Read today's news --> ⚡️Click here 

অসম বিধানসভা UCC বিল: মুসলিমদের জন্য আলাদা বিবাহ আইন কেন?

অসম বিধানসভা UCC বিল নিয়ে বিতর্ক তীব্র। ২০২৬ সালের ২৭ মে বিধানসভায় BJP বিধায়ক পিযুষ হাজারিকা প্রশ্ন তোলেন, খাতে মুসলিমদের জন্য আলাদা বিবাহ আইন কেন থাকবে? তিনি UCC (Uniform Civil Code) দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান। এই বিলটি সংবিধানের ৪৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুসরণ করে প্রণীত হয়েছে।

পিযুষ হাজারিকার বক্তব্য ও UCC-পক্ষে যুক্তি

পিযুষ হাজারিকা, যিনি BJP-র অসম বিধানসভা বিধায়ক, বিধানসভায় বলেন, “সকল নাগরিকের জন্য সমান আইন থাকা জরুরি। কোনো ধর্মগোষ্ঠীর জন্য আলাদা বিবাহ আইন থাকা গণতান্ত্রিক সমতা ও নারী অধিকারের বিরোধী।” তার মতে, UCC বাস্তবায়ন হলে নারীদের ওপর অবিচার ও বৈষম্য কমে আসবে।

হাজারিকা আরও বলেন, “আমরা ১৯৫০ সাল থেকে সংবিধানে ৪৪ অনুচ্ছেদে UCC-এর কথা জানি, কিন্তু এখন পর্যন্ত এটি বাস্তবায়িত হয়নি। অসম এই ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারে।” তিনি মুসলিম পার্সোনাল ল অ্যাক্ট, ১৯৩৭ এবং মোসলেম নিকাহ অ্যাক্টের উদাহরণ দিয়ে বলেন, এই আইনগুলি নারীদের অধিকারের ক্ষেত্রে অনেক বৈষম্য রাখেন।

UCC বিল অসমে: কী বলছে সরকারের অবস্থান

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, অসম সরকার UCC বাস্তবায়ন করবে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে BJP তাদের নির্বাচনী ইশতেহারেই UCC-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ২০২৬ সালের মে মাসে বিধানসভায় UCC বিল ২০২৬ উপস্থাপন করা হয়।

হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “UCC নারীদের ক্ষমতায়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং জাতীয় সমন্বয়ের জন্য অপরিহার্য। ধর্মের ভিত্তিতে আলাদা আইন দেশের একত্রে বাধা দেয়।” তিনি আরও জানান, UCC বিলে বিবাহ, তালাক, দায়িত্বপালন এবং উত্তরাধিকারের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া বিতর্ক

UCC বিল ঘোষণার পর মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতারা এবং কিছু বিরোধী দল চিন্তা প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, পার্সোনাল ল (ব্যক্তিগত আইন) ধর্মীয় স্বাধীনতার অংশ।aa তাদের মতে, UCC বাস্তবায়নের আগে ধর্মীয় ও সামাজিক পরামর্শ বাস্তবায়ন করা উচিত।

কংগ্রেস বিধায়করাও বিধানসভায় প্রশ্ন তোলেন যে, UCC বাস্তবায়নে মুসলিম সম্প্রদায়ের স্বাধীনতা কীভাবে রক্ষা করা হবে। তারা বলেন, “ধর্মীয় স্বাধীনতা ভারতের সংবিধানের একটি মৌলিক অধিকার। UCC বজায় রাখার সময় এই অধিকার রক্ষা করা জরুরি।”

বরাক উপত্যকা লালা টাউনের প্রেক্ষাপট

বরাক উপত্যকার হাইলাকান্দি জেলা ও লালা টাউনে মুসলিম সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। এই এলাকায় UCC বিল প্রয়োগের প্রভাব পরিলক্ষিত হবে। স্থানীয়দের মতে, নারীদের অধিকার রক্ষায় UCC ইতিবাচক হতে পারে, কিন্তু ধর্মীয় স্বাধীনতা বজায় রাখাও জরুরি।

হাইলাকান্দির এক স্থানীয় শিক্ষক বলেন, “আমরা নারীদের অধিকার সমর্থন করি, কিন্তু ধর্মীয় অনুশাসনও বজায় রাখতে চাই। UCC-তে এই দুটি ভারসাম্য রক্ষা করা দরকার।” লালা টাউনের মতো এলাকায় UCC বিল বাস্তবায়নে সরকারি প্রশাসনের সতর্কতা ও পরামর্শের প্রয়োজন হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতারা।

ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ সম্ভাব্য প্রভাব

UCC বিল ২০২৬ অসম বিধানসভায় পেশ করা হয়েছে। এখন বিতর্ক এবং সংশোধনীর পর শীঘ্রই এটি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি UCC বাস্তবায়িত হয়, তাহলে অসম ভারতের প্রথম রাজ্য হবে যেখানে মুসলিমদের জন্য আলাদা পার্সোনাল ল বাতিল হবে।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, UCC বাস্তবায়নের পর বিবাহ, তালাক, উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে সমান আইন প্রয়োগ হবে। নারীদের ক্ষেত্রে বিশেষ করে তালাক ও ভরণপোষণের  ক্ষেত্রে এই আইন ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রতিক্রিয়া এবং রাজনৈতিক বিতর্ক এখনও চলছে।

UCC বিল অসমের রাজনীতি ও সামাজিক কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং নারী অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা হবে কি না, তা ভবিষ্যতের প্রধান প্রশ্ন। অসম বিধানসভা UCC বিল নিয়ে আগামী দিনগুলিতে আরও বিতর্ক হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

অসম বিধানসভা UCC বিল: মুসলিমদের জন্য আলাদা বিবাহ আইন কেন?
Scroll to top