Read today's news --> Click here

হিমন্ত মমতা অনুপ্রবেশকারী বিতর্কে উত্তাল রাজনীতি — পাল্টা টাকায় ভোট কেনার অভিযোগ মমতার

হিমন্ত মমতা অনুপ্রবেশকারী বিতর্ক এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে দুই রাজ্যের নির্বাচনী আবহকে পুরোপুরি উত্তপ্ত করে তুলেছে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি নিশানা করেছেন — অভিযোগ, মমতার পৃষ্ঠপোষকতায় অনুপ্রবেশকারীরা বাংলার মাটিতে আশ্রয় পাচ্ছে এবং তারা ভোট ব্যাংক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্যদিকে মমতা পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন যে BJP আসাম ও বাংলার নির্বাচনে অর্থ দিয়ে ভোট কিনতে চাইছে এবং বাইরে থেকে মানুষ আনছে। দুই রাজ্যের দুই শীর্ষ নেতার এই তীব্র বাগযুদ্ধ এমন সময়ে চলছে যখন আসামে ভোটগ্রহণ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের দুই দফা নির্বাচন।

হিমন্তর অভিযোগ: মমতা অনুপ্রবেশকারীদের ঢাল দিচ্ছেন

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা গুয়াহাটিতে সংবাদমাধ্যমের সামনে স্পষ্ট বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের TMC সরকার পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দিচ্ছে শুধুমাত্র ভোট ব্যাংক বজায় রাখার জন্য। হিমন্তর মতে, আসামে অনুপ্রবেশকারী ঠেকাতে তাঁর সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে — কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ থেকে সীমান্ত পেরিয়ে আসা মানুষদের সমস্যা দীর্ঘদিন ধরেই আসামের মাথাব্যথার কারণ। তিনি জানান, অনুপ্রবেশকারীরা যেন আসামের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে না পারে সেটি নিশ্চিত করা তাঁর সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও মার্চ মাসে আসামে প্রচারকালে এই ইস্যু সামনে এনেছিলেন — ঢাকিজুলি সমাবেশে তিনি বলেন, “অনুপ্রবেশকারীরা যারা এখানে রাখা হয়েছে তারা কি বাংলার ভবিষ্যৎ ঠিক করবে?” এবং প্রতিশ্রুতি দেন যে BJP শুধু ভোটার তালিকা নয়, সমগ্র দেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বের করে দেবে।

মমতার পাল্টা জবাব — টাকা বাইরের লোক

হিমন্ত মমতা অনুপ্রবেশকারী বিতর্কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মোটেই চুপ থাকেননি। উত্তর ২৪ পরগণার তেঁতুলিয়ায় নির্বাচনী জনসভায় মমতা সরাসরি দাবি করেন, BJP আসাম নির্বাচনে নিজস্ব ভোটারদের ভরসায় নেই বলেই উত্তরপ্রদেশ থেকে ৫০ হাজার মানুষ ট্রেনে করে আনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে কোনো সংস্থাই এখন নিরপেক্ষ নেই — BJP সবাইকে কিনে নিয়েছে।” PTI-এর বরাত দিয়ে The Print জানিয়েছে, মমতা অভিযোগ করেছেন যে তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরাতে একটি ১,০০০ কোটি টাকার চক্রান্ত করা হয়েছে।

Deccan Herald-এর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ওই ভাইরাল ভিডিওর প্রসঙ্গ — যেখানে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবিরকে কথিতভাবে বলতে শোনা যাচ্ছে যে তিনি BJP নেতাদের সাথে যোগাযোগে আছেন এবং সংখ্যালঘু ভোট ভাগ করতে ২০০ কোটি টাকা অগ্রিম নিয়েছেন এক হাজার কোটির চুক্তিতে। BJP এই ভিডিওকে AI-নির্মিত বলে দাবি করেছে। মমতা পাল্টা বলেন, “সাপকেও বিশ্বাস করা যায়, কিন্তু BJP-কে নয়।” তিনি ইলেকশন কমিশনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছেন — বাংলার বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় ৯০ লক্ষ মানুষকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি।

আসাম হাইলাকান্দির প্রেক্ষাপটে এই বিতর্ক

হিমন্ত মমতা অনুপ্রবেশকারী বিতর্ক আসামের নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে — বিশেষত বরাক উপত্যকার জন্য, যেখানে অনুপ্রবেশের প্রশ্নটি দশকের পর দশক ধরে সংবেদনশীল। হাইলাকান্দি জেলা — যার মধ্যে লালা টাউন অবস্থিত — বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে তুলনামূলকভাবে কাছে এবং এই অঞ্চলে NRC ও অনুপ্রবেশ সম্পর্কিত প্রশ্নগুলো সবসময়ই রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়। আসামে ভোটগ্রহণ চলছে, এবং হাইলাকান্দির স্থানীয় ভোটাররা ভালোভাবেই জানেন যে অনুপ্রবেশ ও পরিচয়ের রাজনীতি কেবল বক্তৃতায় নয় — নীতিগতভাবেও তাদের জীবনকে সরাসরি প্রভাবিত করে। হিমন্ত শর্মার আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান আসামের বাংলাভাষী হিন্দু ভোটারদের একটি বড় অংশের মধ্যে সমর্থন তৈরি করে — অন্যদিকে সংখ্যালঘু অংশের কাছে এই রাজনীতি উদ্বেগের।

পশ্চিমবঙ্গে ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের ভোট এবং ৪ মে-র ফলাফল শুধু বাংলার রাজনীতি নয়, সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের সীমান্ত রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলবে। মমতা ক্ষমতায় ফিরলে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে হিমন্তের সাথে টানাপড়েন অব্যাহত থাকবে; BJP বাংলায় ক্ষমতায় এলে দুই রাজ্যের সীমান্তনীতিতে বড় বদলের সম্ভাবনা রয়েছে। কোন দিক যাবে এই রাজনৈতিক সমীকরণ — তার জবাব দেবে বাংলার ভোটারেরা।

হিমন্ত মমতা অনুপ্রবেশকারী বিতর্কে উত্তাল রাজনীতি — পাল্টা টাকায় ভোট কেনার অভিযোগ মমতার
Scroll to top