১২ মে শপথগ্রহণের মাত্র দুদিন আগে আসামের মুখ্যমন্ত্রী-নির্বাচিত ড° হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, আসাম নতুন মন্ত্রিসভায় ১৮ থেকে ১৯ জন মন্ত্রী থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি একইসঙ্গে প্রথম দফায় চারজন মন্ত্রীর নাম এবং নতুন বিধানসভার স্পিকারের নামও ঘোষণা করেছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় শর্মা স্পষ্ট করেন যে চূড়ান্ত মন্ত্রিসভার তালিকা BJP-র জাতীয় সভাপতি JP নাড্ডার সঙ্গে আলোচনার পরেই চূড়ান্ত হবে।
প্রথম দফায় ঘোষিত চার মন্ত্রী ও নতুন স্পিকার
শর্মা প্রথম দফায় চারজনের নাম নিশ্চিত করেছেন — রামেশ্বর তেলি, অতুল বরা, চরণ বরো এবং অজন্তা নেওগ। এর মধ্যে চরণ বরো বোড়োল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট (BPF)-এর নেতা এবং বোড়ো সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করেন। অতুল বরা আসম গণ পরিষদ (AGP)-এর বিধায়ক। অজন্তা নেওগ গোলাঘাট কেন্দ্রের বিধায়ক এবং প্রথম সরকারে অর্থ দফতর ও মহিলা ও শিশু উন্নয়ন দফতর পরিচালনা করেছিলেন। এছাড়া বিধানসভার স্পিকার হিসেবে রঞ্জিত কুমার দাসের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তবে শর্মা জানিয়েছেন, বাকি মন্ত্রীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত হবে JP নাড্ডার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে।
শর্মার সরাসরি বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে: “এখন পর্যন্ত মন্ত্রীদের কোনো চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হয়নি। আজ রাতে জাতীয় সভাপতি JP নাড্ডার সঙ্গে আলোচনার পরেই নাম চূড়ান্ত করব। ১৮-১৯ জন মন্ত্রী থাকতে পারেন, তবে নতুন মুখ নাকি অভিজ্ঞদের রাখব — সেই সিদ্ধান্তও তাঁর পরামর্শেই নেওয়া হবে।”
আসাম নতুন মন্ত্রিসভায় জোট অংশীদারদের আসনবণ্টন
আসামের ১২৬ আসনের বিধানসভায় সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী সর্বাধিক ১৯ জন মন্ত্রী থাকতে পারেন — মুখ্যমন্ত্রীসহ। তার মানে শর্মা সর্বোচ্চ ১৮ জন মন্ত্রী নিতে পারবেন NDA-র ১০২ জন বিধায়কের মধ্য থেকে। BJP নিজে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও জোট অংশীদার AGP ও BPF-এর সঙ্গে পূর্বের সম্পর্ক বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী AGP ও BPF — প্রতিটি দলকে দুটি করে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হবে বলে সূত্রের খবর। বাকি আসনগুলি BJP-র কোটা থেকে পূরণ হবে।
এই জোট ব্যবস্থায় অঞ্চলভিত্তিক প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বরাক উপত্যকা, বোড়োল্যান্ড, চা বাগান অঞ্চল এবং উচ্চ আসামের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব মন্ত্রিসভায় নিশ্চিত করা হিমন্ত শর্মার কাছে একটি রাজনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত।
বরাক উপত্যকার প্রতিনিধিত্ব ও হাইলাকান্দির প্রত্যাশা
আসাম নতুন মন্ত্রিসভায় বরাক উপত্যকার প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি হাইলাকান্দি, কাছাড় ও করিমগঞ্জের মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত মন্ত্রিসভায় বরাক উপত্যকার দোলাই বিধানসভার বিধায়ক পরিমল শুক্লবৈদ্য পরিবহন ও মৎস্য দফতরের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। নতুন মন্ত্রিসভায় বরাক উপত্যকা থেকে কে এবং কোন দফতর পাবেন — সেই প্রশ্নটি এই অঞ্চলের রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে। লালা শহর ও হাইলাকান্দির মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি — জেলার পরিকাঠামো উন্নয়ন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, PHC ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান — নতুন মন্ত্রিসভার কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব থাকা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
আসামের সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পছন্দমতো মন্ত্রিসভা গড়তে পারেন — তবে জোট রাজনীতিতে সমঝোতার গুরুত্ব অনেক বেশি। BJP-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার পর চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হওয়ার কথা ছিল ১১ মে রাতের মধ্যে। আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব, সম্প্রদায়গত ভারসাম্য, নতুন মুখ বনাম অভিজ্ঞ মন্ত্রীদের মধ্যে সংখ্যা নির্ধারণ এবং দফতর বণ্টন — এই সব বিষয়ে সমীকরণ মেলানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
১২ মে শপথগ্রহণের পর নতুন মন্ত্রিসভার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে এবং দফতর বণ্টনের মাধ্যমে বোঝা যাবে কোন অঞ্চল ও সম্প্রদায়কে কতটা অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বরাক উপত্যকার মানুষ, বিশেষত হাইলাকান্দি ও লালা অঞ্চলের নাগরিকরা, নজর রাখছেন তাদের দীর্ঘদিনের উন্নয়নের দাবি নতুন মন্ত্রিসভায় কতটা প্রতিফলিত হয় সেদিকে।