Read today's news --> Click here

প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা ১১ বছরে ৫২ কোটি ঋণ, সত্তর শতাংশ সুবিধাভোগী মহিলা

৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা (Pradhan Mantri MUDRA Yojana, PMMY) তার ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে। ২০১৫ সালের এই দিনেই কেন্দ্রীয় সরকার দেশের ক্ষুদ্র ও অতি-ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য জামানতমুক্ত ঋণের এক যুগান্তকারী প্রকল্প চালু করেছিল। News on Air-এর প্রতিবেদন এবং সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ বছরে প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা দেশে ৫২ কোটিরও বেশি ঋণ মঞ্জুর করেছে এবং ৩৩ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিতরণ করেছে। এই প্রকল্পটি শুধু একটি সরকারি ঋণ পরিকল্পনা নয়; এটি দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির (Financial Inclusion) ইতিহাসে একটি মাইলফলক।

এই প্রকল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর সুবিধাভোগীদের পরিচয়। New Kerala-র সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট ঋণগ্রহীতার প্রায় ৭০ শতাংশই মহিলা উদ্যোক্তা। এ ছাড়া, প্রায় ৫০ শতাংশ ঋণ তফশিলি জাতি (SC), তফশিলি উপজাতি (ST) এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (OBC)-র মানুষের হাতে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা একই সাথে নারীর ক্ষমতায়ন ও সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশের অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তির হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

শিশু, কিশোর তরুণ: তিন স্তরে ঋণের কাঠামো

শিশু কিশোর তরুণ মুদ্রা ঋণ — এই তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করে PMMY-র ঋণ বিতরণ করা হয়। PIB (Press Information Bureau)-র তথ্য অনুযায়ী, শিশু (Shishu) বিভাগে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হয়, যা নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সবচেয়ে সহজলভ্য। কিশোর (Kishore) বিভাগে ৫০ হাজার থেকে ৫ লক্ষ টাকা এবং তরুণ (Tarun) বিভাগে ৫ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যায়। সম্প্রতি আরও একটি নতুন বিভাগ যুক্ত হয়েছে — তরুণ প্লাস (Tarun Plus), যেখানে সর্বোচ্চ ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া যাবে, যা প্রতিষ্ঠিত উদ্যোক্তাদের ব্যবসা বিস্তারে আরও বড় ভূমিকা রাখবে।

IBEF-এর তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২৪-২৫ অর্থবছরেই প্রায় ৪ কোটি ৭৯ লক্ষের বেশি ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছে, যার মোট পরিমাণ ছিল ৫ লক্ষ ২ হাজার ৭৮২ কোটি টাকারও বেশি। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন উল্লেখ করে যে, প্রকল্পের শুরুতে যেখানে বার্ষিক বিতরণ ছিল প্রায় ১৩ লক্ষ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৪-২৫ সালে তা বেড়ে ৪৯ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে — যা প্রকল্পের ক্রমবর্ধমান প্রসারের একটি স্পষ্ট প্রমাণ।

PMMY মহিলা উদ্যোক্তা ঋণ এবং আসামের অভিজ্ঞতা

PMMY মহিলা উদ্যোক্তা ঋণ প্রকল্পের সবচেয়ে উজ্জ্বল সাফল্যের গল্পগুলো লেখা হয়েছে দেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে। PIB-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মহিলা প্রতি গড় ঋণের পরিমাণ বার্ষিক ১৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়ে ৬২,৬৭৯ টাকায় পৌঁছেছে। যে সব রাজ্যে মহিলাদের মধ্যে ঋণ বিতরণের হার বেশি, সেখানে মহিলা-পরিচালিত MSME-র মাধ্যমে কর্মসংস্থানের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি বলে সরকারি গবেষণায় উঠে এসেছে।

আসামের প্রেক্ষাপটে PMMY-র প্রভাব বিশ্লেষণ করে একটি গবেষণাপত্রে দেখা গেছে যে, হস্তশিল্প, তাঁত, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, পশুপালন এবং ছোট দোকানদারির মতো ঐতিহ্যগত ক্ষেত্রে আসামের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা এই ঋণের সুবিধা নিয়েছেন। রাজ্যে মহিলা উদ্যোক্তাদের একটি বড় অংশ মুদ্রা ঋণের মাধ্যমে তাঁদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু বা প্রসারিত করতে পেরেছেন। তবে আর্থিক সাক্ষরতার অভাব এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতার মতো চ্যালেঞ্জও রয়ে গেছে বলে ওই গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

লালা হাইলাকান্দির উদ্যোক্তাদের জন্য সুযোগ

হাইলাকান্দি (Hailakandi) জেলা এবং লালা টাউনের (Lala Town) মতো আধা-শহরাঞ্চলীয় এলাকার জন্য প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্প। লালার বাজারে ছোট মুদিখানা, কাপড়ের দোকান, মোটর মেকানিক ওয়ার্কশপ, সেলাইয়ের দোকান, চায়ের স্টল এবং মৎস্য ব্যবসার মতো অসংখ্য ক্ষুদ্র উদ্যোগ রয়েছে। এই উদ্যোক্তাদের অনেকেরই ব্যাংক থেকে প্রচলিত পথে ঋণ নেওয়ার সুযোগ সীমিত, কারণ তাঁদের কাছে জমানদারি (Collateral) হিসেবে দেওয়ার মতো সম্পত্তি থাকে না। মুদ্রা যোজনা এই বাধাটাই দূর করে দিয়েছে।

বরাক উপত্যকার মতো অঞ্চলে মহিলা উদ্যোক্তারা বিশেষভাবে এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারেন। হস্তশিল্প, বাঁশ ও বেত শিল্প, হোম ডেলিভারি রান্নার ব্যবসা বা ছোট পোশাক তৈরির কারখানা — এই ধরনের উদ্যোগ শুরু করতে শিশু বা কিশোর বিভাগের মুদ্রা ঋণই যথেষ্ট। মুদ্রা লোন আসাম ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রসারে এই প্রকল্পের ভূমিকা আরও বাড়াতে হলে স্থানীয় ব্যাংকগুলোর আরও সক্রিয় প্রচারণা এবং আবেদন প্রক্রিয়াটি সহজ করা দরকার।

প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনার ১১ বছর সম্পূর্ণ হওয়ার এই মুহূর্তে একটি কথা স্পষ্ট: প্রকল্পের পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে চমকপ্রদ, কিন্তু প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে প্রত্যেক সুবিধাভোগী কতটা টেকসইভাবে তাঁর উদ্যোগ বজায় রাখতে পারছেন তার ওপর। আগামী দিনে সরকার যদি ঋণ বিতরণের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, বাজার সংযোগ এবং ডিজিটাল সহায়তার দিকেও গুরুত্ব দেয়, তাহলে এই যোজনা দেশের প্রত্যন্ত প্রান্তের মানুষের জীবনকে আরও অর্থপূর্ণভাবে বদলাতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা ১১ বছরে ৫২ কোটি ঋণ, সত্তর শতাংশ সুবিধাভোগী মহিলা
Scroll to top