Read today's news --> ⚡️Click here 

COCOMI মিছিলে উত্তেজনা ইম্ফলে: CM বাসভবন অভিমুখে যাত্রায় পুলিশের কাঁদানে গ্যাস

মণিপুরের রাজধানী ইম্ফলে ২৫ এপ্রিল ২০২৬ শনিবার দুপুরে COCOMI — অর্থাৎ কো-অর্ডিনেটিং কমিটি অন মণিপুর ইন্টেগ্রিটি — পরিচালিত একটি বিশাল মিছিল উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে রূপ নেয়। মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিং-এর সরকারি বাসভবন অভিমুখে মার্চ করার সময় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘাত শুরু হলে নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কোনো বড় ধরনের হতাহতের খবর না পাওয়া গেলেও পরিস্থিতি দীর্ঘক্ষণ উত্তেজনাপূর্ণ ছিল।

ছয় দফা দাবি নিয়ে CM বাসভবন অভিমুখে মার্চ

দুপুর ১টা নাগাদ COCOMI মিছিলটি একযোগে ইম্ফলের একাধিক এলাকা থেকে শুরু হয়। লামলং বাজার, লামবোই খংনংখং, কাকওয়া কেইথেল, টিডিম গ্রাউন্ড, হাও গ্রাউন্ড ও ওরিয়েন্টাল কলেজ চত্বর থেকে বিক্ষোভকারীরা জমায়েত হন। কেইশামথং, ওয়াংঙোই ও খাঙেমবাল্লি এলাকার বাসিন্দারাও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় এই মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। সবাই পরে টিডিম রোডে একত্রিত হয়ে CM-এর বাসভবনের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন।

COCOMI মিছিলের মূল উদ্দেশ্য ছিল মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ছয়টি দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া। এই দাবিগুলোর মধ্যে ছিল: অভিযুক্ত “প্রক্সি যুদ্ধ” ও নার্কো-সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে জবাব চাওয়া, সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের জন্য জবাবদিহিতা, CRPF গুলিচালনায় তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত, অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, কুকি বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সাসপেনশন অফ অপারেশন (SoO) চুক্তি বাতিল এবং সামগ্রিকভাবে মণিপুরে শান্তি ও স্বাভাবিক জীবনযাপন পুনরুদ্ধার।

ইমা কেইথেলে আতঙ্ক: দোকানদার ক্রেতারা ছুটে পালান

COCOMI মিছিল যত এগিয়ে যায়, খোয়াইরাম্বন্দ ইমা কেইথেল বাজারের কাছে পরিস্থিতি বিশেষভাবে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে পড়ে। সেখানে বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে তাঁদের প্রতিনিধিদের CM-এর সঙ্গে বৈঠকের ফলের অপেক্ষায় ছিলেন। জনস্টোন স্কুলের কাছেও ভিড় জমে ওঠে। পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে স্লিং ও ক্যাটাপুল্ট উদ্ধার করেছে এবং কয়েকজনকে আটক করেছে।

ইমা কেইথেল এলাকায় দ্বিতীয় দফায় কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হলে বাজারে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দিনের শুরুতে যে বাজারে স্বাভাবিক কেনাবেচা চলছিল, মুহূর্তের মধ্যে তা ফাঁকা হয়ে যায়। দূরদূরান্ত থেকে আসা নারী বিক্রেতারা পণ্যসামগ্রী ফেলে পায়ে হেঁটে সরে পড়তে বাধ্য হন। ইমা কেইথেল মণিপুরের অন্যতম সাংস্কৃতিক প্রতীক — এটি মূলত নারী পরিচালিত একটি ঐতিহ্যবাহী বাজার, যেখানে শত শত মহিলা বিক্রেতা প্রতিদিন জীবিকা নির্বাহ করেন।

ট্রনলাওবি বিস্ফোরণ থেকে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ

শনিবারের এই COCOMI মিছিল হঠাৎ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। মণিপুরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভের একটি ধারাবাহিক চেইন তৈরি হয়েছে। ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিষ্ণুপুর জেলার ট্রনলাওবি আওয়াং লেইকাইতে একটি বোমা হামলায় মাত্র পাঁচ বছর বয়সী একটি ছেলেশিশু ও তার পাঁচ মাসের শিশু বোনের মৃত্যু হয়, এবং তাদের মা গুরুতর আহত হন। এই ঘটনায় সারা মণিপুরে ক্ষোভের ঝড় ওঠে। এরপর থেকে COCOMI বারবার CM খেমচাঁদ সিং ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোবিন্দাস কন্থৌজামের পদত্যাগ দাবি করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে।

এর আগে ২০ এপ্রিল থুবল জেলার ওয়াঞ্জিং-এ একটি BDO উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে CM খেমচাঁদের কনভয় বিক্ষোভকারীরা আটকে দেন এবং সড়কে টায়ার পুড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রতিবাদকারীদের পাশ কাটিয়ে CM-কে হেলিকপ্টারে করে অনুষ্ঠানস্থলে যেতে হয়। পুলিশের গুলিতে একজন VDF (ভিলেজ ডিফেন্স ফোর্স) কর্মী আহত হন। একই সময়ে উপত্যকার জেলাগুলোতে সাধারণ বন্ধ এবং পাহাড়ি জেলাগুলোতে নাগা নাগরিক সংগঠনের তিনদিনের বন্ধ মিলিয়ে রাজ্যে স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল।

আসাম বরাক উপত্যকার দৃষ্টিকোণ: পার্শ্ববর্তী রাজ্যের অস্থিরতার প্রভাব

মণিপুরের এই ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা পার্শ্ববর্তী আসামের জন্যও উদ্বেগের বিষয়। বরাক উপত্যকার হাইলাকান্দি, কাছাড় ও শ্রীভূমি জেলার সঙ্গে মণিপুরের সড়ক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। মণিপুরের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধ ও অশান্তির প্রভাব প্রায়ই এই সীমান্তবর্তী এলাকায় পড়ে — পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হয়, বাস যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম থমকে যায়। লালা টাউনের বাজার থেকে শুরু করে শিলচর পর্যন্ত এর অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ে।

COCOMI-র এই আন্দোলন মণিপুরের সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতেই সম্প্রদায়ের মধ্যে জমে ওঠা দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও হতাশার প্রতিফলন। রাজ্যে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা জাতিগত সংঘাতের অবসান না হওয়া, অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি — এই তিনটি বিষয় মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে শনিবারের COCOMI মিছিলে। CM খেমচাঁদ সিং-এর সরকার এখন এই জনঅসন্তোষের সামনে কী সাড়া দেয় — সেটাই মণিপুরের পরবর্তী রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণ করবে।

COCOMI মিছিলে উত্তেজনা ইম্ফলে: CM বাসভবন অভিমুখে যাত্রায় পুলিশের কাঁদানে গ্যাস
Scroll to top