জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন যে মণিপুরে চলমান জাতিগত সংঘাতের কারণে চুরাচাঁদপুর থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে তিনি শিলচরে আসেন এবং “নিরাপত্তার কারণে” পিস্তল ও গ্রেনেড সঙ্গে রেখেছিলেন। তিনি আরও স্বীকার করেন যে অস্ত্রটির কোনো বৈধ লাইসেন্স তার কাছে নেই।

পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক নিশ্চিত করেনি — তবে একাধিক পরিচয়পত্র ও সন্দেহজনক নথির উপস্থিতি এই বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্থানীয়রাও আটক ব্যক্তিদের সম্ভাব্য অপরাধমূলক যোগাযোগ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছে। মণিপুরে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাতে অস্ত্রের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে — NDTV-র একটি পুরনো প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে যে চুরাচাঁদপুরসহ মণিপুরের বিভিন্ন জেলায় পরিচালিত নিরাপত্তা অভিযানে বিভিন্ন নিষিদ্ধ সংগঠনের কাছ থেকে গ্রেনেড, পিস্তলসহ বিপুল অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার হয়েছে।

বরাক উপত্যকায় বাড়তি নিরাপত্তা উদ্বেগ — হাইলাকান্দি সতর্ক?

শিলচর রামনগর অস্ত্র গ্রেনেড উদ্ধারের ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয় — বরাক উপত্যকায় অবৈধ অস্ত্রের অনুপ্রবেশের একটি ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের অংশ এটি। গত এপ্রিল ২০২৬ কাছাড় জেলার বাসকান্দি এলাকায় Assam Rifles, কাছাড় পুলিশ ও ফিল্ড ইন্টেলিজেন্সের যৌথ অভিযানে একটি নারকো-অস্ত্র মডিউল ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং একটি ফ্যাক্টরি-মেড পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। অর্থাৎ মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে একই জেলায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা বরাক উপত্যকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

হাইলাকান্দি ও লালা শহরের মানুষের কাছে এই ঘটনার প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। শিলচর বরাক উপত্যকার কেন্দ্রীয় শহর — এবং হাইলাকান্দি থেকে মণিপুর সীমানায় যাওয়ার পথে শিলচর একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট। মণিপুর থেকে আসা বাস্তুচ্যুত মানুষজনের একটি অংশ বরাক উপত্যকার বিভিন্ন শহরে ভাড়া থাকছেন — এবং তাদের মধ্যে অস্ত্রবাহকদের অনুপ্রবেশ রোধ করা নিরাপত্তা বাহিনীর সামনে একটি চলমান চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

তদন্তকারীরা উদ্ধার হওয়া নথিগুলো বিশ্লেষণ করছেন এবং আটক দুজনকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ নিশ্চিত করেনি — তবে মামলার তদন্ত চলছে বলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার আওতায় নথিভুক্ত মামলায় পরবর্তী পদক্ষেপ আদালতে স্পষ্ট হবে। বরাক উপত্যকায় অবৈধ অস্ত্র প্রবেশের এই প্রবণতা রোধে কাছাড় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর নিরন্তর সতর্কতা প্রয়োজন — এবং স্থানীয় মানুষেরও সচেতনতা জরুরি।

শিলচর রামনগর অস্ত্র গ্রেনেড উদ্ধার — ভাড়াবাড়ি থেকে পিস্তলসহ মণিপুরের দুজন আটক
Scroll to top