Read today's news --> Click here

PM গতিশক্তি রেলওয়ে সম্প্রসারণে ১০০ প্রকল্প অনুমোদ, আসামে ১,৪০০ কিমি বিদ্যুতায়ন ও নতুন লাইন

PM গতিশক্তি ন্যাশনাল মাস্টার প্ল্যানের আওতায় ভারতীয় রেলমন্ত্রক ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ১০০টি রেল পরিকাঠামো প্রকল্প অনুমোদ করেছে, যাতে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১.৫৩ লক্ষ কোটি টাকা। ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে রেলমন্ত্রক জানায়, এই প্রকল্পগুলোর অধীনে দেশজুড়ে ৬,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি রেলপথ সম্প্রসারিত হবে। পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারতে, বিশেষত আসামে, PM গতিশক্তি রেলওয়ে সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ১,৪০০ কিলোমিটারের বেশি রেললাইন বিদ্যুতায়ন এবং ফুরকাটিং-তিনসুকিয়া ডাবল লাইন প্রকল্পসহ একাধিক উন্নয়ন কাজের সূচনা হয়েছে।

১.৫৩ লক্ষ কোটি বিনিয়োগ: কত বড় এই অনুমোদন

রেলমন্ত্রক জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অনুমোদিত প্রকল্পের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৫৬ শতাংশ বেশি এবং রুট কভারেজ বেড়েছে ১১৪ শতাংশ। সামগ্রিক আর্থিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির হার ১১০ শতাংশের বেশি। তুলনা করলে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মাত্র ৬৪টি প্রকল্পে প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল এবং সেখানে রেলপথ সম্প্রসারণ ছিল ২,৮০০ কিলোমিটারের কিছু বেশি। অর্থাৎ এক বছরেই এই পরিকল্পনা দ্বিগুণেরও বেশি আকারে প্রসারিত হয়েছে।

ANI-র বরাতে রেলমন্ত্রক বলেছে, “এই ১০০টি প্রকল্পে মোট ১.৫৩ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ সম্পন্ন হবে, যা ৬,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি রেলপথ নেটওয়ার্কজুড়ে বিস্তৃত। ভারতীয় রেলের ইতিহাসে এটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।” প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে নতুন লাইন নির্মাণ, ডাবলিং, মাল্টিট্র্যাকিং এবং অন্যান্য পরিকাঠামো উন্নয়ন। মহারাষ্ট্র, বিহার, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশসহ দেশের প্রায় সব প্রধান রাজ্যে এই প্রকল্পগুলো ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে — যাতে সুষম উন্নয়নের নীতি অনুসরণ করা হয়।

PM Gati Shakti National Master Plan মূলত ২০২১ সালের অক্টোবরে চালু হয়েছিল। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো রেল, সড়ক, বন্দর, বিমানপথ এবং অন্যান্য পরিবহন মাধ্যমকে একটি সমন্বিত কাঠামোয় এনে দেশের সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা। ২০২২-২৩ থেকে ২০২৫-২৬ পর্যন্ত চার অর্থবছরে এই পরিকল্পনার অধীনে মোট ৩০০টি প্রকল্প এবং ৯৮২টি সমীক্ষা অনুমোদিত হয়েছে, যার মোট দৈর্ঘ্য ১৩,৮০৮ কিলোমিটার।

আসাম উত্তর-পূর্বে রেলের নতুন অধ্যায়

PM গতিশক্তি রেলওয়ে সম্প্রসারণের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিকটি উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্য। মার্চ ২০২৬-এ প্রধানমন্ত্রীর আসাম সফরের সময় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ১৯৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ফুরকাটিং-তিনসুকিয়া রেলপথ ডাবলিং প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর। এই করিডোরটি উত্তর আসামের একটি গুরুত্বপূর্ণ রেল ধমনী — বর্তমানে একমুখী লাইন হওয়ায় ট্রেনের ভিড় এবং দেরির সমস্যা নিত্যদিনের। ডাবলিং হলে একসঙ্গে বেশি সংখ্যক যাত্রী ও মালবাহী ট্রেন চালানো সম্ভব হবে।

