Read today's news --> ⚡️Click here 

আসামের রাজ্যপালের কনভয় ৭০ শতাংশ হ্রাস — মোদির জ্বালানি সংরক্ষণ আহ্বানে আসাম মন্ত্রিসভার ব্যাপক মিতব্যয়িতা ঘোষণা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জ্বালানি সংরক্ষণের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আসামের রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্য ১৩ মে ২০২৬ তারিখে তাঁর সরকারি কনভয়ের আকার ৭০ শতাংশ কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন। একই দিনে আসাম মন্ত্রিসভাও একগুচ্ছ মিতব্যয়িতা ব্যবস্থা অনুমোদন করেছে — যার মধ্যে রয়েছে ছয় মাসের জন্য নতুন সরকারি যান কেনা বন্ধ, বিদেশ সফরে নিষেধাজ্ঞা এবং জ্বালানি ব্যয় ২০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ। আসামের রাজ্যপালের কনভয় ৭০ শতাংশ হ্রাসের এই পদক্ষেপ জাতীয় স্তরে মোদির উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাজ্যের প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে একটি নতুন বার্তা পাঠাচ্ছে।

রাজ্যপালের পদক্ষেপ — কনভয় কাটছাঁট লোক ভবনে বিদ্যুৎ সাশ্রয়

রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্যের দপ্তর থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে — এই নতুন ঘোষণার আগেই তিনি মানক জ্বালানি ব্যবহারে ১০ শতাংশ হ্রাসের নির্দেশ দিয়েছিলেন; এটি তাঁর চলমান সম্পদ সংরক্ষণ নীতির অংশ। এবার কনভয়ের আকার ৭০ শতাংশ কমানোর পাশাপাশি গুয়াহাটির লোক ভবনে বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর জন্যও নতুন ব্যবস্থা চালু হয়েছে।

আসামের রাজ্যপাল একা নন — হিমাচল প্রদেশের রাজ্যপাল কবিন্দর গুপ্তাও তাঁর কনভয় ৫০ শতাংশ কমিয়েছেন এবং লোক ভবনে ‘পেট্রোল-ফ্রি সানডে’ চালু করেছেন। জাতীয় স্তরে খোদ প্রধানমন্ত্রী মোদি গুজরাট ও আসাম সফরের সময় তাঁর নিজের কনভয় ৫০ শতাংশ কমিয়েছিলেন এবং Special Protection Group (SPG)-কে নতুন গাড়ি না কিনে ইলেকট্রিক যান ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও তাঁর কনভয় অর্ধেকে নামিয়েছেন বলে  জানিয়েছে।

হিমন্ত মন্ত্রিসভার দফা মিতব্যয়িতা সিদ্ধান্ত

আসামের রাজ্যপালের কনভয় কাটছাঁটের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে যে সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয়েছে সেগুলো  বিস্তারিত জানা গেছে:

প্রথম: রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তাদের সব কনভয়ের আকার কমপক্ষে পরবর্তী ছয় মাসের জন্য ছোট করা হবে। হিমন্ত শর্মা নিজেই এই নির্দেশের কথা প্রকাশ্যে বলেছেন।

দ্বিতীয়: আগামী ছয় মাস কোনো নতুন সরকারি যান কেনা হবে না — এমনকি সদ্য শপথ নেওয়া মন্ত্রীদের জন্যও নয়। তাঁদের বিদ্যমান গাড়িতেই চলতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “আমরা বিদ্যমান গাড়িই চালিয়ে যাব।”

তৃতীয়: সরকারি দপ্তরে পেট্রোল ও ডিজেলের খরচ গত অর্থবছরের তুলনায় ২০ শতাংশ কমাতে হবে।

চতুর্থ: চিকিৎসা জরুরিকালীন অবস্থা ছাড়া পরবর্তী ছয় মাস কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা মন্ত্রী বিদেশ সফর করতে পারবেন না।

