Read today's news --> ⚡️Click here 

মণিপুর স্টেট মিউজিয়ামে রাজকীয় গ্যালারি যুক্তের প্রস্তাব: 3D প্রযুক্তিতে সাজবে ঐতিহ্যের ভান্ডার

উত্তর-পূর্ব ভারতের সমৃদ্ধতম সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম মণিপুর স্টেট মিউজিয়াম এখন আধুনিকায়নের পথে এক বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে। ইম্ফলের এই ঐতিহ্যবাহী সংগ্রহশালায় দুটি নতুন বিভাগ — একটি রাজকীয় গ্যালারি (Royal Gallery) এবং একটি ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র গ্যালারি (Traditional Textiles Gallery) — যুক্ত করার প্রস্তাব কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মণিপুর স্টেট মিউজিয়ামের কিউরেটর মৃণাশ্রী মৈরেম্বাম জানিয়েছেন, এই দুটি গ্যালারিতে 3D ইফেক্ট এবং সেন্সরি লাইটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে মণিপুরের রাজবংশ ও বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বিরল নিদর্শনগুলো উপস্থাপন করা হবে।

রাজকীয় গ্যালারি: মণিপুরের রাজবংশের বিরল সম্পদ এক ছাদের নীচে

মণিপুর স্টেট মিউজিয়ামে প্রস্তাবিত রাজকীয় গ্যালারিটি হবে রাজ্যের ঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক। মিউজিয়ামের কিউরেটর মৃণাশ্রী মৈরেম্বাম Ukhrultimes-কে জানিয়েছেন, “এই গ্যালারিগুলোতে রাজপরিবার ও জাতিগত সম্প্রদায়গুলোর বিরল বস্তু ও নিদর্শন স্থান পাবে এবং আধুনিক প্রযুক্তি — যেমন 3D ইফেক্ট ও সেন্সরি লাইটিং — ব্যবহার করা হবে।” বর্তমানে মিউজিয়ামে মণিপুরের রাজা মেইডিংনগু চুরাচাঁদ সিং (১৮৯১–১৯৪১)-এর ব্যক্তিগত ব্যবহারের হাওদা (Shamu Taipot বা রাজকীয় হাতির পালকি) সংরক্ষিত আছে। রাজবংশের আরও নিদর্শন — সোনার বাজুবন্ধ, রাজকীয় পোশাক, মহারানির রুপার বাসনপত্র — ইতিমধ্যে মিউজিয়ামের সংগ্রহে রয়েছে, এবং নতুন গ্যালারিতে এই সব নিদর্শন আরও সুশৃঙ্খল ও আকর্ষণীয়ভাবে প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।

ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র গ্যালারিটি মণিপুরের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর হস্তশিল্প ও বোনা কাপড়ের বৈচিত্র্যকে একটি বিশেষ বিভাগে উপস্থাপন করবে। মণিপুরি বস্ত্রশিল্প — বিশেষত মৈরাঙ্গ ফি এবং কুকি ও নাগা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী পোশাক — ভারতের অন্যতম স্বতন্ত্র শিল্পঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত। এই গ্যালারি সেই শিল্পের একটি স্থায়ী ও আধুনিক নথিভুক্তি হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা।

৫৫ বছরের পুরনো প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়নের যাত্রা

মণিপুর স্টেট মিউজিয়ামের এই উন্নয়নের পরিকল্পনা এমন একটি সময়ে এসেছে যখন প্রতিষ্ঠানটি সদ্য তার ৫৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে। ১৯৬৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এই মিউজিয়াম উদ্বোধন করেছিলেন। পাঁচটি দশকেরও বেশি সময় ধরে এটি মণিপুরের প্রত্নতত্ত্ব, নৃতত্ত্ব, প্রাকৃতিক ইতিহাস, শিল্পকলা ও রাজকীয় নিদর্শনের সবচেয়ে সমৃদ্ধ সংগ্রহশালা হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

মিউজিয়ামের সবচেয়ে আকর্ষণীয় সংগ্রহ হলো ৭৮ ফুট দীর্ঘ রাজকীয় নৌকা হিয়াং হিরেন (Hiyang Hiren), যা একটি খোলা গ্যালারিতে প্রদর্শিত হচ্ছে। এছাড়া রয়েছে মুদ্রা, পাণ্ডুলিপি, বাদ্যযন্ত্র, মাটির পাত্র, রাজকীয় পোশাক, ৫০০-এরও বেশি প্রজাতির বিরল অর্কিডের প্রকাশনা এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের দৈনন্দিন জীবনের অনুষঙ্গ। আর্ট অ্যান্ড কালচার কমিশনার এম. জয় সিং ২০২৪ সালের মে মাসে জানিয়েছিলেন যে মিউজিয়ামকে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে নতুন অবকাঠামোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

উত্তর-পূর্ব ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য: আসাম বরাক উপত্যকার সঙ্গে যোগসূত্র

মণিপুর স্টেট মিউজিয়ামের এই উন্নয়ন পরিকল্পনা শুধু মণিপুরের নয় — উত্তর-পূর্ব ভারতের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক পর্যটন ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের একটি বৃহত্তর চিত্রের অংশ। মণিপুরের সরকার ইতিমধ্যে ২৯টি উপজাতীয় মিউজিয়াম স্থাপন করেছে এবং ৩৭টি আরও নির্মাণের জন্য ৩.৮৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এই বৃহত্তর প্রচেষ্টা প্রমাণ করে যে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলো নিজেদের ঐতিহ্যকে বৈশ্বিক দর্শকদের সামনে উপস্থাপনে ক্রমশ সক্রিয় হচ্ছে।

আসামের হাইলাকান্দি জেলার লালা টাউনের পাঠকদের জন্য এই সংবাদ একটি বিশেষ প্রেরণার উৎস হতে পারে। বরাক উপত্যকা নিজেও ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল — এখানে বাঙালি, মণিপুরি, বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি, দিমাসা ও অন্যান্য জনগোষ্ঠীর শতাব্দী পুরনো সংস্কৃতির মেলবন্ধন রয়েছে। মণিপুরের মতো উদ্যোগ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বরাক উপত্যকার স্থানীয় ঐতিহ্যকেও আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের একটি উদ্যোগ ভবিষ্যতে নেওয়া যেতে পারে।

কেন্দ্রীয় অনুমোদনের অপেক্ষা: পরবর্তী পদক্ষেপ

মণিপুর স্টেট মিউজিয়ামের রাজকীয় গ্যালারি এবং বস্ত্র গ্যালারির প্রস্তাব এখন কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন। অনুমোদন মিললে এবং অর্থ বরাদ্দ হলে নির্মাণ শুরু হতে পারে। মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ আশা করছেন যে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের কাছে মিউজিয়ামের আকর্ষণ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে মণিপুরের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে আরও জীবন্তভাবে তুলে ধরবে।

উত্তর-পূর্ব ভারতের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার এই প্রচেষ্টা সফল হলে মণিপুর স্টেট মিউজিয়াম শুধু একটি প্রদর্শনীস্থল নয়, সামগ্রিক অঞ্চলের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের একটি জীবন্ত কেন্দ্রে পরিণত হবে। মণিপুর স্টেট মিউজিয়ামের এই রাজকীয় গ্যালারি পরিকল্পনার অগ্রগতির দিকে এখন সারা দেশের সংস্কৃতি-অনুরাগীদের নজর রয়েছে।

মণিপুর স্টেট মিউজিয়ামে রাজকীয় গ্যালারি যুক্তের প্রস্তাব: 3D প্রযুক্তিতে সাজবে ঐতিহ্যের ভান্ডার
Scroll to top