Read today's news --> ⚡️Click here 

আসাম স্কুল ইন্টারনেট সংযোগে শীর্ষ তিনে, বললেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত

আসাম স্কুল ইন্টারনেট সংযোগ বৃদ্ধিতে দেশের শীর্ষ তিনটি রাজ্যের মধ্যে স্থান পেয়েছে বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। ২ জুন ২০২৬ তারিখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X-এ একটি পোস্টে তিনি জানান, ভারত সরকারের স্বীকৃতি কেবল ইন্টারনেটের পরিসংখ্যান নয়, বরং রাজ্যের শিক্ষা খাতে গত এক দশকে ঘটে যাওয়া সামগ্রিক পরিবর্তনের প্রতিফলন। বিদ্যুৎ সংযোগ, কম্পিউটার সুবিধা, মেয়েদের শৌচাগার এবং ইন্টারনেট প্রবেশাধিকার—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকে স্কুলগুলোর উল্লেখযোগ্য উন্নতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য এই অগ্রগতি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

“ভারত সরকার যখন আসামকে স্কুল ইন্টারনেট সংযোগ বৃদ্ধিতে শীর্ষ তিনটি রাজ্যের মধ্যে স্থান দেয়, তখন তা একটি বৃহত্তর রূপান্তরকে প্রতিফলিত করে,” বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা তাঁর X পোস্টে। তিনি আরও বলেন, “বিদ্যুৎ, কম্পিউটার, মেয়েদের শৌচাগার, ইন্টারনেট প্রবেশাধিকার—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক এক দশকের NDA শাসনে উন্নত হয়েছে। আর আমরা এখন সবে শুরু করেছি।” এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে রাজ্য সরকার ডিজিটাল শিক্ষা পরিকাঠামো নির্মাণকে দীর্ঘমেয়াদী অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে, এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগেই এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

এক দশকে আসাম স্কুল ইন্টারনেট সংযোগের চিত্র

এই সাফল্যের পরিপ্রেক্ষিতে একটু পেছনে তাকালে স্পষ্ট হয়, আসামের স্কুলগুলোতে ইন্টারনেট সংযোগের বৃদ্ধি কতটা দ্রুত এবং তাৎপর্যপূর্ণ। MoSPI-র ২০২৫ সালের ‘Children in India’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ সালে রাজ্যের মাত্র ১৩.৭% স্কুলে ইন্টারনেট সুবিধা ছিল। সেই সংখ্যা ২০১৯-২০ সালে ২২.৬% এবং ২০২২-২৩ সালে ৩৪.৬%-এ পৌঁছায়। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য লাফ আসে ২০২৩-২৪ সালে, যখন ইন্টারনেট সংযোগ বেড়ে ৫৩.৮%-এ দাঁড়ায়। এই ধারাবাহিক বৃদ্ধিই সম্ভবত ভারত সরকারের কাছ থেকে শীর্ষ তিনে স্বীকৃতির ভিত্তি তৈরি করেছে।

শুধু ইন্টারনেট নয়, অন্য সূচকেও আসাম দ্রুত এগিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের ৯৭% স্কুলে মেয়েদের শৌচাগার রয়েছে, ৯৬% ছেলেদের শৌচাগার চালু আছে, এবং ৯৯.৫% স্কুলে পানীয় জলের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া ৯৮% স্কুলে বিদ্যুৎ সংযোগ আছে। এই পরিসংখ্যানগুলো বলছে, মৌলিক অবকাঠামোর ভিত্তি তৈরির পর এখন ডিজিটাল রূপান্তরের দিকে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে রাজ্য সরকার ২৫২টি সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো পুনর্গঠনে ১,৮০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। বিশ্বব্যাংকও ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ‘Assam: School Education and Adolescent Wellbeing Project’-এর অংশ হিসেবে ২৫০ মিলিয়ন ডলার অনুমোদন দিয়েছে, যার লক্ষ্য ২০ লাখেরও বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর শিক্ষার মান উন্নত করা। এই যৌথ বিনিয়োগ আসামের স্কুল ডিজিটাল পরিকাঠামোকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

স্কুল ডিজিটাল পরিকাঠামো বাকি চ্যালেঞ্জ

আসাম স্কুল ইন্টারনেট সংযোগে অগ্রগতি হলেও কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জ এখনও বিদ্যমান। ২০২৫ সালের মার্চে সংসদে পেশ করা একটি তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের প্রায় ৮৯.৭১% সরকারি স্কুলে তখনও ইন্টারনেট সংযোগ ছিল না। তবে ২০২৩-২৪ সালে সংযোগ ৫৩.৮%-এ পৌঁছানোর পরিপ্রেক্ষিতে মনে হয় এই তথ্য সর্বশেষ আপডেট নয়, অথবা বিভিন্ন পদ্ধতিতে গণনা ভিন্নভাবে হচ্ছে। তবে পরিষ্কার যে প্রগতি ঘটছে, যদিও পথ এখনও দীর্ঘ।

