Read today's news --> ⚡️Click here 

অসম বিধানসভা সমান নাগরিক কোড বিল পাস: বিরোধীদের বিতর্ক ও নতুন নিয়ম

অসম বিধানসভায় সমান নাগরিক কোড (UCC) বিল ২০২৬ পাস হয়েছে। ২০২৬ সালের ২৭ মে গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে এই বিলটি পাস হয়। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার হয়ে বিলটি উপস্থাপন করেন সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী অতুল বরা। তবে বিরোধী দলগুলো চাইছে বিলটি সিলেক্ট কমিটিতে বিস্তারিত বিবেচিত হোক।

বিল পাস: বিতর্ক বিরোধীদের দাবি

বিলটি পাস হওয়ার আগে বিধানসভায় তীব্র বিতর্ক চলে। কংগ্রেস বিধায়করা বলেন, “এই বিলটি ধর্মীয় স্বাধীনতার বিরোধী এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের পার্সোনাল ল বাতিল করছে।” তাদের মতে, বিলটি পাস করার আগে সিলেক্ট কমিটিতে বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন। কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া সুলতানার মতে, “ধর্ম নিরপেক্ষতা ও সংবিধানের মূল ভিত্তির বিরোধী এই বিল।”

AIUDF নেতা বদরুদ্দিন আজমলও বিলটির বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, “এই বিলটি ধর্মনিরপেক্ষতা ও সংবিধানের মূল ভিত্তির বিরোধী। ভারতের সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতা একটি মৌলিক অধিকার।” তিনি আরও যোগ করেন, “বিলটি পাস করার আগে মুসলিম ও অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মতামত নেওয়া উচিত ছিল।”

তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়করাও বিল বিরোধিতা করে বলেন, “এই বিলটি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করবে এবং নারীদের অধিকারের নামে পার্সোনাল লে হস্তক্ষেপ করবে।”

হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বক্তব্য: নারী অধিকার, লিভ-ইন সাম্য

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বিল পাসের পর বলেন, “সমান নাগরিক কোড নারীদের অধিকার, সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য অপরিহার্য। কোনো ধর্মগোষ্ঠীর জন্য আলাদা আইন থাকা গণতান্ত্রিক সমতার বিরোধী।”

শর্মা আরও বলেন, “১৯৫০ সাল থেকে সংবিধানে ৪৪ অনুচ্ছেদে UCC-এর কথা আছে, কিন্তু আজ পর্যন্ত এটি বাস্তবায়িত হয়নি। অসম এই ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারে।” তিনি উল্লেখ করেন, বিলে বিবাহ, তালাক, ভরণপোষণ এবং উত্তরাধিকারের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

শর্মার মতে, “এই বিলটি অসমে লিভ-ইন বা একত্রবাস সম্পর্ককে প্রথমবারের জন্য আইনি কাঠামোর আওতায় আনছে। লিভ-ইন সম্পর্কের জন্য রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হবে।” তিনি আরও বলেন, “বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করা হবে এবং বিয়ের জন্য পুরুষদের ন্যূনতম বয়স ২১ বছর ও মহিলাদের ১৮ বছর নির্ধারণ করা হবে।”

বিলের মূল বিষয়বস্তু: নতুন নিয়ম কী কী

অসমের সমান নাগরিক কোড বিল ২০২৬-এ নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকছে:

  • বিবাহ তালাক: সকল ধর্মের জন্য সমান আইন, বিবাহ ও তালাকের অনিবার্য রেজিস্ট্রেশন
  • বহুবিবাহ নিষিদ্ধ: সকল ধর্মের জন্য বহুবিবাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
  • লিভ-ইন রেজিস্ট্রেশন: একত্রবাস সম্পর্কের জন্য রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক
  • ভরণপোষণ পালন অধিকার: নারীদের জন্য ভরণপোষণ ও সন্তান পালনের অধিকার নিশ্চিত
  • উত্তরাধিকার: বাবার সম্পত্তিতে মেয়েদের সমান অধিকার নিশ্চিত, লিঙ্গ সমতা আনা হবে
  • বয়স সীমা: বিয়ের জন্য পুরুষ ২১ বছর, মহিলা ১৮ বছর ন্যূনতম বয়স

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, বিলটি পাস হওয়ার পর অসম ভারতের তৃতীয় রাজ্য হবে যেখানে UCC বাস্তবায়িত হবে। উত্তরাখণ্ড ও গুজরাট আগেই UCC বাস্তবায়ন করেছে।

বরাক উপত্যকা লালা টাউনের প্রেক্ষাপট

বরাক উপত্যকার হাইলাকান্দি জেলা ও লালা টাউনে মুসলিম সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। এই এলাকায় UCC বিল প্রয়োগের প্রভাব পরিলক্ষিত হবে। স্থানীয়দের মতে, নারীদের অধিকার রক্ষায় UCC ইতিবাচক হতে পারে, কিন্তু ধর্মীয় স্বাধীনতা বজায় রাখাও জরুরি।

হাইলাকান্দির এক স্থানীয় শিক্ষক বলেন, “আমরা নারীদের অধিকার সমর্থন করি, কিন্তু ধর্মীয় অনুশাসনও বজায় রাখতে চাই। UCC-তে এই দুটি ভারসাম্য রক্ষা করা দরকার।” লালা টাউনের মতো এলাকায় UCC বিল বাস্তবায়নে সরকারি প্রশাসনের সতর্কতা ও পরামর্শের প্রয়োজন হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতারা।

স্থানীয় এক মুসলিম নেতা বলেন, “আমরা নারী অধিকার সমর্থন করি, কিন্তু আমাদের পার্সোনাল ল বাতিল হলে ধর্মীয় স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়বে।” তিনি সরকারের কাছে আবেদন জানান, “ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মতামত নিয়ে বিল বাস্তবায়ন করা হোক।”

পরবর্তী পদক্ষেপ সম্ভাব্য প্রভাব

সমান নাগরিক কোড বিল ২০২৬ অসম বিধানসভায় পাস হয়েছে। এখন গভর্নরের অনুমোদনের পর এটি আইনে পরিণত হবে। যদি UCC বাস্তবায়িত হয়, তাহলে অসম ভারতের তৃতীয় রাজ্য হবে যেখানে মুসলিমদের জন্য আলাদা পার্সোনাল ল বাতিল হবে।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, UCC বাস্তবায়নের পর বিবাহ, তালাক, উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে সমান আইন প্রয়োগ হবে। নারীদের ক্ষেত্রে বিশেষ করে তালাক ও ভরণপোষণের ক্ষেত্রে এই আইন ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রতিক্রিয়া এবং রাজনৈতিক বিতর্ক এখনও চলছে।

সমান নাগরিক কোড বিল অসমের রাজনীতি ও সামাজিক কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং নারী অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা হবে কি না, তা ভবিষ্যতের প্রধান প্রশ্ন। অসম বিধানসভা সমান নাগরিক কোড বিল নিয়ে আগামী দিনগুলিতে আরও বিতর্ক হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

অসম বিধানসভা সমান নাগরিক কোড বিল পাস: বিরোধীদের বিতর্ক ও নতুন নিয়ম
Scroll to top