বিদ্যুতায়নের ক্ষেত্রে তিনটি বড় করিডোর একই সঙ্গে জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়েছে — রাঙিয়া-মুরকংসেলেক লাইন (৫৫৮ কিমি), চাপরমুখ-ডিব্রুগড় লাইন (৫৭১ কিমি) এবং বদরপুর-শিলচর ও বদরপুর-চুড়াইবাড়ি লাইন (৩১৫ কিমি)। এই তিনটি মিলিয়ে আসামে একবারে ১,৪০০ কিলোমিটারের বেশি রেলপথ বিদ্যুতায়িত হচ্ছে — যা ডিজেল ইঞ্জিনের উপর নির্ভরতা কমাবে, পরিচালন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং ট্রেনের গতি ও সময়মতো চলাচল নিশ্চিত হবে।

এছাড়া যাত্রীসুবিধার ক্ষেত্রে অমৃত ভারত স্টেশন স্কিমের আওতায় আসাম ও উত্তর-পূর্বের ৬০টি স্টেশন পুনরায় উন্নত করা হচ্ছে, মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২,১০১ কোটি টাকা। হাইবারগাঁও স্টেশন ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তিনটি নতুন ট্রেন সার্ভিসও চালু হয়েছে, যা উত্তর-পূর্বের সঙ্গে দক্ষিণ ভারত, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার যোগাযোগ উন্নত করবে।

বরাক উপত্যকা হাইলাকান্দির প্রাসঙ্গিকতা

বদরপুর-শিলচর রেললাইনের বিদ্যুতায়ন সরাসরি বরাক উপত্যকার যাত্রীদের জন্য একটি সুখবর। বদরপুর জংশন থেকে শিলচর পর্যন্ত এই লাইনটি হাইলাকান্দি জেলার সঙ্গে দেশের বাকি অংশের সংযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। বিদ্যুতায়ন হলে এই রুটে দ্রুতগতির ট্রেন চালানো সহজ হবে এবং ভ্রমণের সময় কমবে। লালা টাউন সহ হাইলাকান্দি জেলার অনেক বাসিন্দা শিলচর বা বদরপুর হয়ে দেশের অন্যত্র যাতায়াত করেন — রেল সংযোগ উন্নত হলে তাঁদের যাত্রা হবে আরও দ্রুত ও সাশ্রয়ী।

উত্তর-পূর্ব রেল সংযোগ প্রকল্পের Wikipedia-র তথ্য অনুযায়ী, এই অঞ্চলে বর্তমানে ৬,৮২৯ কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে এবং সর্বাধিক রেলপথ রয়েছে আসামেই। ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত উত্তর-পূর্বে প্রায় ১,৯০০ কিলোমিটার নতুন রেললাইন নির্মিত হয়েছে এবং বার্ষিক রেল বাজেট বরাদ্দ ২০০৯-১৪ সালের ২,১২২ কোটি থেকে ২০২৬-২৭ সালে ১১,৪৮৬ কোটিতে উন্নীত হয়েছে — প্রায় পাঁচগুণ বৃদ্ধি। এই পরিসংখ্যান বলে দেয়, উত্তর-পূর্বের রেল অবকাঠামোতে কেন্দ্র সরকারের মনোযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

PM গতিশক্তি রেলওয়ে সম্প্রসারণ কেবল সংখ্যার গল্প নয় — এটি দেশের প্রান্তিক ও দূরবর্তী অঞ্চলগুলিকে মূল অর্থনৈতিক স্রোতের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। ১০০টি প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন হলে সারা দেশে রেল যোগাযোগ যেমন দ্রুততর হবে, তেমনই হাইলাকান্দির মতো প্রত্যন্ত জেলাগুলিও আরও সহজে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে। আগামী দিনে এই প্রকল্পগুলো কতটা দ্রুত জমি অধিগ্রহণ ও নির্মাণের বাধা অতিক্রম করে বাস্তবে রূপ নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।

PM গতিশক্তি রেলওয়ে সম্প্রসারণে ১০০ প্রকল্প অনুমোদ, আসামে ১,৪০০ কিমি বিদ্যুতায়ন ও নতুন লাইন
Scroll to top