চার বা পাঁচটি স্কুলে ইন্টারনেট আছে মানেই কিন্তু শিক্ষার্থীরা তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করছে, সেটা নিশ্চিত নয়। প্রশিক্ষিত শিক্ষকের অভাব, প্রযুক্তি-সহায়ক পাঠ্যক্রমের ঘাটতি এবং রক্ষণাবেক্ষণের সমস্যা অনেক গ্রামীণ স্কুলে এখনও বড় বাধা। অনেক স্কুলে কম্পিউটার থাকলেও চলে না, বা ইন্টারনেট লাইন থাকলেও গতি এতটাই কম যে ব্যবহারযোগ্য নয়। তাই সংযোগের পরিসংখ্যানের পাশাপাশি ব্যবহারের মানও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা, যা ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে সামনে আসবে।

বরাক উপত্যকা লালা টাউনে প্রভাব

আসাম স্কুল ইন্টারনেট সংযোগে রাজ্যের শীর্ষ তিনে আসার খবর বরাক উপত্যকার মানুষের জন্যও প্রাসঙ্গিক। হাইলাকান্দি, করিমগঞ্জ ও শিলচরের মতো জেলায় ঐতিহাসিকভাবে ডিজিটাল পরিষেবা পাহাড়ি ও সমতলের রাজ্যের কেন্দ্রীয় জেলাগুলোর তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে থাকে। তবে রাজ্যজুড়ে ডিজিটাল পরিকাঠামোর উন্নতি হলে স্বাভাবিকভাবেই তার সুফল এই অঞ্চলেও আসে। লালা টাউনের স্কুলগুলোতে যদি ইন্টারনেট, কম্পিউটার এবং ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ পৌঁছায়, তবে সেখানকার শিক্ষার্থীরা রাজ্যের অন্য অংশের সমকক্ষ সুযোগ পাবে।

বরাক উপত্যকার দীর্ঘদিনের দাবি হলো উন্নয়নে সমান অংশীদারিত্ব। রাজ্যের সরকারি স্কুলে ডিজিটাল সংযোগের ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি হচ্ছে, তা যেন শুধু ব্রহ্মপুত্র উপত্যকাকেন্দ্রিক না থাকে, সেটা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশ্বব্যাংকের ২৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্পে “last-mile connectivity” নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে, যা লালা টাউনের মতো প্রান্তিক শহরের জন্যও আশার আলো দেখাচ্ছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়

রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকার মিলে ডিজিটাল শিক্ষা প্রসারে যে যৌথ উদ্যোগ নিচ্ছে, তা আসামের শিক্ষা খাতে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে। বিশ্বব্যাংকের অনুমোদিত প্রকল্পে জলবায়ু-সহিষ্ণু স্কুল ভবন নির্মাণ, মৌলিক দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মক্ষেত্রের প্রস্তুতি—সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত। আসাম ছাড়াও অন্য রাজ্যগুলো যখন এই পথে এগোচ্ছে, তখন শীর্ষ তিনের স্বীকৃতি আসামের জন্য একটি প্রতিযোগিতামূলক সুবিধাও তৈরি করছে।

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বক্তব্য স্পষ্ট—এটি শেষ গন্তব্য নয়, যাত্রার শুরু। আসাম স্কুল ইন্টারনেট সংযোগ ৫৩.৮%-এ পৌঁছানো একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক, কিন্তু বাকি প্রায় অর্ধেক স্কুলে সংযোগ পৌঁছানো, শিক্ষকদের প্রযুক্তি-প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং ডিজিটাল বিভাজন সম্পূর্ণ দূর করার কাজ এখনও বাকি। এই লক্ষ্যে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বিত পরিকল্পনা এবং নিরবচ্ছিন্ন বাজেট বরাদ্দ ছাড়া উন্নতির গতি ধরে রাখা কঠিন হবে। বরাক উপত্যকার লালা টাউন থেকে শুরু করে রাজ্যের প্রতিটি কোণের শিক্ষার্থী যেন এই ডিজিটাল সুযোগের সমান ভাগীদার হয়, সেটিই সামনের পথের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং প্রত্যাশা।

আসাম স্কুল ইন্টারনেট সংযোগে শীর্ষ তিনে, বললেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত
Scroll to top