Read today's news --> Click here

“BJP কেবল অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে রাজনীতি করে”: শিলচরের জনসভায় অমিত শাহকে কড়া আক্রমণ মল্লিকার্জুন খাড়গের

৯ এপ্রিলের আসাম বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রচারে ঝড় তুলেছেন জাতীয় স্তরের নেতারা। সোমবার, ৬ এপ্রিল কাছাড় জেলার শিলচরের (Silchar) বড়খোলায় (Borkhola) এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে (Mallikarjun Kharge) ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) এবং বিশেষ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে (Amit Shah) তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। খাড়গে অমিত শাহ অনুপ্রবেশ তত্ত্ব নিয়ে সরাসরি পরিসংখ্যান তুলে ধরে দাবি করেন যে, BJP অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে শুধু রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্যই কথা বলে, বাস্তবে তাদের বিতাড়ন করার কোনো সদিচ্ছা দলটির নেই। The Assam Tribune এবং New Indian Express-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সমাবেশটি বরাক উপত্যকায় কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান ইভেন্ট ছিল।

অনুপ্রবেশ এবং বিতাড়নের পরিসংখ্যান: UPA বনাম NDA

মল্লিকার্জুন খাড়গে শিলচর সমাবেশ থেকে দাবি করেন যে, বিগত ১০ বছরের বেশি সময় ধরে কেন্দ্রে এবং রাজ্যে ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও BJP অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়ন করতে চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, “যখনই অমিত শাহ এখানে আসেন, তিনি কেবল বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের কথা বলেন। কিন্তু BJP এই অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ায় না; বরং তারা এদের লালনপালন করে এবং এদের নাম ভাঙিয়ে রাজনীতি করে।”

খাড়গে পরিসংখ্যান দিয়ে জানান যে, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন UPA সরকারের আমলে (২০০৫ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে) মোট ৮৮,৭৯২ জন অবৈধ অভিবাসীকে দেশ থেকে বিতাড়ন করা হয়েছিল। কিন্তু এর বিপরীতে, নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) শাসনামলে ২০১৪ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে মাত্র ২,৫৬৬ জনকে বিতাড়ন করা হয়েছে। খাড়গে অভিযোগ করেন যে মোদী এবং শাহ কেবল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু বাস্তবে কিছুই করেন না।

ডিলিমিটেশন, দুর্নীতি এবং বরাক উপত্যকার বঞ্চনা

খাড়গে তাঁর ভাষণে আসামের ২০২৩ সালের ডিলিমিটেশন (Delimitation) প্রক্রিয়া নিয়েও BJP-কে নিশানা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, নির্বাচনে জেতার জন্য BJP এই প্রক্রিয়াটির অপব্যবহার করেছে। যে এলাকাগুলোতে মুসলিম, দলিত বা আদিবাসীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলেন, সেখানে সুপরিকল্পিতভাবে অন্য শ্রেণির মানুষদের যুক্ত করে জনসংখ্যার সমীকরণ বদলে দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা (Himanta Biswa Sarma) এবং তাঁর সরকারের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির বড় অভিযোগ তোলেন কংগ্রেস সভাপতি। Mid-Day-এর তথ্য অনুযায়ী, খাড়গে অভিযোগ করেন যে হিমন্ত বিশ্বশর্মার পরিবার দুর্নীতিতে আকণ্ঠ ডুবে আছে এবং আসামের জমি, জল, বন ও খনি লুট করা হচ্ছে। কারও নাম না করেই তিনি মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা তিনটি বিদেশি পাসপোর্ট (Golden, Ordinary, VIP) রাখার অভিযোগের সত্যতা প্রকাশের দাবি জানান।

বরাক উপত্যকা বঞ্চনা কংগ্রেস প্রচারে অন্যতম প্রধান ইস্যু। খাড়গে মনে করিয়ে দেন যে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী একসময় শিলচরকে ‘শান্তির দ্বীপ’ (Island of Peace) বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। কিন্তু আজ সরকারি ব্যর্থতার কারণে ছাত্র, শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। তিনি শিলচরের জলমগ্ন রাস্তাঘাট, ভাঙা ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং যানজটের কথা উল্লেখ করে বলেন, “এগুলো কোনোভাবেই উন্নয়নের লক্ষণ নয়।”

আসাম নির্বাচন ২০২৬: কংগ্রেসের প্রতিশ্রুতি লালার ভোটারদের ভাবনা

আসাম নির্বাচন ২০২৬ কংগ্রেস প্রচার-এ দলের “পাঁচ গ্যারান্টি” (Five Guarantees)-র কথাও উঠে এসেছে, যার মধ্যে মহিলাদের জন্য মাসিক ভাতা, ২৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্য বিমা এবং ভূমিহীনদের জমির পাট্টা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

খাড়গের এই কড়া বক্তব্য হাইলাকান্দি (Hailakandi) এবং লালা টাউনের (Lala Town) মতো বরাক উপত্যকার অন্যান্য সংলগ্ন এলাকাগুলোতেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। লালা বাজারের ভোটাররা, যারা প্রতি বছর বন্যা এবং বেহাল নিকাশি ব্যবস্থার শিকার হন, তাঁরা খাড়গের এই কথাগুলোর সঙ্গে সহজেই নিজেদের মিল খুঁজে পাচ্ছেন। অনুপ্রবেশ ইস্যুটি লালা এবং হাইলাকান্দিতে সব সময়ই একটি স্পর্শকাতর বিষয়। এখন দেখার বিষয়, ৯ এপ্রিলের ভোটে বরাক উপত্যকার মানুষ BJP-র উন্নয়ন ও হিন্দুত্বের বার্তায় ভরসা রাখেন, নাকি কংগ্রেসের এই বঞ্চনা ও মেরুকরণের অভিযোগে সাড়া দেন।

“BJP কেবল অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে রাজনীতি করে”: শিলচরের জনসভায় অমিত শাহকে কড়া আক্রমণ মল্লিকার্জুন খাড়গের
Scroll to top