হিমন্ত বিশ্ব শর্মার দ্বিতীয় মেয়াদের সরকার গঠনের দুই দিনের মধ্যেই আসামের রাজ্যপাল HBS 2.0 আসাম মন্ত্রিসভায় পোর্টফোলিও বণ্টন সম্পন্ন করেছেন। ১৪ মে ২০২৬ তারিখে চার মন্ত্রীকে তাঁদের দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যে চারজন ১১ মে শপথ নিয়েছিলেন — রামেশ্বর তেলি, অজন্তা নেওগ, অতুল বড়া ও চরণ বড়ো — তাঁরা প্রত্যেকে এখন নির্দিষ্ট দপ্তরের ভার পেয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা নিজে কোন কোন দপ্তর রাখবেন, সেটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি — তবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী যে সব দপ্তর কোনো মন্ত্রীকে বরাদ্দ হয়নি, সেগুলি মুখ্যমন্ত্রীর অধীনে থাকে।
চার মন্ত্রীর পোর্টফোলিও — কে পেলেন কী
১৪ মে-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন মন্ত্রিসভায় পোর্টফোলিও বণ্টন নিম্নরূপ:
রামেশ্বর তেলি: প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং চা-জনজাতি সমাজের বিশিষ্ট মুখ রামেশ্বর তেলি পেয়েছেন রূপান্তর ও উন্নয়ন (Transformation and Development), শ্রম কল্যাণ (Labour Welfare) এবং চা-জনজাতি ও আদিবাসী কল্যাণ (Tea Tribes and Adivasi Welfare) দপ্তর। তেলি এই মন্ত্রিসভার একজন নতুন সংযোজন — তিনি আগে লোকসভার সাংসদ হিসেবে কেন্দ্রে পেট্রোলিয়াম এবং গ্যাস ও শ্রম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। চা-জনজাতি কল্যাণ দপ্তর পাওয়া তাঁর জন্য রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ — কারণ ডিব্রুগড় ও আশেপাশের চা-বলয়ে তাঁর শক্তিশালী ভোটভিত্তি রয়েছে।
অজন্তা নেওগ: আসামের একমাত্র মহিলা মন্ত্রী এবং ষষ্ঠবারের বিধায়ক অজন্তা নেওগকে এবার দেওয়া হয়েছে পর্যটন (Tourism) ও মহিলা ও শিশু উন্নয়ন (Women and Child Development) দপ্তর। গত মেয়াদে তিনি অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন, যেখানে তিনি আসামের ইতিহাসে প্রথম মহিলা অর্থমন্ত্রী হিসেবে রেকর্ড গড়েছিলেন। নতুন পোর্টফোলিওতে অর্থ বিভাগ নেই, তবে পর্যটন ও মহিলা উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দপ্তর তাঁর হাতে থাকছে।
অতুল বড়া: আসাম গণ পরিষদ (AGP)-এর সভাপতি ও জোট শরিক অতুল বড়া পেয়েছেন পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন (Panchayat and Rural Development), অসম চুক্তি বাস্তবায়ন (Implementation of Assam Accord), সীমান্ত সুরক্ষা ও উন্নয়ন (Border Protection and Development) এবং আবগারি (Excise) দপ্তর। আগের মেয়াদে অতুল বড়া কৃষি, উদ্যানপালন ও বিভিন্ন সীমান্ত-সংক্রান্ত দপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন।
চরণ বড়ো: বডোল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট (BPF)-এর প্রতিনিধি চরণ বড়ো পেয়েছেন পরিবহন (Transport) ও বডোল্যান্ড অঞ্চলের কল্যাণ (Welfare of Bodoland Region) দপ্তর। এই দুটি দপ্তর তিনি আগের মন্ত্রিসভাতেও সামলেছিলেন — ফলে নীতি ও প্রশাসনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকছে।
নতুন দায়িত্বের রাজনৈতিক তাৎপর্য — জোট ভারসাম্য ও প্রতিনিধিত্বের হিসাব
HBS 2.0 মন্ত্রিসভার পোর্টফোলিও বণ্টন বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট হয়। প্রথমত, BJP-র একমাত্র মহিলা মন্ত্রী অজন্তা নেওগকে অর্থ বিভাগের বদলে পর্যটন ও মহিলা কল্যাণ দপ্তর দেওয়া হয়েছে — যা পোর্টফোলিওর ওজনের দিক থেকে একটি পরিবর্তন, তবে সামাজিক উন্নয়নমূলক দিক থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। দ্বিতীয়ত, রামেশ্বর তেলিকে চা-জনজাতি কল্যাণ দেওয়া প্রমাণ করে যে হিমন্ত সরকার অসমের বৃহত্তম শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর সামাজিক উন্নয়নকে প্রাধান্য দিতে চাইছে।
তৃতীয়ত, অতুল বড়াকে পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন দেওয়া AGP-র জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পুরস্কার — কারণ এই দপ্তরটি সরাসরি গ্রামীণ ভোটারদের সঙ্গে যুক্ত এবং ২০২৬ সালের নির্বাচনে AGP তার শক্তি ধরে রেখেছে। ১১ মে-র শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উপস্থিত ছিলেন — যা এই সরকার গঠনের কেন্দ্রীয় গুরুত্ব তুলে ধরে।
হাইলাকান্দি ও বরাক উপত্যকার জন্য কী বার্তা
HBS 2.0 আসাম মন্ত্রিসভায় পোর্টফোলিও বণ্টনের দিক থেকে বরাক উপত্যকার জন্য সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক একটি তথ্য হল — গত মন্ত্রিসভায় লখিপুরের বিধায়ক কৌশিক রাই বরাক ভ্যালি ডেভেলপমেন্ট (Barak Valley Development) দপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন, যা Deccan Herald-এর ২০২৪ সালের রিশাফেলের প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল। নতুন মন্ত্রিসভায় এই দপ্তরের ভার কার কাছে যাবে, বা এটি CM-এর অধীনে থাকবে কিনা — সেই ঘোষণা এখনও বাকি।
হাইলাকান্দি জেলার মানুষের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হবে পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন দপ্তরের (অতুল বড়া) কাজ এবং মহিলা ও শিশু উন্নয়ন দপ্তরের (অজন্তা নেওগ) নতুন উদ্যোগগুলি। লালা টাউনসহ বরাক উপত্যকার তৃণমূল স্তরে গ্রামীণ প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন এই দুটি দপ্তরের সক্রিয়তার উপরে অনেকাংশে নির্ভর করবে।
HBS 2.0 মন্ত্রিসভায় মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা নিজে কোন কোন দপ্তর রাখবেন তার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও প্রতীক্ষিত। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গৃহ (Home), লোক নির্মাণ (PWD) ও স্বাস্থ্য শিক্ষা (Medical Education)-সহ বেশ কয়েকটি কৌশলগত দপ্তর তিনি নিজের কাছে রাখবেন — যেমনটা তাঁর প্রথম মেয়াদেও ছিল। পূর্ণ মন্ত্রিসভার পোর্টফোলিও তালিকা প্রকাশ পেলে আসামের নতুন সরকারের অগ্রাধিকার ও রাজনৈতিক অঙ্কটি আরও স্পষ্ট হয়ে যাবে।