Read today's news --> ⚡️Click here 

বাসিষ্ঠা নদী থেকে নিখোঁজ আখতার আলির মরদেহ উদ্ধার, গুয়াহাটি বন্যায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে

মঙ্গলবার সকালে গুয়াহাটির সৌকুচি তিনিয়ালি এলাকায় বাসিষ্ঠা নদী থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে আখতার আলি হিসেবে, যিনি রবিবার রাতের ভারী বৃষ্টি ও বন্যার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে নদীতে ভাসতে থাকা মরদেহটি দেখতে পান এবং তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেন। বাসিষ্ঠা নদী থেকে মরদেহ উদ্ধারের এই ঘটনা ১৯ এপ্রিলের ভারী বর্ষণে গুয়াহাটিতে সৃষ্ট প্রাণঘাতী পরিস্থিতিকে আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে। মাত্র একদিন আগে মালিগাঁওয়ে পায়েল নাথের খোলা নালায় তলিয়ে যাওয়ার মৃত্যুর পর এই দ্বিতীয় প্রাণহানি শহরজুড়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আখতার আলি কীভাবে নিখোঁজ হলেন: ঘটনার পুনর্গঠন

রবিবার ১৯ এপ্রিল রাতে গুয়াহাটিতে একটানা ভারী বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত প্লাবিত হয়। সৌকুচি এলাকাও এই জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পায়নি। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সেই রাতেই আখতার আলি বাড়ি থেকে বের হন এবং আর ফিরে আসেননি। পরিজনরা রাত থেকেই তাঁকে খোঁজতে শুরু করেন। সোমবার পুলিশে নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করা হয়। তারপর মঙ্গলবার ২১ এপ্রিল ভোরের দিকে সৌকুচি তিনিয়ালিতে বাসিষ্ঠা নদীর জলে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পান স্থানীয়রা।

এই ঘটনার সঙ্গে পায়েল নাথের মৃত্যুর মধ্যে একটি স্পষ্ট মিল রয়েছে। দুটি ঘটনাতেই ভারী বৃষ্টি ও বন্যার জলে ভিজে যাওয়া রাস্তায় রাতের অন্ধকারে মানুষ পথ হারিয়ে বিপদে পড়েছেন। পায়েল নাথ মালিগাঁও চারিয়ালিতে একটি ঢাকনাহীন নালায় পড়ে যান। উদ্ধারকারী দল চার ঘণ্টারও বেশি সময় অনুসন্ধান চালিয়ে তাঁকে প্রায় ১৫০ মিটার দূরে নালার মধ্যে অচেতন অবস্থায় খুঁজে পায়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এই দুটি মৃত্যু মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১৯ এপ্রিলের বন্যায় গুয়াহাটিতে কমপক্ষে দুজনের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত হয়েছে।

বাসিষ্ঠা নদী গুয়াহাটির বন্যা: বিপজ্জনক সমীকরণ

বাসিষ্ঠা নদী গুয়াহাটির দক্ষিণ দিকের একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী, যা মেঘালয়ের পাহাড় থেকে নেমে শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ব্রহ্মপুত্রে মেশে। ভারী বৃষ্টিতে এই নদীর জলস্তর দ্রুত বেড়ে যায় এবং নদীতীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়। ২০২৫ সালের আগস্টে হাটিগাঁওয়ে বাসিষ্ঠার শাখানদী খাঙ্কা বাসিষ্ঠায় একটি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ ভাসতে দেখা গিয়েছিল — সেবারও স্থানীয়রা সতর্ক করার পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। অর্থাৎ এই ধরনের ঘটনা গুয়াহাটিতে প্রথমবার নয়। শহরের নিকাশি ব্যর্থতার কারণে রাস্তার জল নদীতে মেশে, নদীর জল রাস্তায় আসে এবং এই মিলিত প্রবাহে মানুষ বিপদে পড়েন।

 ভরলু নদীর মতো বাসিষ্ঠাও শহরের নিকাশি চ্যানেল হিসেবে ব্যবহৃত হয়, এবং তীরে অবৈধ নির্মাণ ও দখলদারিত্বের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত। ভারী বৃষ্টির সময় এই নদীগুলো রাস্তার বাড়তি জলে ফুলে উঠলে নদীতীরের বাসিন্দাদের পাশাপাশি রাস্তায় চলাফেরা করা সাধারণ মানুষও ঝুঁকির মুখে পড়েন।

