Read today's news --> ⚡️Click here 

গৌহাটি হাইকোর্ট হিমন্ত বিশ্বশর্মার ঘৃণামূলক বক্তব্য PIL-এ চার সপ্তাহের সময়, পরবর্তী শুনানি ২৮ মে

গৌহাটি হাইকোর্ট ২১ এপ্রিল ২০২৬ আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিরুদ্ধে দায়ের করা ঘৃণামূলক বক্তব্যের PIL মামলাগুলোতে রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীকে জবাব দাখিলের জন্য চার সপ্তাহ সময় দিয়েছে। বিচারপতি অশুতোষ কুমার ও বিচারপতি অরুণ দেব চৌধুরীর ডিভিশন বেঞ্চ পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করেছে ২৮ মে। গৌহাটি হাইকোর্ট হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এই ঘৃণামূলক বক্তব্য PIL মামলাটি ফেব্রুয়ারি থেকেই আসামের রাজনীতিতে তীব্র আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

কীভাবে শুরু হয়েছিল এই PIL মামলা

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ গৌহাটি হাইকোর্টের একই ডিভিশন বেঞ্চ আসামের বিশিষ্ট সমাজচিন্তক ও সাহিত্যিক ড. হীরেন গোঁহাই এবং আরও দুইজন আবেদনকারীর দায়ের করা PIL-এর শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা, আসাম সরকার, কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্যের DGP-কে আনুষ্ঠানিক নোটিশ দিয়েছিল। আদালত তখন বলেছিল, অভিযোগকৃত বক্তব্যগুলোতে একটি ‘fissiparous tendency’ বা বিভেদমুখী প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। নোটিশ দেওয়ার আগে সুপ্রিম কোর্ট এই একই বিষয়ে আবেদন শুনতে অস্বীকার করে পিটিশনারদের হাইকোর্টে যেতে বলেছিল।

PIL-গুলোতে তিনটি মূল দাবি করা হয়েছে। প্রথমত, হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখার নির্দেশ। দ্বিতীয়ত, একটি SIT গঠন করে ইতিমধ্যে দেওয়া বক্তব্যগুলো তদন্ত করা — যেখানে হয় কোনো IPS কর্মকর্তা অথবা CBI অথবা একজন অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্ট বিচারক তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে থাকবেন। তৃতীয়ত, মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সাংবিধানিক শপথ লঙ্ঘন করেছেন কি না তার একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।

২১ এপ্রিলের শুনানিতে কী ঘটল

২১ এপ্রিলের শুনানিতে CPI (M)-এর আসাম শাখার পক্ষে পেশ হন সিনিয়র অ্যাডভোকেট অভিষেক মনু সিংভী। তিনি আদালতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তোলেন — ফেব্রুয়ারিতে হাইকোর্ট নোটিশ দেওয়ার পরেও মুখ্যমন্ত্রী বিতর্কিত মন্তব্য করে চলেছেন। অর্থাৎ, গৌহাটি হাইকোর্ট হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক নোটিশ জারি করার পরেও অভিযোগকৃত বক্তব্য অব্যাহত ছিল বলে আবেদনকারীরা দাবি করছেন।

রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এই দিন কোনো জবাব দাখিল হয়নি। আদালত তখন আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা দাখিলের নির্দেশ দিয়ে মামলা ২৮ মে পর্যন্ত মুলতবি রাখে। বিচারপতি অশুতোষ কুমারের বেঞ্চ এই মামলায় কোনো অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা দেয়নি — ফেব্রুয়ারিতেও বেঞ্চ বলেছিল প্রথমে নোটিশের জবাব আসুক, তারপর নিষেধাজ্ঞার প্রশ্ন বিবেচনা করা হবে।

আবেদনে কী অভিযোগ আনা হয়েছে হিমন্তের বিরুদ্ধে

PIL-এর মূল অভিযোগগুলো বিস্তারিতভাবে এসেছে। পিটিশনাররা অভিযোগ করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা প্রকাশ্যে বলেছেন যে তিনি পক্ষ নেবেন এবং বাংলাভাষী মুসলিমদের — যাদের তিনি ‘মিয়া’ বলে উল্লেখ করেছেন — আসাম দখল করতে দেবেন না। আবেদনে আরও বলা হয়েছে, তিনি BJP সদস্যদের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে নির্দেশ দিয়েছেন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বয়কটে উৎসাহ দিয়েছেন এবং নাগরিকদের আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো, মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যগুলো সর্বসাধারণের সামনে ভিডিওতে ধারণ করা থাকলেও আসাম পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে কোনো FIR দায়ের করেনি। এই নিষ্ক্রিয়তা রাজ্যে একটি ‘climate of impunity’ বা দায়মুক্তির পরিবেশ তৈরি করছে। পিটিশনাররা চান যে মুখ্যমন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তা ও দলীয় সদস্য সকলকে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সামাজিক বা অর্থনৈতিক বয়কটে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হোক।

বরাক উপত্যকা হাইলাকান্দির প্রেক্ষাপটে এই মামলার প্রাসঙ্গিকতা

গৌহাটি হাইকোর্টে হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক বক্তব্যের PIL মামলাটি বরাক উপত্যকার পাঠকদের জন্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। হাইলাকান্দি, কাছাড় ও করিমগঞ্জ জেলায় বাংলাভাষী মুসলিম সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। লালা টাউনসহ বরাক উপত্যকার বিভিন্ন অঞ্চলে হিন্দু ও মুসলিম বাঙালিরা পাশাপাশি বসবাস করছেন — এটি এই অঞ্চলের একটি ঐতিহাসিক বাস্তবতা।

রাজ্যের শীর্ষপদে থাকা ব্যক্তির বক্তব্য যদি সাম্প্রদায়িক বিভেদকে উস্কে দেয় বলে আদালতে অভিযোগ আসে, তাহলে সেটি শুধু বিচারিক নয়, সামাজিক প্রশ্নও হয়ে দাঁড়ায়। বরাক উপত্যকার নাগরিক সমাজ, পণ্ডিত ও সাধারণ মানুষ এই মামলার গতিপ্রকৃতির দিকে নজর রাখছেন।

মামলার পরবর্তী শুনানি ২৮ মে ২০২৬। ততদিনে রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী হলফনামা দাখিল করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সিনিয়র অ্যাডভোকেট অভিষেক মনু সিংভীর বক্তব্য এবং আদালতের পরবর্তী মনোভাব — দুটোই নির্ধারণ করবে এই মামলা কোন দিকে যাবে। আসামে সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বিচারালয়ের ভূমিকা কতটা সক্রিয় হবে, সেই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে ২৮ মে-র শুনানিতে।

গৌহাটি হাইকোর্ট হিমন্ত বিশ্বশর্মার ঘৃণামূলক বক্তব্য PIL-এ চার সপ্তাহের সময়, পরবর্তী শুনানি ২৮ মে
Scroll to top