Read today's news --> ⚡️Click here 

হাইলাকান্দি কংগ্রেস নেতা বরখাস্ত: সাংগঠনিক বৈঠকে অসদাচরণে চার নেতাকে তাৎক্ষণিক বহিষ্কার

হাইলাকান্দি কংগ্রেস নেতা বরখাস্তের ঘটনায় আসামের রাজনৈতিক মহলে আলোচনার ঝড় উঠেছে। আসাম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি (APCC) মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬ তারিখে হাইলাকান্দি জেলা কংগ্রেস কমিটির (DCC) চার জেনারেল সেক্রেটারিকে তাৎক্ষণিক বহিষ্কার করেছে। ৩০ মে ২০২৬ তারিখে হাইলাকান্দি DCC অফিসে অনুষ্ঠিত একটি সাংগঠনিক পর্যালোচনা বৈঠকে কথিত অসদাচরণের অভিযোগে এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। APCC প্রেসিডেন্ট তথা সংসদ সদস্য গৌরব গোগইয়ের নির্দেশেই এই বহিষ্কারের আদেশ জারি করা হয়েছে।

বহিষ্কৃত চার নেতার নাম হলো জাহান উদ্দিন বরভূঁইয়া, সারিম সাদিওল, মিতুজ্জামান লস্কর এবং নাজমুল হোসেন বরভূঁইয়া — এঁরা প্রত্যেকেই হাইলাকান্দি জেলা কংগ্রেস কমিটির জেনারেল সেক্রেটারি পদে কর্মরত ছিলেন। APCC-র আনুষ্ঠানিক আদেশপত্রে বলা হয়েছে, ৩০ মে-র পর্যালোচনা বৈঠকে তাঁদের আচরণ দলের শৃঙ্খলার পরিপন্থী এবং সেই কারণেই তাৎক্ষণিক প্রভাবে বহিষ্কার কার্যকর হয়েছে।

ঘটনার পটভূমি: ৩০ মে-বৈঠকে কী হয়েছিল

হাইলাকান্দি কংগ্রেস নেতা বরখাস্তের সূত্রপাত হয় ৩০ মে-র সেই পর্যালোচনা বৈঠকে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনার জন্য ওই বৈঠকটি আহ্বান করা হয়েছিল। ইন্ডিয়া টুডে NE-র ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা গেছে, সেই বৈঠকে কিছু কংগ্রেস কর্মী APCC প্রেসিডেন্ট গৌরব গোগই ও অন্য নেতাদের বিরুদ্ধে সমালোচনামূলক মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উত্তেজনা ক্রমশ বাড়তে থাকলে বৈঠকের মধ্যেই পরিস্থিতি বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে এবং সাংগঠনিক কাজকর্ম ব্যাহত হয় বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, এই বিবাদের কেন্দ্রে সোনাই MLA আমিনুল হক লস্করকে নিয়ে একটি বিতর্কও ছিল বলে জানা গেছে। তবে APCC-র আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়নি। দল কেবল জানিয়েছে, চার নেতার আচরণ পর্যালোচনা বৈঠকের স্বাভাবিক গতিকে বিঘ্নিত করেছে এবং তা দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এই অস্বচ্ছতার কারণে অবশিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনও অজানা।

হাইলাকান্দি DCC সংকট কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন

হাইলাকান্দি কংগ্রেস নেতা বরখাস্তের এই ঘটনাটি কংগ্রেসের রাজ্যব্যাপী সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করা দরকার। APCC প্রেসিডেন্ট গৌরব গোগই সম্প্রতি রাজ্যজুড়ে জেলা কংগ্রেস কমিটিগুলোর পর্যালোচনা শুরু করেছেন। এর লক্ষ্য নির্বাচনী পরাজয়ের কারণ চিহ্নিত করা, দলীয় কর্মকাণ্ড মজবুত করা এবং ভবিষ্যতের প্রস্তুতি নেওয়া। সেই পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই হাইলাকান্দিতে ৩০ মে-র বৈঠকটি আহ্বান করা হয়েছিল।

উল্লেখযোগ্য, এটাই এই বছরে APCC-র প্রথম শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নয়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেও APCC তার মুখপাত্র শাইজুদ্দিন আহমেদকে পার্টির বিরুদ্ধে মন্তব্য করার অভিযোগে বহিষ্কার করেছিল। ওই বহিষ্কারের আদেশটিও গৌরব গোগইয়ের নির্দেশেই জারি হয়েছিল। এই ধারাবাহিকতা থেকে স্পষ্ট যে দলীয় নেতৃত্ব অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার প্রশ্নে কঠোর অবস্থানে থাকতে চাইছে, বিশেষ করে রাজ্যজুড়ে পুনর্গঠন চলার সময়ে।

হাইলাকান্দি লালা টাউনে রাজনৈতিক প্রভাব

হাইলাকান্দি কংগ্রেস নেতা বরখাস্তের এই ঘটনা জেলার স্থানীয় রাজনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। হাইলাকান্দি জেলায় কংগ্রেস দলের একটি ঐতিহাসিক ভিত্তি রয়েছে, বিশেষত সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে। লালা টাউন সংলগ্ন এই জেলায় দলের জেলা কমিটির চার জেনারেল সেক্রেটারির একসঙ্গে বহিষ্কার একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা, কারণ এই পদগুলো দলীয় কাঠামোতে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তৃণমূল স্তরে সংগঠন পরিচালনায় জেলা সাধারণ সম্পাদকদের ভূমিকা কেন্দ্রীয়, তাই তাঁদের একসঙ্গে বহিষ্কার স্বল্পমেয়াদে জেলার দলীয় কাজকর্মে শূন্যতা তৈরি করতে পারে।

স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, হাইলাকান্দিতে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নতুন কিছু নয়। তবে APCC কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং তাৎক্ষণিক বহিষ্কার এই বিরোধকে একটি গুরুতর মাত্রা দিচ্ছে। লালা বাজার অঞ্চলের মানুষজন যাঁরা কংগ্রেসের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে যুক্ত, তাঁরা এই ঘটনাকে দলের ভেতরকার ক্ষমতার লড়াই হিসেবে দেখছেন।

সামনে কী হতে পারে

বহিষ্কৃত চার নেতার কাছে দলীয় চ্যানেলে আপিলের সুযোগ থাকার কথা, তবে এখন পর্যন্ত তাঁদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। APCC-ও আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেনি, যা নিয়ে স্বচ্ছতার প্রশ্ন উঠছে। দলের ভেতরে এই বিরোধ কতটা গভীর এবং তা জেলা কমিটির কার্যক্রমকে কতটা প্রভাবিত করবে, তা সময়ই বলবে।

গৌরব গোগইয়ের নেতৃত্বে APCC বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সাংগঠনিক সংস্কারের প্রক্রিয়া চালু রেখেছে। এই পর্যালোচনার মধ্যেই হাইলাকান্দিতে এই ঘটনা ঘটল, যা দলের পুনর্গঠনের পথে নতুন জটিলতা তৈরি করেছে। হাইলাকান্দি কংগ্রেস নেতা বরখাস্তের পর জেলায় নতুন নেতৃত্বের বিন্যাস কেমন হবে এবং বিরোধী BJP সেই সুযোগকে কীভাবে কাজে লাগায়, সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

হাইলাকান্দি কংগ্রেস নেতা বরখাস্ত: সাংগঠনিক বৈঠকে অসদাচরণে চার নেতাকে তাৎক্ষণিক বহিষ্কার
Scroll to top