কাছাড়ে আরেকটি ডুবে মৃত্যু: বরাক উপত্যকার একই চিত্র

১৯ এপ্রিলের বন্যায় শুধু গুয়াহাটি নয়, বরাক উপত্যকাতেও মানুষের প্রাণ গেছে। ১৬ এপ্রিলের একটি প্রতিবেদনে জানা গেছে, কাছাড় জেলায় লাংরাং নদীতে ২৬ বছর বয়সী কিরণ গোয়ালা নামে একজন যুবক ডুবে মারা যান। তিনি বুধবার বিকেলে নদীতে স্নান করতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি। পরিবার রাতভর খোঁজার পরে পরের দিন সকালে নদীতে তাঁর মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। বলরাম বরুয়া, স্থানীয় VDP সম্পাদক, জানিয়েছেন যে নদীর তীরে কিরণের সাবানকেস, গামছা ও স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। কালাইন থানায় নিখোঁজ রিপোর্ট দায়েরের পরেই পরদিন মরদেহ পাওয়া যায়।

কাছাড়ের এই ঘটনা এবং গুয়াহাটির আখতার আলি ও পায়েল নাথের মৃত্যু — সবগুলোই একটি বৃহত্তর সত্যকে সামনে নিয়ে আসছে। এপ্রিল মাসে — বর্ষার মৌসুম শুরুর আগেই — আসামে নদী ও বন্যার জলে মানুষের প্রাণ যাচ্ছে। জুন থেকে সেপ্টেম্বরের পূর্ণ বর্ষায় এই মৃত্যুর হার কতটা বাড়তে পারে, সেটা সহজেই অনুমান করা যায়।

হাইলাকান্দি লালার জন্য প্রাসঙ্গিক সতর্কতা

গুয়াহাটি ও কাছাড়ের এই ঘটনাগুলো হাইলাকান্দি জেলা এবং লালা টাউনের বাসিন্দাদের কাছে কোনো দূরের খবর নয়। লালা টাউনের পাশ দিয়ে বয়ে চলা স্থানীয় নদী ও নালাগুলো বর্ষায় দ্রুত ফুলে ওঠে। শহরের ভেতরের নালাগুলোতে ঢাকনার অভাব এবং রাতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষায় পথচারীদের বিপদের আশঙ্কা থেকে যায়। কিরণ গোয়ালার মতো নদীতে স্নান করতে গিয়ে দুর্ঘটনা বরাক উপত্যকার গ্রামাঞ্চলে প্রতি বছরই ঘটে থাকে। কিন্তু এসব দুর্ঘটনার পর উদ্ধার দল পৌঁছাতে অনেক সময় দেরি হয়, কারণ দূরত্ব বেশি এবং SDRF-এর উপস্থিতি সীমিত।

লালা বাজার এলাকার বাসিন্দাদের প্রতি বর্ষা মৌসুমে কিছু সতর্কতামূলক পরামর্শ এই মুহূর্তে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক — রাতের বেলায় বৃষ্টির সময় অপরিচিত রাস্তায় না হাঁটা, নদী বা পুকুরে একা স্নান না করা, এবং শিশুদের বন্যার জলের কাছ থেকে দূরে রাখা।

গুয়াহাটিতে বাসিষ্ঠা নদী থেকে মরদেহ উদ্ধারের এই ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরেই স্পষ্ট হবে ঠিক কীভাবে আখতার আলির মৃত্যু হয়েছে এবং এই মৃত্যু দুর্ঘটনা, নাকি অন্য কোনো কারণ এর পেছনে আছে কি না। এই মুহূর্তে যা স্পষ্ট — ১৯ এপ্রিলের একটি রাতের বৃষ্টিতে গুয়াহাটি শহর যে বিপদ তৈরি করেছে, তার মানবিক মূল্য কেবল ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তি বা বন্ধ রাস্তায় সীমাবদ্ধ নেই — সেই মূল্য দিতে হচ্ছে মানুষের প্রাণ দিয়ে।

বাসিষ্ঠা নদী থেকে নিখোঁজ আখতার আলির মরদেহ উদ্ধার, গুয়াহাটি বন্যায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে
Scroll to top