স্পাইসজেট আকাসা এয়ার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল আজ ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (IGI)। SpiceJet-এর একটি Boeing B737-700 বিমান ট্যাক্সিয়িং করার সময় Akasa Air-এর একটি স্থির বিমানে ধাক্কা মারে — ফলে উভয় বিমানেই কাঠামোগত ক্ষতি হয়। যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের কেউই আহত হননি এবং সংশ্লিষ্ট বিমান দুটি দ্রুত সার্ভিস থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। Directorate General of Civil Aviation (DGCA) ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে এবং SpiceJet-এর বিমানটিকে দিল্লিতেই গ্রাউন্ড করা হয়েছে। ভারতের ব্যস্ততম বিমানবন্দরে এই ঘটনা গ্রাউন্ড ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
কীভাবে ঘটল এই সংঘর্ষ?
ঘটনাটি ঘটে IGI বিমানবন্দরের ট্যাক্সিওয়ে বা অ্যাপ্রন এলাকায়। Akasa Air-এর ফ্লাইট QP 1406 দিল্লি থেকে হায়দরাবাদ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল এবং বিমানটি সম্পূর্ণ স্থির অবস্থায় ছিল। সেই মুহূর্তে SpiceJet-এর B737-700 বিমানটি ট্যাক্সিয়িং করতে করতে Akasa Air-এর বিমানের পাশে এসে যায় এবং SpiceJet-এর ডানদিকের winglet-টি Akasa বিমানের বাঁ দিকের horizontal stabilizer (লেজের অনুভূমিক অংশ)-এ সজোরে আঘাত করে। আঘাতটি এতটাই তীব্র ছিল যে winglet-টি ভেঙে পড়ে এবং Akasa-র horizontal stabilizer ফুটো হয়ে যায়।
SpiceJet-এর একজন মুখপাত্র বিবৃতিতে বলেন, “১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে দিল্লি বিমানবন্দরে ট্যাক্সিয়িং করার সময় একটি গ্রাউন্ড ঘটনা ঘটে — ফলে আমাদের বিমানের ডান winglet এবং একটি ভিন্ন এয়ারলাইনের বিমানের left-hand horizontal stabilizer-এ ক্ষতি হয়েছে। SpiceJet বিমানটি দিল্লিতে গ্রাউন্ড করা হয়েছে।” Akasa Air-এর মুখপাত্রও জানিয়েছেন, “প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে সংঘর্ষের সময় আমাদের বিমান চলছিল না।” উভয় মুখপাত্রই নিশ্চিত করেছেন যে যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের সবাইকে নিরাপদে বিমান থেকে নামানো হয়েছে।
DGCA তদন্তে কী খোঁজা হচ্ছে?
স্পাইসজেট আকাসা এয়ার সংঘর্ষের পর DGCA তাৎক্ষণিকভাবে SpiceJet বিমানটি গ্রাউন্ড করে এবং উচ্চ-পর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে তিনটি বিষয় মূলত খতিয়ে দেখা হচ্ছে — প্রথমত, SpiceJet-এর পাইলট নির্ধারিত ট্যাক্সি পথ অনুসরণ করেছিলেন কিনা। দ্বিতীয়ত, Air Traffic Control (ATC) ও গ্রাউন্ড ক্রু-এর মধ্যে যোগাযোগ ঠিকমতো হয়েছিল কিনা। তৃতীয়ত, ঘটনার সময় আবহাওয়া ও দৃশ্যমানতার অবস্থা কেমন ছিল।
India Today-র বিশ্লেষণে উঠে এসেছে আরও গভীর প্রশ্ন — বিমানবন্দরের অ্যাপ্রন এলাকায় সবসময় গ্রাউন্ড স্টাফ থাকার কথা এবং ATC-র নির্দেশনা অনুযায়ী বিমান চলার কথা। তা সত্ত্বেও একটি চলন্ত বিমান কীভাবে স্থির বিমানে ধাক্কা দিল — সেটি গুরুতর প্রশ্ন। বিমান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যস্ত বিমানবন্দরে ট্যাক্সিয়িং-এর সময় মাঝে মাঝে বিমানগুলো পরস্পরের অনেক কাছে চলে আসে — তবে winglet-এর এমন সরাসরি আঘাত সাধারণত ঘটে না।
উল্লেখযোগ্য যে, মাত্র এক সপ্তাহ আগে ৯ এপ্রিল কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বিমানবন্দরে IndiGo-র একটি বিমান Air India Express-এর স্থির বিমানে ধাক্কা মেরেছিল। একের পর এক এই ধরনের গ্রাউন্ড ঘটনা ভারতের বিমানবন্দরগুলোর তাড়াহুড়ো পরিচালনা ব্যবস্থার উপর আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করছে।
আসাম থেকে দিল্লিগামী যাত্রীদের জন্য কী বার্তা?
এই সংঘর্ষ সরাসরি আসামের যাত্রীদের প্রভাবিত না করলেও গুয়াহাটি ও শিলচর থেকে দিল্লি হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াতকারী বহু মানুষের জন্য এটি একটি সতর্কতার ঘণ্টা। হাইলাকান্দি ও লালা অঞ্চলের যে যাত্রীরা চিকিৎসা, কর্মসূত্র বা পরীক্ষার জন্য দিল্লিতে SpiceJet বা Akasa Air-এর ফ্লাইটে ভ্রমণ করেন, তাঁদের জানা দরকার — উভয় এয়ারলাইনই যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থা দ্রুত করেছে এবং বর্তমানে ফ্লাইট পরিচালনায় কোনো বিঘ্ন ঘটছে না। দিল্লি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, এই ঘটনার পর IGI-তে সামগ্রিক ফ্লাইট অপারেশন মূলত স্বাভাবিকই রয়েছে।
DGCA-র তদন্ত শেষ হলে স্পষ্ট হবে এই দুর্ঘটনার দায় ঠিক কোথায়। এপ্রিলের এই সংঘর্ষ এবং তার আগের কলকাতার ঘটনা মিলিয়ে বিমান নিরাপত্তা নিয়ে নতুন একটি জাতীয় আলোচনার সূচনা হয়েছে। গ্রাউন্ড ট্র্যাফিক ম্যানেজমেন্টে আরও কঠোর প্রোটোকল এবং ট্যাক্সিওয়েতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার — এই দুটি বিষয়ে DGCA ইতিমধ্যে বিশেষজ্ঞ পর্যালোচনা শুরু করার কথা জানিয়েছে। ভারতের যাত্রী পরিবহনে এয়ারলাইনগুলোর প্রসার যত বাড়ছে, বিমানবন্দরের মাটিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চাপও সমানুপাতে বাড়ছে।