বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন? থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া বা জাপান — যেকোনো গন্তব্যেই যাওয়ার আগে এশিয়া ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স কেনাটা এখন একটি অপরিহার্য পদক্ষেপ হয়ে উঠেছে। ২০২৬ সালে ভারতীয় পর্যটকের সংখ্যা এশিয়ার নানা দেশে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে — আর সেই সঙ্গে বাড়ছে বিদেশে চিকিৎসা খরচ, ফ্লাইট বাতিল ও ব্যাগেজ সংক্রান্ত সমস্যার ঘটনাও। Niva Bupa, Care Insurance ও Policybazaar-এর তথ্যমতে, এশিয়া ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স ইউরোপ বা আমেরিকার তুলনায় সস্তা এবং ব্যাপক কভারেজ দেয় — তবে কী কী আচ্ছাদিত এবং কী কী নয়, সেটা বিস্তারিত বোঝা না হলে জরুরি মুহূর্তে বিমার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এশিয়া ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্সে কী কী কভার করা হয়
একটি মানসম্পন্ন এশিয়া ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স পলিসি দুটি প্রধান বিভাগে সুবিধা দেয় — চিকিৎসা সংক্রান্ত এবং যাত্রা সংক্রান্ত। New India Assurance-এর Overseas Travel Ease Policy-র তথ্যমতে, চিকিৎসা সংক্রান্ত কভারেজে সাধারণত থাকে: বিদেশে হঠাৎ অসুস্থতা বা দুর্ঘটনায় হাসপাতালের খরচ, জরুরি দন্তচিকিৎসা, চিকিৎসা নিকাশি (medical evacuation), মৃত্যুর পর দেহ ফেরত পাঠানোর খরচ (repatriation) এবং হাসপাতাল ক্যাশ।
যাত্রা সংক্রান্ত কভারেজে থাকে: ফ্লাইট মিস হওয়া, ট্রিপ বাতিল, পাসপোর্ট হারানো, জরুরি আর্থিক সহায়তা, চেক-ইন ব্যাগেজ হারানো বা দেরি হওয়া। এছাড়া ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা বিমা, হাইজ্যাক ভাতা এবং ব্যক্তিগত দায় (personal liability)-ও অনেক পলিসিতে অন্তর্ভুক্ত থাকে। Royal Sundaram-এর পরামর্শ অনুযায়ী, চিকিৎসা নিকাশির জন্য কমপক্ষে ৫০ লক্ষ টাকার কভারেজ থাকে এমন পলিসি বেছে নেওয়া উচিত।
পলিসির ধরন ও খরচ — কোনটি কতে পাওয়া যায়
NRIOL-এর তথ্য অনুযায়ী, ২৫ বছরের ভারতীয় পর্যটকের জন্য এশিয়া ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্সের মাসিক প্রিমিয়াম পলিসির ধরনভেদে ৬৬৫ থেকে ৯২৮ টাকার মধ্যে — অর্থাৎ দৈনিক মাত্র ২২–৩১ টাকায় ভ্রমণ সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব। পলিসির কভার পরিমাণ সাধারণত USD ১০,০০০ থেকে USD ৫,০০,০০০ পর্যন্ত হয়। Policybazaar ও HDFC ERGO-এর মতো প্ল্যাটফর্মে অনলাইনে তুলনা করে কেনার সুবিধা আছে, এবং কোনো মেডিক্যাল পরীক্ষার প্রয়োজন নেই।
এশিয়া ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স কেনার ক্ষেত্রে TATA AIG, Bajaj Allianz, ICICI Lombard, Reliance Travel Care ও Care Insurance-সহ বেশ কয়েকটি ভারতীয় বিমা সংস্থা আলাদাভাবে এশিয়াভিত্তিক পরিকল্পনা অফার করে। NRIOL জানিয়েছে, কিছু কোম্পানি জাপান ও কোরিয়াকে এশিয়া প্ল্যানের বাইরে রাখে, তাই গন্তব্য অনুযায়ী নির্দিষ্ট কভারেজ আছে কিনা যাচাই করা জরুরি। অনলাইনে সর্বাধিক ৬ মাস পর্যন্ত এবং কিছু ক্ষেত্রে ৬০ বছরের নিচে ভ্রমণকারীদের জন্য ৩৬০ দিন পর্যন্ত পলিসি কেনার সুযোগ রয়েছে।
