Read today's news --> ⚡️Click here 

মোদি দীর্ঘতম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেহরুর রেকর্ড ভাঙলেন

ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে আজ একটি অসাধারণ মাইলফলক স্থাপিত হলো। ১০ জুন ২০২৬ তারিখে মোদি দীর্ঘতম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর রেকর্ড অতিক্রম করলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ সালের ২৬ মে থেকে একটানা দায়িত্বে আছেন এবং আজ তাঁর নির্বাচিত মেয়াদ ৪,৩৯৯ দিন পূর্ণ করল। নেহরু ১৯৫২ সালের নির্বাচনের পর থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত মোট ৪,৩৯৮ দিন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। মোদি সেই সংখ্যা আজ ছাড়িয়ে গেলেন।

এই রেকর্ড স্পর্শের মুহূর্তে BJP ও NDA জোটের পক্ষ থেকে উচ্চকিত অভিনন্দন জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদি টানা তিনটি লোকসভা নির্বাচনে — ২০১৪, ২০১৯ এবং ২০২৪ — জয়লাভ করে এই দীর্ঘ মেয়াদ পূর্ণ করেছেন। এটি কেবল একটি সংখ্যার রেকর্ড নয়, বরং ভোটারদের ধারাবাহিক সমর্থনের একটি শক্তিশালী বার্তাও বটে।

নেহরু রেকর্ড ভারত: ঐতিহাসিক পটভূমি

নেহরু রেকর্ড ভারত-এর প্রসঙ্গে জানা দরকার, জওহরলাল নেহরু ছিলেন স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতা হিসেবে তিনি ক্ষমতায় আসেন। তবে ১৯৫২ সালে ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের পর থেকে তিনি “নির্বাচিত” প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গণ্য হন। সেই নির্বাচিত মেয়াদ শেষ হয়েছিল ১৯৬৪ সালে তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে।

নেহরুর সেই নির্বাচিত মেয়াদ ছিল ৪,৩৯৮ দিন। অন্যদিকে ইন্দিরা গান্ধীর মোট প্রধানমন্ত্রিত্বকাল বেশি হলেও তা বিরতিযুক্ত ছিল, তাই “ধারাবাহিক নির্বাচিত মেয়াদ” হিসেবে তিনি নেহরুকে ছাড়াননি। এই পার্থক্যটাই মোদির রেকর্ডকে বিশেষ মাত্রা দেয়। মোদি এর আগেই ইন্দিরা গান্ধীকে টপকে ভারতের দ্বিতীয় দীর্ঘতম প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।

ভারতীয় রাজনৈতিক ইতিহাস: মোদির তিন মেয়াদের পরিচয়

ভারতীয় রাজনৈতিক ইতিহাস-এ মোদির তিনটি মেয়াদ প্রতিটিই আলাদা বৈশিষ্ট্য বহন করে। প্রথম মেয়াদে (২০১৪–২০১৯) স্বচ্ছ ভারত, জন ধন যোজনা, ডিজিটাল ইন্ডিয়ার মতো সংস্কারমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়। দ্বিতীয় মেয়াদে (২০১৯–২০২৪) ৩৭০ ধারা বাতিল, COVID-19 মহামারী ব্যবস্থাপনা এবং আত্মনির্ভর ভারত প্রকল্প ছিল প্রধান আলোচনার বিষয়। তৃতীয় মেয়াদে (২০২৪–বর্তমান) অবকাঠামো, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মোদির নেতৃত্বে ভারত G20 শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করেছে, চন্দ্রযান মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে এবং EU-India Comprehensive Strategic Agenda স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই সামগ্রিক প্রেক্ষাপটই মোদির মেয়াদকে কেবল দৈর্ঘ্যের রেকর্ড নয়, কর্মের বিচারেও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।

আসাম বরাক উপত্যকায় প্রভাব

মোদির দীর্ঘ শাসনকাল উত্তর-পূর্ব ভারত, বিশেষত আসাম ও বরাক উপত্যকার জন্যও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে। হাইলাকান্দি জেলার লালা টাউনসহ বরাক উপত্যকায় গত এক দশকে রেলওয়ে সম্প্রসারণ, জাতীয় সড়ক উন্নয়ন, আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্যবিমা এবং উজ্জ্বলা গ্যাস যোজনার মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। এই প্রকল্পগুলোর ধারাবাহিকতার পেছনে একটি স্থিতিশীল কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

স্থানীয় পর্যায়ে PM কিষাণ সম্মান নিধি ও কিষাণ ক্রেডিট কার্ড প্রকল্পের সুবিধাভোগী হাইলাকান্দির কৃষকরা এই দীর্ঘ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। অন্যদিকে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন, দীর্ঘ একই নেতৃত্বে স্থানীয় সমস্যাগুলো কখনো যথেষ্ট মনোযোগ পায় না। বরাক উপত্যকার সাধারণ মানুষের কাছে এই দুই দৃষ্টিভঙ্গিই সমান প্রাসঙ্গিক।

আগামী দিনের রাজনীতি প্রত্যাশা

এই রেকর্ড মাইলফলক ছুঁয়ে মোদির সামনে এখন নতুন প্রশ্ন: দীর্ঘতম মেয়াদের এই স্বীকৃতি তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে কীভাবে সংজ্ঞায়িত করবে? বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা এই মাইলফলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং ভারতের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্থানের সঙ্গে তাঁর নাম জুড়ে দিয়েছেন। বিশ্বমঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এই মেয়াদের একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবু, মোদি দীর্ঘতম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হওয়ার এই রেকর্ড দেশীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্কও উসকে দিচ্ছে। বিরোধী দলগুলো দীর্ঘ একক নেতৃত্বের নানা সমালোচনা তুলছে। কিন্তু ইতিহাসের বিচারে এটুকু নিশ্চিত যে নরেন্দ্র মোদি ভারতের নির্বাচনী গণতন্ত্রের ইতিহাসে এমন এক স্থানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেন যেখানে এর আগে কেউ পৌঁছাননি। আগামী নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিবর্তনই নির্ধারণ করবে, এই দীর্ঘ যাত্রার মূল্যায়ন ইতিহাস কীভাবে করবে।

মোদি দীর্ঘতম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেহরুর রেকর্ড ভাঙলেন
Scroll to top