আসামে BJP মহিলা আক্রোশ কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করল Bharatiya Janata Party। ২৩ এপ্রিল ২০২৬ গোটা রাজ্যে এই কর্মসূচি পালন করা হবে। কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন জোট সংসদে ‘নারী শক্তি বন্দন সংশোধনী বিল, ২০২৬’ পাস করতে বাধা দিয়েছে বলে BJP-র অভিযোগ। ২১ এপ্রিল গুয়াহাটির অটল বিহারী বাজপেয়ী ভবন থেকে দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ সাইকিয়া এই ঘোষণা দেন। এটি কেবল আসামের নয়, সারা দেশে পরিচালিত একটি বৃহত্তর জাতীয় প্রচারাভিযানের অংশ।
নারী শক্তি বন্দন বিল বিতর্ক: পটভূমি
সংসদে এই বিতর্কের শিকড় রয়েছে ২০২৩ সালের ঐতিহাসিক ১০৬তম সংবিধান সংশোধনে — নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়াম, যা লোকসভা ও বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের বিধান করে। তবে Drishti IAS-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই আইনের প্রকৃত বাস্তবায়ন ২০৩৪-এর আগে সম্ভব নয় কারণ সংবিধানের ৩৩৪(A) ধারা অনুযায়ী এটি আদমশুমারির পর delimitation প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা কমাতে BJP এপ্রিল ২০২৬-এর সংসদ অধিবেশনে Constitution (131st Amendment) Bill, 2026 নিয়ে আসে — যার লক্ষ্য ছিল ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগেই সংরক্ষণ কার্যকর করা। এই বিলে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাবও ছিল।
বিলটি লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ব্যর্থ হয়। কংগ্রেস ও তার মিত্ররা বিলের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে, মূলত এই যুক্তিতে যে আসন বাড়ানো ও delimitation-এর প্রশ্নটি মহিলা সংরক্ষণের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া উচিত নয়। BJP এই অবস্থানকে “মহিলাবিরোধী” বলে আখ্যা দিয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে জনমত গড়তে মাঠে নেমেছে।
আসামে BJP মহিলা আক্রোশ কর্মসূচির কাঠামো ও নেতৃত্ব
২৩ এপ্রিলের কর্মসূচি পরিচালনার জন্য ২৬ জন নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন সাংসদ বিজুলি কলিতা মেধি, Bodoland Territorial Council-এর কার্যনির্বাহী সদস্য রেখারাণী দাস বড়ো, সাবেক সাংসদ কুইন ওঝা এবং দলের সাধারণ সম্পাদক অনূপ বর্মন। জেলা, মণ্ডল ও বুথ স্তরে সংগঠনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে বলে জানা গেছে l আসামে এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে BJP জেলা পর্যায়ে সংবাদ সম্মেলন, নারী নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা সভা এবং গণজমায়েত আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। মহিলাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কংগ্রেসের সংসদীয় ভোটের বিরুদ্ধে সাধারণ নারীদের ক্ষোভ সংগঠিত করাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য বলে দল জানিয়েছে।
দলের মুখপাত্র প্রাঞ্জল কলিতা সরাসরি কংগ্রেসকে নিশানা করে বলেন, নারী শক্তি বন্দন সংশোধনী বিল, ২০২৬-এর বিরোধিতা করে কংগ্রেস আবারও প্রমাণ করল যে দলটি মহিলাদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান ৭৪ জন মহিলা সাংসদের মধ্যে ৩১ জনই BJP থেকে এসেছেন, অথচ কংগ্রেসের মাত্র ১৪ জন। BJP-র এই পরিসংখ্যান দিয়ে দলটি দাবি করছে, মহিলাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বে তারাই সবচেয়ে বেশি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বরাক উপত্যকা ও হাইলাকান্দিতে এই প্রচারাভিযানের প্রতিধ্বনি
আসামে BJP মহিলা আক্রোশ কর্মসূচির ঢেউ ইতিমধ্যে বরাক উপত্যকায় এসে পৌঁছেছে। ১৭ এপ্রিল শিলচরে কাছাড় জেলা মহিলা মোর্চার উদ্যোগে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাছাড় জেলা মহিলা মোর্চার সভাপতি অ্যাডভোকেট সুস্মিতা পুরকায়স্থ এই সমাবেশের নেতৃত্ব দেন। BJP-র শিলচর অফিস থেকে শুরু হওয়া র্যালি শহরের বিভিন্ন পথ পেরিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে।
হাইলাকান্দি জেলায়, যেখানে লালা টাউন অবস্থিত, ২৩ এপ্রিলের কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। লালা ও আশেপাশের এলাকার মহিলা ভোটারদের এই প্রচারাভিযানে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে। বরাক উপত্যকায় চা-বাগান শ্রমিক, কৃষি-নির্ভর ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মহিলারা সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য হওয়ায় এখানে মহিলা রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
BJP রাজ্য সভাপতি দিলীপ সাইকিয়ার বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে: “কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন জোট এই দেশের মহিলাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, তারা ক্ষমা পাবে না।” AGP নেতা ফণীভূষণ চৌধুরীও এই অনুষ্ঠানে বলেন, দেশজুড়ে মহিলাদের রাস্তায় নেমে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলা উচিত। BPF নেতা চরণ বড়ো জানান, তাঁর দল BJP ও AGP-এর পাশে থেকে মহিলাদের ন্যায়বিচারের জন্য কাজ করবে।
২৩ এপ্রিলের ‘মহিলা আক্রোশ’ সমাবেশটি আসামের রাজনৈতিক পরিসরে কতটা প্রভাব ফেলবে তা এখন দেখার বিষয়। নারী শক্তি বন্দন সংশোধনী বিল, ২০২৬-এর ব্যর্থতার পর কংগ্রেস ও তার মিত্ররা কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় সেটাও গুরুত্বপূর্ণ — কারণ ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে মহিলা ভোটারদের মন জয় করাটা সব দলের কাছেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।