কী কী বাদ থাকে — এক্সক্লুশন মনোযোগ দিয়ে পড়ুন
এশিয়া ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স নেওয়ার আগে পলিসির এক্সক্লুশন বা বাদের তালিকাটি মনোযোগ দিয়ে পড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। NRIOL-এর তথ্যমতে, সাধারণত যা বাদ পড়ে সেগুলো হল: এক্সট্রিম স্পোর্টস বা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম, সরকারি ভ্রমণ সতর্কতাযুক্ত দেশে ভ্রমণ, মদ বা নেশাজাতীয় পদার্থের কারণে সংঘটিত ঘটনা, এবং পূর্বের চিকিৎসা ইতিহাস (pre-existing conditions)। তবে কিছু বিমা সংস্থা জীবন-সংকটকারী পরিস্থিতিতে পূর্বের অবস্থার কভারেজ দেয় — সেই বিষয়টি পলিসি কেনার আগে স্পষ্ট করে নেওয়া উচিত।
ক্লেম করার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতের কাছে রাখুন: চিকিৎসার নথি, খরচের রসিদ, পুলিশ রিপোর্ট (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এবং অন্যান্য প্রমাণ। NRIOL-এর পরামর্শ অনুযায়ী, যারা ইতিমধ্যে বিদেশে আছেন এবং বিমা ছাড়া রয়েছেন, তারাও বিশেষ অনুমোদনের মাধ্যমে কিছু প্ল্যাটফর্মে অনলাইনে পলিসি কিনতে পারেন।
আসামের পর্যটক ও হাইলাকান্দির বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ পরামর্শ
হাইলাকান্দি জেলাসহ সমগ্র বরাক উপত্যকার মানুষের মধ্যে বিদেশ ভ্রমণের প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে — বিশেষত থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া এখন আর শুধু বড় শহরের মানুষের গন্তব্য নয়, লালা, শিলচর ও করিমগঞ্জ থেকেও পর্যটকরা এই দেশগুলিতে যাচ্ছেন। Policybazaar ও MakeMyTrip-এর মতো প্ল্যাটফর্মে বাংলায় নির্দেশিকা না থাকলেও প্রক্রিয়াটি সহজ — মোবাইলে অনলাইনে ৫-১০ মিনিটেই এশিয়া ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স পলিসি কেনা যায়।
বিশেষভাবে মনে রাখার বিষয়: প্রবাসী ভারতীয় হিসেবে বা ভিসা আবেদনের সময় কিছু দেশে ভ্রমণ বিমা বাধ্যতামূলক। বরাক উপত্যকার অনেকেই আত্মীয়ের বাড়ি যাওয়ার সুবিধার কথা ভেবে বিমা করেন না — কিন্তু বিদেশে হাসপাতালে ভর্তির একটি সপ্তাহের খরচ বিমার পুরো প্রিমিয়ামের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি হয়ে যেতে পারে। Care Insurance-এর ওয়েবসাইট অনুযায়ী, মাত্র ১৬ টাকা প্রতিদিনের বিনিময়ে এশিয়া ভ্রমণের পুরো সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব।
বিদেশ ভ্রমণের প্রস্তুতিতে টিকেট ও হোটেল বুকিংয়ের পাশাপাশি এশিয়া ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স কেনাটাকে বাধ্যতামূলক ধাপ হিসেবে বিবেচনা করুন। বিমার কভারেজ, প্রিমিয়াম ও এক্সক্লুশন তুলনা করতে Policybazaar বা Asianet News-এর ২০২৬ সালের তুলনামূলক তালিকা ব্যবহার করা যেতে পারে। মনে রাখবেন — জরুরি পরিস্থিতিতে বিমার ২৪×৭ সহায়তা নম্বর সবসময় সঙ্গে রাখুন; বিদেশে একা পড়ে যাওয়ার সময় সেই একটি নম্বরই আপনার সবচেয়ে বড় ভরসা।