Read today's news --> ⚡️Click here 

বদরপুর রেলওয়ে স্টেশনে ১৩১ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার: শ্রীভূমি পুলিশের অ্যান্টি-ড্রাগ অভিযানে দুইজন গ্রেফতার

বদরপুর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন স্টেশন রোডে সোমবার রাতে শ্রীভূমি জেলা পুলিশের একটি মাদক-বিরোধী দল ১৩১ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করেছে। এই হেরোইনের বাজারমূল্য আনুমানিক ৫০ লক্ষ টাকা বলে পুলিশ জানিয়েছে। অভিযানে দুইজন সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বদরপুর রেলওয়ে স্টেশনে হেরোইন উদ্ধারের এই ঘটনা আসামের বরাক উপত্যকায় চলমান মাদক পাচার সমস্যার আরেকটি উদ্বেগজনক প্রমাণ হিসেবে সামনে এসেছে।

অভিযানের বিস্তারিত: কীভাবে ধরা পড়ল পাচারকারীরা

শ্রীভূমি জেলা পুলিশের Facebook পেজে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল সোমবার রাতে বদরপুর স্টেশন রোডে বিশেষ অ্যান্টি-ড্রাগ অপারেশন পরিচালনা করে। নজরদারির সময় দুইজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। তাদের কাছ থেকে মোট ১৩১ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার হয় — যা ‘ব্রাউন সুগার’ নামেও পরিচিত এবং এই অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি পাচার হওয়া মাদকদ্রব্যগুলোর একটি। দুইজনকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করা হয় এবং মাদক-সংক্রান্ত আইনের আওতায় মামলা দায়ের করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের পরিচয় ও পাচারের রুট নিয়ে তদন্ত চলছে। তারা কোথা থেকে এই হেরোইন সংগ্রহ করেছিল এবং কোথায় সরবরাহ করার পরিকল্পনা ছিল — এই প্রশ্নগুলো তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পাচার নেটওয়ার্কের বৃহত্তর অংশকে চিহ্নিত করতে জেরা অব্যাহত রয়েছে।

বদরপুর রেলওয়ে স্টেশন: বারবার মাদক পাচারের কেন্দ্রবিন্দু

বদরপুর রেলওয়ে স্টেশনে হেরোইন উদ্ধারের এই ঘটনা নতুন নয়। এপ্রিল ২০২৬-এর শুরুতেই বদরপুর থানার পুলিশ স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় দেরি রাতে অভিযান চালিয়ে দুই ব্যক্তিকে প্রায় ১০,০০০ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার করে। সেই মামলায় অভিযুক্ত আহমেদ হোসেন লস্কর (পাথারকান্দি) ও আবু হোসেন (বদরপুর এলাকার বাটিয়া) ট্রেনে এসে এলাকায় মাদক সরবরাহ করার পরিকল্পনা করছিলেন বলে পুলিশ জানায়।

এর আগে অক্টোবর ২০২৫-এ বদরপুর রেলওয়ে পুলিশ একটি বড় মাপের সাফল্য পায়। রাতের একটি চেকিং অপারেশনে সেকান্দ্রাবাদগামী ট্রেনে উঠতে যাওয়া চারজন যাত্রীর কাছ থেকে প্রায় ২ কেজি ১৬২ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার হয়। সেই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া উজ্জল মণ্ডল, অমল মণ্ডল, মদন মণ্ডল ও অসিত মণ্ডল — চারজনই পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার নারায়ণপুরের বাসিন্দা। ওই সময় মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাও নিজের Facebook পেজে এই সাফল্যের কথা উল্লেখ করেছিলেন।

জানুয়ারি ২০২৬-এ আরেকটি বড় উদ্ধার ঘটে — বরাক নদীপথে একটি অভিযানে ১.৮৮ কেজি হেরোইন এবং ১০,০০০ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৪ কোটি টাকা বলে জানা গেছে। এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলো স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে বদরপুর রেলওয়ে জংশন এবং বরাক নদীপথ মিয়ানমার-মণিপুর-আসাম-পশ্চিমবঙ্গ মাদক পাচার রুটের একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট হয়ে উঠেছে।

হাইলাকান্দি লালার উপর মাদক পাচারের প্রভাব

বদরপুর রেলওয়ে স্টেশনে হেরোইন উদ্ধারের ঘটনা হাইলাকান্দি জেলার লালা টাউনের বাসিন্দাদের জন্য সরাসরি প্রাসঙ্গিক। বদরপুর থেকে লালার দূরত্ব মাত্র কয়েক কিলোমিটার — ফলে এই মাদক চক্র লালা, হাইলাকান্দি বা কাছের যে কোনো এলাকায় ছড়িয়ে পড়া অসম্ভব নয়। স্থানীয় কিশোর ও যুবকরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন, কারণ হেরোইন ও ইয়াবার মতো মাদক সামাজিক ও পারিবারিক কাঠামো ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

বদরপুরের বাসিন্দা বুরহান উদ্দিনকে মার্চ ২০২৬-এ গুয়াহাটি রেলওয়ে স্টেশনে গ্রেফতার করা হয় ৭৪ গ্রাম হেরোইনসহ। এটি ইঙ্গিত করে যে বরাক উপত্যকার একাংশের মানুষ শুধু ভোক্তা নয়, পাচার শৃঙ্খলের বাহক হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছেন। এপ্রিল ২০২৬-এ মেহারপুরে Assam Rifles-এর অভিযানে ৩০টি সাবানের কৌটায় লুকানো ৩৪৯ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার হয়েছে, যার মূল্য ২.১০ কোটি টাকা — এটি দেখাচ্ছে মাদক পাচারকারীরা ক্রমশ নতুন কৌশল নিচ্ছে।

আসামের মাদক-বিরোধী অভিযান ‘#AssamAgainstDrugs’ ব্যানারে সরকার নিয়মিত অপারেশন চালিয়ে যাচ্ছে এবং এই অভিযানগুলো বরাক উপত্যকায় বিশেষভাবে জোরদার হয়েছে। তবে প্রতিটি নতুন উদ্ধারের ঘটনা এটাও মনে করিয়ে দেয় যে পাচার নেটওয়ার্ক এখনও সক্রিয় — এবং যতদিন সীমান্ত পথ ও রেলওয়ে রুটে নজরদারি আরও তীব্র না হবে, ততদিন সমস্যার স্থায়ী সমাধান কঠিন। লালা ও হাইলাকান্দির মানুষের কাছে এই বার্তা স্পষ্ট — মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান যেমন দরকার, তেমনি দরকার সামাজিক সচেতনতা ও পরিবার থেকে শুরু হওয়া প্রতিরোধ।

বদরপুর রেলওয়ে স্টেশনে ১৩১ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার: শ্রীভূমি পুলিশের অ্যান্টি-ড্রাগ অভিযানে দুইজন গ্রেফতার
Scroll to top