Read today's news --> ⚡️Click here 

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম দফা ভোট শুরু, ১৬ জেলার ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর প্রথম দফা ভোটগ্রহণ আজ শুরু হয়েছে। রাজ্যের ১৬টি জেলায় মোট ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ চলছে। পশ্চিমবঙ্গ প্রথম দফা ভোটের এই পর্যায়ে কোটি কোটি ভোটার তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করবেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) ও BJP-নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের মধ্যে এই নির্বাচন মূলত দ্বিমুখী লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস জোটও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে।

প্রথম দফায় কোন কোন জেলায় ভোট, কতটি আসনে

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে প্রথম দফায় ১৬টি জেলার ১৫২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। এই ধাপে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ও দক্ষিণ উভয় অংশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জেলা অন্তর্ভুক্ত। ভোটগ্রহণ সকাল ৭টায় শুরু হয়ে বিকেল ৬টা পর্যন্ত চলবে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে। ভোটারদের সুবিধার্থে প্রতিটি বুথে পানীয় জল, বিশ্রামের ব্যবস্থা এবং দিব্যাঙ্গ ভোটারদের জন্য বিশেষ প্রবেশাধিকারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ভারতের নির্বাচন কমিশন এই দফার ভোটের জন্য বিপুল নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে। কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF)-এর একাধিক কোম্পানি এই ১৫২টি আসনের বুথগুলো পাহারা দিচ্ছে। বিগত কয়েকটি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভোট-পরবর্তী ও ভোটকালীন হিংসার অভিযোগ ওঠার পর এবার নির্বাচন কমিশন নিরাপত্তার বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থেকেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে।

TMC-BJP মুখোমুখি: প্রথম দফায় কোন আসনগুলো গুরুত্বপূর্ণ

পশ্চিমবঙ্গ প্রথম দফা ভোটে যে আসনগুলো সবচেয়ে বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে TMC ও BJP উভয়েরই শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বেশ কিছু এলাকা। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে TMC ২১৩টি আসনে জয় পেয়েছিল এবং BJP পেয়েছিল ৭৭টি আসন। এই বিপুল ব্যবধানের পর BJP ২০২৬ সালে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গে একাধিক প্রচারসভা করেছেন।

অন্যদিকে TMC-র তরফে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন যে তাঁর সরকারের কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো — বিশেষত মহিলাদের জন্য “লক্ষ্মীর ভান্ডার” ও “কন্যাশ্রী” — তাঁর দলের প্রধান শক্তি। তিনি দাবি করেছেন যে BJP কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন তহবিল আটকে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রথম দফার ভোটের ফলাফল গোটা নির্বাচনের মূড বা রাজনৈতিক আবহ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

বরাক উপত্যকার বাঙালির দৃষ্টিতে পশ্চিমবঙ্গের এই ভোট

পশ্চিমবঙ্গ প্রথম দফা ভোটের খবর বরাক উপত্যকার মানুষের কাছে অত্যন্ত মনোযোগের বিষয়। হাইলাকান্দি জেলার লালা টাউনসহ গোটা বরাক উপত্যকায় বাংলাভাষী জনগোষ্ঠী পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে আত্মিকভাবে যুক্ত। ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক মিলের কারণে পশ্চিমবঙ্গে কে ক্ষমতায় আসবে — সেই প্রশ্নটি এই অঞ্চলের মানুষেরা আগ্রহ নিয়ে অনুসরণ করেন।

তাছাড়া পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের মধ্যবর্তী বরাক উপত্যকার অনেক পরিবারের আত্মীয়স্বজন পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করেন। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্য লালা, হাইলাকান্দি ও করিমগঞ্জের মানুষ নিয়মিত পশ্চিমবঙ্গ — বিশেষত কলকাতা — যাতায়াত করেন। পশ্চিমবঙ্গে কোন সরকার গঠিত হবে তা এই যোগাযোগ ও সম্পর্কের উপরেও নানাভাবে প্রভাব ফেলে। সে কারণেই আজকের প্রথম দফার ভোটের ফলাফল এখানকার মানুষের কাছেও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

ভোটের পরের চিত্র: কী আশা করা হচ্ছে

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ একটি বহু-দফায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম দফার পর বাকি আসনগুলোতেও ধাপে ধাপে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে এবং সমস্ত দফার ভোট শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রথম দফার ভোটদানের হার এবং নির্বিঘ্নে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়া বা না হওয়া — এই দুটি বিষয় আগামী দফাগুলোর ভোটারদের মানসিকতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

TMC টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফিরতে চাইছে। BJP চাইছে পরিবর্তন আনতে। আর বাম-কংগ্রেস জোট নিজেদের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ফিরিয়ে আনতে লড়ছে। এই ত্রিমুখী সমীকরণে ভোটাররাই শেষ কথা বলবেন — এবং সেই রায়ের প্রথম আভাস পাওয়া যাবে আজকের পশ্চিমবঙ্গ প্রথম দফা ভোটের ফলাফল থেকেই। গণতন্ত্রের এই উৎসবে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি ভোটার যেন নির্ভয়ে ও স্বাধীনভাবে তাঁদের মতামত জানাতে পারেন — এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম দফা ভোট শুরু, ১৬ জেলার ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে
Scroll to top