
অসমে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার ময়দানে এবার ঝড় তুললেন প্রধানমন্ত্রী তথা বিজেপির শীর্ষ নেতা নরেন্দ্র মোদী। বুধবার রাজ্যের গোগামুখ (Gogamukh) এবং বিশ্বনাথ (Biswanath)-এ দুটি মেগা নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখেন তিনি। এই জোড়া সভা থেকে একদিকে যেমন তিনি ‘আত্মনির্ভর অসম’ গড়ার ডাক দিয়েছেন, তেমনই অন্যদিকে অবৈধ অনুপ্রবেশ ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিরোধী দল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ।
গোগামুখের প্রথম জনসভায় প্রধানমন্ত্রী মোদী রাজ্যের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক উন্নয়নের ওপর জোর দেন। তিনি জানান, গত দশ বছরে এনডিএ (NDA) সরকারের শাসনে অসমে অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে এবং ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের প্রচেষ্টায় রাজ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফিরে এসেছে । এর ফলে যুবসমাজ আজ হিংসার পথ ছেড়ে এক সুরক্ষিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি । অসমের বিশ্বজোড়া পরিচয়ের কথা উল্লেখ করে মোদী বলেন, এতদিন এই রাজ্য চায়ের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত ছিল; কিন্তু মরিগাঁওতে (Morigaon) তৈরি হতে চলা নতুন কারখানার হাত ধরে খুব শীঘ্রই অসম সেমিকন্ডাক্টর চিপ (semiconductor chips) উৎপাদনের জন্যও আন্তর্জাতিক স্তরে খ্যাতি অর্জন করবে । পাশাপাশি তিনি এও স্পষ্ট করেন যে, গরিব এবং মধ্যবিত্তের সার্বিক কল্যাণই বিজেপির কাছে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পায় এবং সেই কারণেই পরিকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে অবিরাম কাজ করে চলেছে তাঁর দল ।
আগের দিন প্রকাশিত দলের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী জানান, পরিকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষার প্রসারে বিপুল বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি । রাজ্যের উপজাতি সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষার্থে অসমে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি (UCC) কার্যকর করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি । এরপর বিশ্বনাথের দ্বিতীয় জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ‘আত্মনির্ভর অসম’ (Atmanirbhar Assam) গড়ার নিজস্ব রূপরেখা তুলে ধরেন মোদী। রাজ্যের দীর্ঘদিনের বন্যা এবং নদীভাঙন সমস্যা মোকাবিলায় ১৮,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ের বড়সড় প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি ।
বক্তৃতার শেষ লগ্নে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, বিগত বছরগুলিতে কংগ্রেসের আমলেই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা ভূমিপুত্রদের জমিতে অবাধে বসতি স্থাপনের সুযোগ পেয়েছে । সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে মোদী জানান, তাঁর সরকার অসমকে অবৈধ অনুপ্রবেশের হাত থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করতে এবং রাজ্যের প্রকৃত আদিবাসীদের জমির অধিকার সুরক্ষিত করতে বদ্ধপরিকর ।