শিলচর হিট অ্যান্ড রান দুর্ঘটনায় মহর্ষি বিদ্যামন্দিরের এক শিক্ষকের প্রাণহানি ঘটেছে। বুধবার ভোরে শিলচরের ISBT এলাকার কাছে একটি দ্রুতগামী যানবাহনের ধাক্কায় প্রাণ হারান ৫৩ বছর বয়সী বিরেশ্বর ভট্টাচার্য। তিনি শিলচরের পাবলিক স্কুল রোডের বাসিন্দা ছিলেন এবং শিলচর মহর্ষি বিদ্যামন্দিরে শিক্ষকতা করতেন। ঘাতক গাড়িটি ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়, এবং আহত শিক্ষককে যথাসময়ে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
CM-এর শপথ অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে বিপর্যয়
বিরেশ্বর ভট্টাচার্য সেদিন গুয়াহাটিতে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার দ্বিতীয় মেয়াদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে শিলচরে নিজের বাড়ি ফেরার পথে ISBT এলাকার কাছে তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন। রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি উজ্জ্বল মুহূর্তে অংশ নিতে গিয়ে যে মানুষটি বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন, তিনি আর ফিরলেন না — এই নির্মম বৈপরীত্য ঘটনাটিকে আরও বেদনাদায়ক করে তুলেছে। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ভোরের আবছা আলোয় দ্রুতগতির গাড়িটি তাঁকে ধাক্কা দিয়ে থামেনি, বরং ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়।
শিলচরে বারবার hit-and-run: পরিচিত দুর্ভোগের নতুন অধ্যায়
বিরেশ্বর ভট্টাচার্যের শিলচর হিট অ্যান্ড রান দুর্ঘটনায় মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। কাছাড় জেলায় এ ধরনের দুর্ঘটনার ধারা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। শিলচরের রামনগর এলাকায় জেলা প্রশাসনের এক গাড়িচালক রাতের বেলা একটি বেপরোয়া SUV-এর ধাক্কায় প্রাণ হারান — সেই গাড়িতে নম্বর প্লেটও ছিল না। কাছাড় জেলার বিভিন্ন অংশে নিবন্ধনহীন বা বেপরোয়া গাড়ি চালানো এখন একটি গুরুতর সমস্যায় পরিণত হয়েছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে নিরীহ পথচারীদের। শিলচর ISBT-র মতো ব্যস্ত এলাকায় ভোরের দিকে পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই বলেই এই দুর্ঘটনাগুলো বারবার ঘটছে।
মহর্ষি বিদ্যামন্দির ও শিক্ষক সমাজে শোকের ছায়া
শিলচরের মহর্ষি বিদ্যামন্দির বরাক উপত্যকার একটি পরিচিত ও সম্মানিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বিরেশ্বর ভট্টাচার্য দীর্ঘদিন এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাদানে নিবেদিত ছিলেন। তাঁর অকাল মৃত্যুতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও অভিভাবকদের মধ্যে গভীর শোকের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে শোকবার্তায় ভরে গেছে শিলচর ও কাছাড়ের বিভিন্ন পেজ। ফেসবুক পোস্টে এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পরেই বহু মানুষ তাঁকে শ্রদ্ধা জানান এবং ঘটনার বিচার দাবি করেন। শিক্ষকদের এভাবে রাস্তায় প্রাণ দিতে হবে — এই প্রশ্নটি শিলচরের সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
লালা ও হাইলাকান্দির পাঠকদের জন্য বার্তা
হাইলাকান্দি জেলার লালা, কাটলিছড়া ও আলগাপুরের মানুষেরা নিয়মিত চিকিৎসা, পরিবহন ও ব্যবসার কাজে শিলচরে আসেন। শিলচরের ISBT এলাকাটি এই অঞ্চলের মানুষের কাছে পরিচিত — বাস ধরতে বা ছাড়তে এখানে ভিড় লেগেই থাকে। এই ব্যস্ত এলাকায় ভোরবেলা এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা হাইলাকান্দির যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে দেয়। বরাক উপত্যকার প্রতিটি জেলার মানুষই শিলচর শহরের সড়ক নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত।
তদন্ত ও প্রশাসনিক দায়িত্ব
এই শিলচর হিট অ্যান্ড রান মামলায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। তবে এর আগেও শিলচরে hit-and-run ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে, গাড়ি উদ্ধার হয়েছে, কিন্তু চালকদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত হয়নি। এই প্যাটার্ন বারবার দেখা যাচ্ছে। শিলচর শহরের প্রধান সড়কগুলিতে CCTV নজরদারি বাড়ানো, রাতে ও ভোরে ট্রাফিক টহল জোরদার করা এবং hit-and-run মামলায় দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
বিরেশ্বর ভট্টাচার্যের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয় — এটি বরাক উপত্যকার শিক্ষা সমাজের একটি অপূরণীয় শূন্যতা। তাঁর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি, এই ঘটনায় দোষী চালককে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের মুখোমুখি করাই এখন সবচেয়ে জরুরি দাবি। প্রশাসন যদি এই মৃত্যু থেকে সত্যিকারের শিক্ষা নেয় এবং শিলচরের রাস্তায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, তবেই এই শোক কিছুটা অর্থবহ হতে পারে।