Read today's news --> Click here

“কংগ্রেসের কাছে পরিবার আগে, BJP-র কাছে দেশ আগে”: হোজাইতে অনুপ্রবেশ ও পরিবারতন্ত্র নিয়ে বিরোধীদের তুলোধোনা মোদীর

৯ এপ্রিলের বিধানসভা ভোটের ঠিক আগে আসামের হোজাইতে (Hojai) এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়ে কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। সোমবারের এই মোদী হোজাই সমাবেশ আসাম জুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি করেছে। দ্য আসাম ট্রিবিউন (The Assam Tribune)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি গান্ধী পরিবারের নাম না করেই বলেন যে কংগ্রেসের কাছে সব সময় “পরিবার আগে” (Family First), অন্যদিকে BJP “দেশ আগে” (Nation First) এবং “মানুষ আগে” (People First) নীতিতে বিশ্বাসী।

এই বিশাল জনসভায় হোজাইয়ের স্থানীয় BJP প্রার্থী শিলাদিত্য দেবের (Shiladitya Dev) সমর্থনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কংগ্রেস তার পুরো সময়টাই দিল্লির একটি “শাহী পরিবার” (Royal Family)-কে খুশি করতে ব্যয় করেছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, আসামেও কংগ্রেসের নেতৃত্ব একটি নির্দিষ্ট পরিবারের চারপাশে ঘোরে এবং তারা রাজ্যের প্রকৃত উন্নয়ন থেকে মানুষকে বঞ্চিত করে রেখেছে।

অনুপ্রবেশ এবং স্থানীয় মানুষের জমি অধিকার

আসাম অনুপ্রবেশকারী জমি দখল ইস্যুটি বরাক এবং ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় সব সময়ই একটি স্পর্শকাতর বিষয়। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে এই ইস্যুটিকে অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “কংগ্রেস শুধুমাত্র তাদের ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য অনুপ্রবেশকারীদের সমর্থন করে এসেছে, যার ফলে আজ আসামের ভূমিপুত্রদের বিস্তীর্ণ জমি অবৈধ দখলদারদের হাতে চলে গেছে।”

প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন যে, কেন্দ্র এবং আসামের ডাবল-ইঞ্জিন BJP সরকার পূর্ণ সংকল্প নিয়ে এই বেদখল হওয়া জমি পুনরুদ্ধারের কাজ করছে। তিনি কংগ্রেসের দিকে আঙুল তুলে বলেন, “যখনই অবৈধ দখলদার বা অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, কংগ্রেস নেতারা তাদের সমর্থনে রাস্তায় নেমে পড়েন।” বরপেটার (Barpeta) পবিত্র সত্রগুলোর (Satras) হাজার হাজার বিঘা জমিও কংগ্রেস আমলে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের দখলে চলে গিয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।

উন্নয়নের খতিয়ান কংগ্রেসের প্রতিশ্রুতি নিয়ে কটাক্ষ

প্রধানমন্ত্রী মোদী দাবি করেন যে, BJP শাসনে আসামে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, সৌরশক্তির প্রসার এবং সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্টের মতো বড় বিনিয়োগ এসেছে, যা স্থানীয় যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করছে। পিএম সূর্য ঘর মুফত যোজনা (PM Surya Ghar Muft Yojana)-র অধীনে আসামে সৌর প্যানেল বসানোর জন্য ৭০-৮০ হাজার টাকা ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কংগ্রেস শাসিত রাজ্যগুলোর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, হিমাচল প্রদেশে (Himachal Pradesh) কংগ্রেস ভোটের আগে বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর সরকারি কর্মচারীদের বেতন কমিয়ে দিয়ে মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

একই সুরে রাজ্যের মন্ত্রী ও পিযুষ হাজারিকা BJP নেতা দাবি করেছেন যে, কংগ্রেস তাদের ৭০ বছরের শাসনে আসামে মাত্র ৬টি হাসপাতাল ও ১২টি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করেছিল, যেখানে বর্তমান সরকার ১৬টি মেডিকেল কলেজ ও ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেছে। হোজাইয়ের জনসভায় পিযুষ হাজারিকাকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে দেখা যায়।

লালা হাইলাকান্দির ভোটারদের কাছে মোদীর বার্তার প্রভাব

কংগ্রেস পরিবারতন্ত্র আসাম ভোট প্রচারে মোদীর এই কড়া আক্রমণ হাইলাকান্দি (Hailakandi) জেলা এবং লালা টাউনের (Lala Town) মতো সংখ্যালঘু-অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বরাক উপত্যকায় জমি দখল এবং নাগরিকত্বের প্রশ্নটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। একদিকে যেমন BJP তাদের উন্নয়ন ও দেশপ্রেমের কথা বলে ভোট চাইছে, অন্যদিকে বিরোধীরাও মানুষের স্থানীয় অভাব-অভিযোগকে হাতিয়ার করছে। হোজাইয়ের মতো লালা টাউনেও ভোটাররা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন কোন দল তাদের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব দিতে পারবে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই “নেশন ফার্স্ট” এবং অনুপ্রবেশ-বিরোধী কড়া অবস্থান হিন্দু ও অন্যান্য ভূমিপুত্র ভোটারদের মধ্যে কতটা প্রভাব ফেলবে, আর সংখ্যালঘু ভোট কোন দিকে ঝুঁকবে—তার ওপরই আসামের আসন্ন ভোটের ভবিষ্যৎ অনেকটা নির্ভর করছে। ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণের দিন হাইলাকান্দির মানুষও ইভিএমে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন।

“কংগ্রেসের কাছে পরিবার আগে, BJP-র কাছে দেশ আগে”: হোজাইতে অনুপ্রবেশ ও পরিবারতন্ত্র নিয়ে বিরোধীদের তুলোধোনা মোদীর
Scroll to top