Read today's news --> ⚡️Click here 

বরাক উপত্যকায় জলাবদ্ধতায় ভুগছে শিলচর-হাইলাকান্দি

টানা ভারী বৃষ্টির জেরে বরাক উপত্যকায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টার প্রবল বর্ষণে শিলচর, হাইলাকান্দি এবং কাছাড় জেলার একাধিক নিচু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট, বাজার এবং আবাসিক এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান জল জমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, দক্ষিণ আসামের বিভিন্ন জেলায় আগামী কয়েক দিন আরও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং টানা বর্ষণের কারণে দ্রুত জল নামতে পারছে না। শিলচরের বহু গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়েছে। হাইলাকান্দির কয়েকটি গ্রামীণ এলাকায় বাড়িঘরে জল ঢুকে পড়ার খবরও পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা এলেই একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ এখনও চোখে পড়ছে না।

বরাক উপত্যকায় জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত শহরাঞ্চল

বরাক উপত্যকায় জলাবদ্ধতার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে শিলচর শহর ও আশপাশের এলাকায়। শহরের মালুগ্রাম, তারাপুর, রঙ্গিরখাড়ি এবং ফটকবাজারের মতো এলাকায় রাস্তায় জল জমে যান চলাচল প্রায় থমকে যায়। অফিসগামী মানুষ, স্কুল পড়ুয়া এবং ছোট ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একাংশ জানান, সকাল থেকেই বাজার এলাকায় ক্রেতার সংখ্যা কমে গেছে এবং দোকানে জল ঢুকে ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বরাক উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত নগরায়ন এবং অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে শহরাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সমস্যা আরও তীব্র হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন কয়েকটি এলাকায় পাম্প বসিয়ে জল সরানোর কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছে।

একজন প্রশাসনিক আধিকারিক বলেন, “নিচু এলাকাগুলিতে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।” যদিও এখনও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি, তবুও আবহাওয়ার পূর্বাভাস ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে।

ভারী বৃষ্টি আসামে বাড়াচ্ছে বন্যার আশঙ্কা

ভারী বৃষ্টি আসামে নতুন করে বন্যার আশঙ্কাও তৈরি করেছে। বরাক নদী এবং তার শাখানদীগুলির জলস্তর ধীরে ধীরে বাড়ছে বলে জলসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে। যদিও এখনও বিপদসীমা অতিক্রম করেনি, তবুও প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় আরও ভারী বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে।

অসম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (ASDMA) ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলা প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছে। জরুরি পরিস্থিতির জন্য ত্রাণ শিবির এবং উদ্ধারকারী সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার কথাও বলা হয়েছে। স্থানীয় মানুষদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে নদীর ধারে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগরে তৈরি নিম্নচাপের প্রভাবেই দক্ষিণ আসামে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে এই ধরনের অতিবৃষ্টি বরাক উপত্যকায় জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। গত কয়েক বছরেও বর্ষাকালে একই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে শিলচর ও হাইলাকান্দি।

হাইলাকান্দি লালা টাউনে বাড়ছে উদ্বেগ

হাইলাকান্দি জেলার বহু এলাকায় টানা বৃষ্টির ফলে জল জমে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ রাস্তাগুলিতে কাদা ও জল জমে যান চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। লালা টাউন ও আশপাশের এলাকাতেও নিকাশি সমস্যার কারণে বেশ কিছু জায়গায় জল জমার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানান, বাজার এলাকা এবং ছোট রাস্তাগুলিতে ড্রেন পরিষ্কার না হওয়ায় বৃষ্টির জল দ্রুত নামছে না। কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবাও সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে জানা গেছে। স্কুলপড়ুয়া ও দৈনিক যাত্রীদের সমস্যাও বেড়েছে।

লালা টাউনের ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা নিয়মিত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁরা দ্রুত ড্রেন সংস্কার এবং জল নিষ্কাশনের স্থায়ী পরিকল্পনার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় সমাজকর্মীদের মতে, প্রতি বছর অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবেই সমস্যা থেকে যাচ্ছে।

আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়া নিয়ে সতর্কতা

আবহাওয়া দপ্তর আগামী কয়েক দিন দক্ষিণ আসামের বিভিন্ন জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা জানিয়েছে। প্রশাসন সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজনে নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে নদী সংলগ্ন এবং নিচু এলাকার বাসিন্দাদের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বরাক উপত্যকায় জলাবদ্ধতা শুধু প্রাকৃতিক কারণেই নয়, বরং অপরিকল্পিত নগর উন্নয়নের ফলেও বাড়ছে। দ্রুত নগরায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত না হলে ভবিষ্যতে এই সমস্যা আরও তীব্র হতে পারে।

এখন সকলের নজর আবহাওয়ার পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে। যদি আগামী কয়েক দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকে, তাহলে বরাক উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বরাক উপত্যকায় জলাবদ্ধতায় ভুগছে শিলচর-হাইলাকান্দি
Scroll to top