Read today's news --> ⚡️Click here 

AAP ছেড়ে BJP-তে রাঘব চাড্ডা: ছয় সাংসদ-সহ রাজ্যসভায় বড় দলত্যাগ, কেজরিওয়ালের দলে ধাক্কা

AAP ছেড়ে BJP-তে রাঘব চাড্ডা — এই ঘোষণায় ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ভারতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে রাঘব চাড্ডা ঘোষণা করেন, AAP-র দশজন রাজ্যসভা সাংসদের মধ্যে সাতজন দল ছেড়ে Bharatiya Janata Party বা BJP-তে যোগ দিচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সন্দীপ পাঠক, অশোক মিত্তাল, স্বাতী মালিওয়াল, হরভজন সিং, রাজিন্দর গুপ্তা ও বিক্রম সাহনেয়। এই দলত্যাগের মধ্য দিয়ে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল Aam Aadmi Party রাজ্যসভায় কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।

সাত সাংসদ কেন ছাড়লেন AAP?

সংবাদ সম্মেলনে রাঘব চাড্ডা কড়া ভাষায় দলের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ তুলে ধরেন। চাড্ডা বলেন, “আমি যে AAP-কে আমার রক্ত ও ঘামে ১৫ বছর ধরে গড়ে তুলেছিলাম, সেই দল তার মূল নীতি ও আদর্শ থেকে সরে গেছে। এই দল এখন দেশের স্বার্থে নয়, নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থে কাজ করছে।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের সামনে দুটো পথ ছিল — হয় রাজনীতি ছেড়ে দাও, নয়তো ইতিবাচক রাজনীতির পথ বেছে নাও।”

কয়েক সপ্তাহ আগেই চাড্ডাকে রাজ্যসভায় AAP-র দলনেতার পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন কেজরিওয়াল। এই অপসারণ থেকেই দলের মধ্যে উত্তেজনার সূত্রপাত। চাড্ডার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, “আমার নিজের দলই আমাকে চুপ করিয়ে রেখেছিল।”

অ্যান্টি-ডিফেকশন আইন এড়াতে দুই-তৃতীয়াংশের হিসাব

এই দলত্যাগ কৌশলগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের সংবিধানের দশম তফসিলে বর্ণিত অ্যান্টি-ডিফেকশন আইন অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য দল থেকে বেরিয়ে অন্য দলে যোগ দিলে সাধারণত তাঁর সদস্যপদ বাতিল হতে পারে। কিন্তু নিয়ম অনুসারে, যদি কোনো দলের সংসদীয় শাখার অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য একযোগে অন্য দলে একীভূত হন, তাহলে তাঁরা এই আইনের আওতার বাইরে থাকেন।

AAP-র মোট দশজন রাজ্যসভা সাংসদের মধ্যে সাতজন — অর্থাৎ ঠিক দুই-তৃতীয়াংশের বেশি — BJP-তে যোগ দিচ্ছেন। চাড্ডা ইতিমধ্যেই রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে সমস্ত স্বাক্ষরিত নথি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। এই কৌশলটি স্পষ্টতই পরিকল্পিত — যাতে দলত্যাগের পরও সাংসদ পদ নিরাপদ থাকে।

কেজরিওয়াল শিবিরের তীব্র প্রতিক্রিয়া

দলত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই AAP নেতা সঞ্জয় সিং সংবাদ সম্মেলন ডেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। সঞ্জয় সিং বলেন, “এরা জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, পেছন থেকে ছুরি মেরেছেন।” তিনি BJP-র বিরুদ্ধে ‘অপারেশন লোটাস’ পরিচালনার অভিযোগ তোলেন এবং বলেন, “BJP-র অর্থের টোপে এই সাংসদরা দলের আদর্শ বিকিয়ে দিয়েছেন।”

AAP-র রাজ্যসভা প্রতিনিধিত্ব এখন মাত্র তিনজনে নেমে এসেছে — বলবীর সিং সীচেওয়াল, সঞ্জয় সিং এবং ND গুপ্তা। কেজরিওয়াল ইতিমধ্যেই দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে হেরে দলটিকে শূন্য হাতে ফেলে গেছেন, এবং এই রাজ্যসভা ভাঙন দলটিকে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে আরও কোণঠাসা করে দিল।

AAP-দীর্ঘ পতনের ইতিহাস

AAP থেকে বিশিষ্ট নেতাদের বেরিয়ে যাওয়ার ধারা ২০১৫ সাল থেকেই শুরু হয়েছে। দলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা যোগেন্দ্র যাদব থেকে শুরু করে প্রশান্ত ভূষণ, কুমার বিশ্বাস — একে একে বড় নামগুলো চলে গেছে। এবার রাঘব চাড্ডার মতো তরুণ ও পরিচিত মুখ দল ছেড়ে যাওয়ায় AAP-র সাংগঠনিক সংকট নতুন মাত্রায় পৌঁছাল।

২০২৬ সালের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে AAP বিধানসভায় প্রায় সম্পূর্ণ পরাজিত হওয়ার পর রাজ্যসভাই ছিল দলটির একমাত্র সংসদীয় শক্তির ঘাঁটি। এই ভাঙনের পর সেই শেষ ভরসাও কার্যত গেল।

আসামের রাজনীতিতে প্রভাব

জাতীয় স্তরে AAP-র এই বড় ভাঙন আসামের রাজনৈতিক সমীকরণেও পরোক্ষ প্রভাব ফেলবে। আসামে AAP এখনও সেভাবে সাংগঠনিক শক্তি গড়তে পারেনি — কিন্তু বরাক উপত্যকায়, বিশেষত হাইলাকান্দি ও লালা টাউনের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, দিল্লিতে AAP-র এই দুর্বলতা BJP-র পক্ষে বিরোধী শূন্যতার সুযোগ তৈরি করবে। রাষ্ট্রীয় রাজনীতিতে বিরোধী জোটের ভরসার জায়গা আরও সংকুচিত হলে স্থানীয় পর্যায়েও তার প্রতিফলন পড়তে পারে।

সামনের পথ: AAP কি পুনরুদ্ধার করতে পারবে?

রাঘব চাড্ডা-সহ সাত সাংসদের দলত্যাগের পর AAP এখন সংসদীয় রাজনীতিতে কার্যত প্রান্তিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। দলটির হাতে এখন লোকসভায় কোনো আসন নেই, দিল্লি বিধানসভায় পরাজয় ঘটেছে, এবং রাজ্যসভাতেও এখন মাত্র তিনজন সদস্য। অরবিন্দ কেজরিওয়াল কীভাবে দলটিকে পুনর্গঠন করবেন এবং বিরোধী রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক থাকবেন — সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আসছে সপ্তাহগুলোতে AAP-র অভ্যন্তরীণ সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

AAP ছেড়ে BJP-তে রাঘব চাড্ডা: ছয় সাংসদ-সহ রাজ্যসভায় বড় দলত্যাগ, কেজরিওয়ালের দলে ধাক্কা
Scroll to top