পঞ্চম: শারীরিক সেমিনার ও সভা বন্ধ রেখে অনলাইনে বৈঠকের ব্যবস্থা করা হবে — জ্বালানি ও বৈদেশিক মুদ্রা উভয়ই বাঁচাবে।

ষষ্ঠ: ১৫ থেকে ২০ বছরের পুরনো পেট্রোল ও ডিজেল চালিত সরকারি যান পর্যায়ক্রমে বাতিল করা হবে এবং ইলেকট্রিক গাড়ি ভাড়া নেওয়ার দিকে সরকার ঝুঁকবে। বিদেশি পণ্য — মোবাইল ফোনসহ — সরকারি ক্রয়তালিকা থেকে বাদ পড়বে।

কেন এই পদক্ষেপ — বৈশ্বিক সংকটের পটভূমি

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এই সব পদক্ষেপের মূল কারণ। প্রধানমন্ত্রী মোদি সাম্প্রতিককালে তাঁর সাত দফা আহ্বানে সতর্ক করেছিলেন যে পশ্চিম এশিয়ার সামরিক সংকট COVID মহামারির চেয়েও মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে যদি জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়। ভারতে তেল আমদানি বিল বিদেশি মুদ্রার বৃহত্তম ব্যয়খাত — এই সংকটে তেলের দাম বাড়লে সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপ পড়ে। এপ্রিল ২০২৬-এ ভারতের WPI মুদ্রাস্ফীতি ৮.৩০ শতাংশে পৌঁছেছে — যার মূল চালক ছিল জ্বালানি খাতে ২৪.৭১ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি। এই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পদক্ষেপ একটি দৃষ্টান্তমূলক বার্তা — রাষ্ট্র নিজে সংযমী হলে সাধারণ মানুষও উৎসাহিত হবেন।

হাইলাকান্দি বরাক উপত্যকায় এই সিদ্ধান্তের প্রাসঙ্গিকতা

আসামের রাজ্যপালের কনভয় ৭০ শতাংশ হ্রাস ও মন্ত্রিসভার মিতব্যয়িতা সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব হাইলাকান্দি জেলাতেও পড়তে পারে। সরকারি জ্বালানি ব্যয় ২০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ রাজ্যের সব জেলা প্রশাসনের জন্য প্রযোজ্য — অর্থাৎ হাইলাকান্দি জেলা প্রশাসন, DRDA ও অন্যান্য সরকারি দপ্তরেও এই নির্দেশ মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি, ১৫-২০ বছরের পুরনো সরকারি যান বাতিলের পরিকল্পনা জেলার স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থায় ইলেকট্রিক গাড়ির প্রসারে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

লালা টাউনের মতো আধা-শহর এলাকায় জ্বালানির দাম এবং পরিবহন ভাড়া সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে যুক্ত। সরকার যদি জ্বালানি ব্যয়ে প্রকৃত রাশ টানতে পারে এবং বৈশ্বিক তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে খুচরা বাজারে পেট্রোল-ডিজেলের দাম না বাড়ার একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়। পরবর্তী ছয় মাস হবে এই মিতব্যয়িতা সিদ্ধান্তগুলির প্রকৃত পরীক্ষার সময়। আসামের রাজ্যপালের কনভয় হ্রাস এবং মন্ত্রিসভার ঘোষণাগুলি কাগজে-কলমে যতটা দৃঢ়, বাস্তবে তার প্রতিফলন কতটা হয়, সেটাই সাধারণ মানুষের কাছে মূল প্রশ্ন। হিমন্ত শর্মা এই সিদ্ধান্তগুলিকে কেবল সংকটকালীন ব্যবস্থা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী প্রশাসনিক শৃঙ্খলার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন — সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রয়োগ অনুসরণ করা রাজ্যের নাগরিকদের অধিকার।

আসামের রাজ্যপালের কনভয় ৭০ শতাংশ হ্রাস — মোদির জ্বালানি সংরক্ষণ আহ্বানে আসাম মন্ত্রিসভার ব্যাপক মিতব্যয়িতা ঘোষণা
Scroll to top