Read today's news --> ⚡️Click here 

পশ্চিম এশিয়া সংকট দশকের সবচেয়ে বড় বিপদ — আমদানি কমাতে দেশবাসীর কাছে মোদির আবেদন

পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধকে “দশকের সবচেয়ে বড় সংকটগুলির একটি” বলে চিহ্নিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গুজরাটের বড়োদরায় সর্দারধাম হোস্টেলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি দেশবাসীর কাছে আমদানি পণ্য ও বিদেশি মুদ্রার ব্যয় যতটা সম্ভব কমানোর আহ্বান জানান। মোদি স্পষ্টভাবে বলেন — “কোভিড মহামারি যদি এই শতাব্দীর সবচেয়ে বড় সংকট হয়, তাহলে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের তৈরি করা পরিস্থিতি এই দশকের অন্যতম বড় সংকট।”

পশ্চিম এশিয়া সংকট — ভারতের উপর আঘাত কোথায় কোথায়

ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে ভারতের সামনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ এসে দাঁড়িয়েছে। সংসদে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান যে এই যুদ্ধ ভারতের জন্য “অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক, জাতীয় নিরাপত্তা ও মানবিক চাপ” তৈরি করেছে। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় পণ্য পরিবহন বিপর্যস্ত হয়েছে। ভারতের মোট অপরিশোধিত তেলের বড় অংশ আসে এই অঞ্চল থেকে — ফলে পেট্রোল, ডিজেল, রান্নার গ্যাস ও সার আমদানিতে প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে।

সংকট শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ভারত উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে ৩ লক্ষ ৭৫ হাজারেরও বেশি ভারতীয় নাগরিককে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে — এর মধ্যে ইরান থেকে ফেরানো হয়েছে ১ হাজারেরও বেশি নাগরিককে। মোদি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে প্রায় ১ কোটি ভারতীয় উপসাগরীয় অঞ্চলে বসবাস ও কাজ করেন — তাঁদের জীবন ও জীবিকা রক্ষা করা ভারত সরকারের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

আমদানি কমানো বিদেশি মুদ্রা সাশ্রয়ের আহ্বান

পশ্চিম এশিয়া সংকটের মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী মোদি দেশবাসীকে কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করেছেন। তিনি পেট্রোল, ডিজেল, ভোজ্যতেল ও অন্যান্য আমদানিনির্ভর পণ্যের ব্যবহার যতটা সম্ভব কমাতে বলেছেন — যতদিন না পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। মোদি সোনা কেনা এবং অপ্রয়োজনীয় বিদেশি মুদ্রা ব্যয় সাময়িকভাবে এড়ানোরও আহ্বান জানিয়েছেন। কোভিড মহামারির সময় ভারতের মানুষ যেভাবে সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই একই মনোভাব নিয়ে এবারও একজোট হওয়ার কথা বলেছেন তিনি। তাঁর সরাসরি বক্তব্য: “পশ্চিম এশিয়া সংকট এই দশকের সবচেয়ে গুরুতর সংকটগুলির একটি — কোভিড যেভাবে পেরিয়েছি, এও পেরোব।”

ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান ও BRICS-চাপ

ভারত এই সংকটে সরাসরি কোনো পক্ষ না নিয়ে কূটনৈতিক নিরপেক্ষতার পথে চলছে — একইসঙ্গে সমস্ত পক্ষকে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাচ্ছে। মোদি জানিয়েছেন, তিনি পশ্চিম এশিয়ার সমস্ত সংশ্লিষ্ট দেশের নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছেন এবং উত্তেজনা কমানোর অনুরোধ করেছেন। ভারত এই সপ্তাহে BRICS বিদেশমন্ত্রী সম্মেলনের আয়োজক — তবে ইরান ও UAE-র বিবাদের কারণে যৌথ বিবৃতি গ্রহণ কঠিন হয়ে পড়েছে। UAE জানিয়েছে, তারা এ পর্যন্ত ইরানের ২,২৬৫টি ড্রোন ও ৫৫১টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। ৪ মে ফুজাইরাহ-তে ইরানি হামলায় তিনজন ভারতীয় আহত হলে ভারত UAE-র পাশে দাঁড়িয়ে বেসামরিক নাগরিকদের উপর হামলার নিন্দা করেছে।

আসাম বরাক উপত্যকায় প্রভাব — লালা থেকে দেখলে কী?

পশ্চিম এশিয়া সংকট কেবল দিল্লির কূটনীতিকদের বিষয় নয় — এর ছায়া পড়েছে হাইলাকান্দি জেলা ও লালা শহরের মানুষের জীবনেও। উপসাগরীয় দেশগুলিতে বিপুলসংখ্যক আসামি ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রবাসী শ্রমিক ও পেশাদার কর্মরত। হাইলাকান্দি জেলা থেকেও অনেক পরিবারের সন্তান সৌদি আরব, UAE, কুয়েত ও কাতারে কাজ করেন — যাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্স অনেক পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস। যুদ্ধের ফলে তাঁদের কর্মক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা বাড়লে সেই পরিবারগুলির আর্থিক নিরাপত্তা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর বাইরে, পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়লে কৃষি উপকরণ, পরিবহন খরচ ও ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ে — যা সরাসরি প্রভাব ফেলে লালা বাজারের মতো ছোট শহরের দৈনন্দিন অর্থনীতিতে।

পশ্চিম এশিয়ার এই সংকট কতদিন স্থায়ী হবে তা এখনও অনিশ্চিত। তবে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা স্পষ্ট — দেশের প্রতিটি নাগরিককে এই সংকটে সচেতন ও সংযমী ভূমিকা রাখতে হবে। ভারত সরকার একদিকে কূটনৈতিক পথে শান্তির প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, অন্যদিকে দেশের শক্তি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বিকল্প উৎস খোঁজায় মনোযোগী হচ্ছে। ভারতের কাছে ৫৩ লক্ষ মেট্রিক টন কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত রয়েছে এবং সরকার ৪১টি দেশ থেকে জ্বালানি বৈচিত্র্যায়নে কাজ করছে — এটি কিছুটা আশার আলো হলেও দীর্ঘমেয়াদি সংকটে তা যথেষ্ট কিনা, সেই প্রশ্নের উত্তর আসতে পারে আগামী দিনগুলিতে।

পশ্চিম এশিয়া সংকট দশকের সবচেয়ে বড় বিপদ — আমদানি কমাতে দেশবাসীর কাছে মোদির আবেদন
Scroll to top