Read today's news --> ⚡️Click here 

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বেড়ায় পশ্চিমবঙ্গের সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক’ বললেন হিমন্ত — উত্তর-পূর্বের নিরাপত্তায় নতুন আশা

পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী সুভেন্দু অধিকারী তাঁর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বেড়া নির্মাণের জন্য BSF-কে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিলেন। এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ১৩ মে ২০২৬ তারিখে গুয়াহাটিতে তাঁর নিজের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পর আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা একে “ঐতিহাসিক” পদক্ষেপ বলে স্বাগত জানালেন। ইন্ডিয়া টুডে NE-র তথ্যমতে, হিমন্ত শর্মা বললেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বেড়ার এই অগ্রগতি উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তার জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

পশ্চিমবঙ্গের সিদ্ধান্ত — ৪৫ দিনে BSF পাবে প্রায় ৮০০ কিমি পথের জমি

 পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সুভেন্দু অধিকারী ১১ মে ২০২৬ নবান্নে তাঁর প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর ঘোষণা করেন, “বাংলাদেশ সীমান্তে সীমান্ত বেড়া নির্মাণে BSF-কে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া আজ থেকেই শুরু হয়ে গেছে। ৪৫ দিনের মধ্যে এই হস্তান্তর সম্পন্ন হবে।” পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব ও ভূমি রাজস্ব বিভাগের সচিবকে এই কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ মোট সীমান্তের দৈর্ঘ্য ২,২১৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে ইতিমধ্যে ১,৬৪৭ কিমি বেড়া নির্মিত হয়েছে এবং প্রায় ৪৫৬ কিমি-তে এখনও বেড়া নেই কিন্তু জমি হস্তান্তরযোগ্য। বকেয়া সীমান্তের একটি বড় অংশের জমি হস্তান্তরে রাজ্য সরকারের অনুমোদন না পাওয়াই মূল বাধা ছিল — যা নতুন BJP সরকার এখন দূর করতে এগিয়ে এসেছে।

হিমন্তের প্রতিক্রিয়া — পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া উত্তর-পূর্বের লড়াই অসম্পূর্ণ

হিমন্ত শর্মা বলেছেন, “অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই সবসময় একটি বড় সমস্যার মুখে পড়েছে — বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে বিশাল ফাঁক থেকে যাচ্ছিল।” তিনি আরও যোগ করেন, আসামে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সংগঠন আন্তর্জাতিক সীমান্ত সিলের দাবি জানিয়ে আসছিল, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে একই ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টা কখনই পরিপূর্ণ হতে পারে না।

২০২৬-এর একটি প্রতিবেদনে হিমন্ত শর্মা পরিষ্কার বলেছিলেন, “ত্রিপুরা ও আসাম অনুপ্রবেশকারীদের ধরে ব্যবস্থা নিচ্ছে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সেটা করছে না। বেঙ্গল যদি জাতীয় কারণে সাড়া না দেয়, তাহলে গোটা দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” মে ২০২৬-এর নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে BJP জয়লাভ করার পর সেই পরিস্থিতি এখন বদলেছে। হিমন্ত শর্মা নতুন পশ্চিমবঙ্গের CM সুভেন্দু অধিকারীর প্রথম সিদ্ধান্তকে “আসাম ও উত্তর-পূর্বের মানুষের জন্য অত্যন্ত উৎসাহজনক খবর” বলে বর্ণনা করেছেন।

পাঁচ রাজ্যের সীমান্ত — সীমান্ত রক্ষায় সমন্বয়ের প্রয়োজন

মিজোরাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ — এই পাঁচটি ভারতীয় রাজ্য বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে নেয়। বিভিন্ন রাজ্যের সীমান্ত দৈর্ঘ্য হলো: পশ্চিমবঙ্গ ২,২১৬ কিমি, ত্রিপুরা ৮৫৬ কিমি, মেঘালয় ৪৪৩ কিমি, মিজোরাম ৩১৮ কিমি এবং আসাম ২৬২-২৬৩ কিমি। আসামের সীমান্ত সবচেয়ে ছোট হলেও, পশ্চিমবঙ্গের বিশাল অরক্ষিত সীমান্ত দিয়ে আসা অনুপ্রবেশকারীরা পরবর্তী সময়ে আসামসহ গোটা উত্তর-পূর্বে ছড়িয়ে পড়তে পারে — এটিই হিমন্ত শর্মার মূল উদ্বেগ।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনী প্রচারেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে BJP ক্ষমতায় এলে ৪৫ দিনের মধ্যে BSF-কে সীমান্ত বেড়ার জমি হস্তান্তর করা হবে। অধিকারী সরকার সেই প্রতিশ্রুতি তাঁর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিলেন।

বরাক উপত্যকা হাইলাকান্দির দৃষ্টিতে সীমান্ত নিরাপত্তা

বরাক উপত্যকার হাইলাকান্দি, করিমগঞ্জ ও কাছাড় জেলা ভৌগোলিকভাবে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি না হলেও এই অঞ্চলে অনুপ্রবেশ সমস্যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করা অনুপ্রবেশকারীরা ধীরে ধীরে আসামের বিভিন্ন জেলায়, বিশেষত বরাক উপত্যকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। লালা টাউনসহ হাইলাকান্দির মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার কথা বলে আসছেন। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত সিলের সিদ্ধান্ত তাই সরাসরি এই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত।

সুভেন্দু অধিকারীর প্রথম ক্যাবিনেট সিদ্ধান্ত ও হিমন্ত শর্মার স্বাগত জানানো একসঙ্গে দেখলে বোঝা যায়, পাঁচটি সীমান্তবর্তী রাজ্যে এখন একটি সমন্বিত সীমান্ত নিরাপত্তা নীতি তৈরির পরিবেশ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনুকূল। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে BSF জমি পেলে এবং বেড়া নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু হলে — দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বেড়া সম্পূর্ণ হওয়ার পথে এটি হবে সবচেয়ে বড় অগ্রগতি।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বেড়ায় পশ্চিমবঙ্গের সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক’ বললেন হিমন্ত — উত্তর-পূর্বের নিরাপত্তায় নতুন আশা
Scroll to top