Read today's news --> ⚡️Click here 

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোট দ্বিতীয় দফায় ৬১ শতাংশ ভোটদান, চূড়ান্ত পর্যায়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোট ২০২৬-এর দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত দফায় বুধবার সকাল থেকে ভোটগ্রহণ চলে এবং সন্ধ্যার আগেই ৬১ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে। এই দফায় পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায় ভোটগ্রহণ হয়েছে এবং ভোটদান প্রক্রিয়া সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন ও নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোট ২০২৬-এর এই চূড়ান্ত দফার ফলাফলের উপরে নির্ভর করছে রাজ্যের আগামী পাঁচ বছরের রাজনৈতিক গতিপথ।

দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণের বিশদ চিত্র

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় পশ্চিমবঙ্গের মোট ১৪৮টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়েছে। সকাল সাতটায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ছটায় শেষ হয়েছে। ভোটগ্রহণের মাঝামাঝি সময়ে অর্থাৎ বিকেলের মধ্যেই ৬১ শতাংশের বেশি ভোটদান নথিভুক্ত হয়েছে — যা দিনের শেষে আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে সামগ্রিক ভোটদানের হার ছিল প্রায় ৭৭ শতাংশের কাছাকাছি — সেই হিসেবে এবারও উচ্চ ভোটদানের আশা রয়েছে।

ভোটকেন্দ্রগুলোতে কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর পাশাপাশি রাজ্য পুলিশও মোতায়েন ছিল। নির্বাচন কমিশন পর্যবেক্ষক পাঠিয়েছে সংবেদনশীল কেন্দ্রগুলোতে — বিশেষত দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, কোচবিহার ও মালদহ জেলায়, যেখানে বিগত নির্বাচনে ছোটখাটো উত্তেজনার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। এবারের দ্বিতীয় দফায় কোনো বড় অপ্রীতিকর ঘটনার খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি।

তৃণমূল-BJP প্রধান লড়াই: কোন কেন্দ্রে কী দাঁড়িপাল্লা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোট ২০২৬-এ মূল লড়াই তৃণমূল কংগ্রেস ও BJP-র মধ্যে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্যে নির্বাচনী প্রচারে বিশেষত উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পকে সামনে এনেছে। বিপরীতে, BJP প্রার্থীরা কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প ও রাজ্যে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চেয়েছেন। কংগ্রেস ও বাম ফ্রন্টের জোট তৃতীয় বিকল্প হিসেবে কিছু আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে।

দ্বিতীয় দফায় উল্লেখযোগ্য আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলার কয়েকটি সংখ্যালঘু-অধ্যুষিত কেন্দ্র এবং উত্তরবঙ্গের কোচবিহার জেলার বেশ কয়েকটি আসন। কোচবিহার গত দুটি নির্বাচনে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ছিল এবং এবারও রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টি সেই জেলার দিকে। প্রথম দফার ভোটের হার ও পরিবেশ দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন উভয় প্রধান দলের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উৎসাহ রয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা

এবারের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোট ২০২৬-এ নির্বাচন কমিশন নজিরবিহীন নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি ওয়েবক্যাম ও CCTV-র মাধ্যমে সংবেদনশীল কেন্দ্রগুলো পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। EVM (Electronic Voting Machine) ও VVPAT ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে — এবং কোনো বড় প্রযুক্তিগত ত্রুটির অভিযোগ সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ভোটদাতাদের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষার ঘটনা কোনো কোনো কেন্দ্রে দেখা গেলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল।

প্রথম দফার ভোট ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং দুই দফার ভোটের ফলাফল একসঙ্গে গণনা হবে। ভোট গণনার তারিখ ঘোষণা অনুযায়ী, ফলাফল কয়েক দিনের মধ্যেই জানা যাবে। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠন করতে প্রয়োজন ন্যূনতম ১৪৮ আসন।

বরাক উপত্যকা হাইলাকান্দির সঙ্গে প্রাসঙ্গিকতা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোট ২০২৬-এর ফলাফল হাইলাকান্দি ও বরাক উপত্যকার মানুষের জন্য সরাসরি প্রাসঙ্গিক — কারণ এই অঞ্চলের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ভাষাগত, সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। হাইলাকান্দি ও করিমগঞ্জ জেলায় প্রচুর পরিবার রয়েছে যাঁদের আত্মীয়স্বজন মুর্শিদাবাদ, কলকাতা বা উত্তরবঙ্গে বসবাস করেন এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সরকারের নীতিমালার প্রতি তাঁরা সহজাতভাবেই আগ্রহী। এ ছাড়া লালা বাজারের অনেক ব্যবসায়ী পশ্চিমবঙ্গ থেকে পণ্য আমদানি করেন — রাজ্যের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তাঁদের ব্যবসায়িক পরিবেশকেও প্রভাবিত করে।

বরাক উপত্যকার বাংলাভাষী সম্প্রদায়ের কাছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি এক ধরনের সাংস্কৃতিক পরিচিতির সূত্রও বটে। তৃণমূল সরকারের সামাজিক প্রকল্প — বিশেষত মহিলাদের জন্য লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং কৃষকদের জন্য কৃষক বন্ধু — অসমের বাংলাভাষী মানুষের আলোচনায়ও প্রায়ই ঠাঁই পায়। এই নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করবে এই প্রকল্পগুলো চলবে নাকি পরিবর্তন আসবে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোট ২০২৬-এর চূড়ান্ত পর্যায় শেষ হওয়ার পর এখন সবার দৃষ্টি ভোট গণনার দিকে। এই নির্বাচনের ফলাফল কেবল রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নয়, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে জাতীয় রাজনীতিতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পাঠাবে। উচ্চ ভোটদানের হার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী — এবং এই উৎসাহই গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোট দ্বিতীয় দফায় ৬১ শতাংশ ভোটদান, চূড়ান্ত পর্যায়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন
Scroll to top