Read today's news --> Click here

মিড-ডে মিল চুরি কাছাড়ের নার্সিংপুর স্কুলে — বিহু ছুটিতে গুদাম ফাঁকা, তদন্তের নির্দেশ

মিড-ডে মিল চুরির একটি উদ্বেগজনক ঘটনা সামনে এসেছে কাছাড় জেলার নার্সিংপুর এলাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। বিহু উপলক্ষে স্কুলে ছুটি চলাকালীন বিদ্যালয়ের গুদামঘর থেকে মিড-ডে মিলের জন্য বরাদ্দ চাল চুরি হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ছুটির পর স্কুল খুলতেই বিষয়টি নজরে আসে এবং দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো হয়। এই ঘটনায় অভিভাবক মহলে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে — কারণ মিড-ডে মিল প্রকল্পের সুবিধাভোগী শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কীভাবে ঘটল এই ঘটনা?

বিহু উৎসবের দীর্ঘ ছুটিতে নার্সিংপুরের ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষক বা কর্মী উপস্থিত ছিলেন না। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মিড-ডে মিলের জন্য রাখা চালের গুদামঘর এই সুযোগে লক্ষ্যবস্তু হয়। ছুটি শেষে স্কুল পুনরায় চালু হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি গুদামঘরে গিয়ে দেখেন, বরাদ্দ চালের একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অনুপস্থিত। বিদ্যালয়ের তালা ভাঙার চিহ্ন অথবা অন্য কোনো জোর করে প্রবেশের প্রমাণ পাওয়া গেছে কিনা, সে বিষয়ে তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে এবং তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভারতে মিড-ডে মিল প্রকল্প — যা বর্তমানে পিএম পোষণ (PM POSHAN) নামে পরিচিত — কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ অর্থায়নে সরকারি বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের প্রতিদিন রান্না করা খাবার সরবরাহ করে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য দুটি — বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বাড়ানো এবং শিশুদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা। কাছাড়ের মতো জেলায়, যেখানে বহু পরিবার আর্থিকভাবে পিছিয়ে আছে, এই প্রকল্পের গুরুত্ব অপরিসীম। সেই প্রকল্পের চাল চুরি হওয়ার অর্থ সরাসরি শিশুদের পুষ্টি থেকে বঞ্চিত করা।

মিড-ডে মিল দুর্নীতি: আসামে বৃহত্তর চিত্র

মিড-ডে মিল চুরি বা দুর্নীতির ঘটনা কাছাড়ে এই প্রথম নয়। আসামজুড়ে বিভিন্ন সময়ে মিড-ডে মিলের চাল, তেল বা অন্যান্য সামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় স্তরে Comptroller and Auditor General (CAG)-এর একাধিক প্রতিবেদনে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মিড-ডে মিল প্রকল্পে অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই ধরনের ঘটনার একটি সাধারণ ধরন হল — বিদ্যালয় ছুটি থাকলে বা তত্ত্বাবধান শিথিল হলে গুদামের মাল সরিয়ে ফেলা। নার্সিংপুরের ঘটনা ঠিক এই ধাঁচেরই।

স্থানীয় অভিভাবকরা প্রশ্ন তুলছেন — দীর্ঘ বিহু ছুটিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা কে নিশ্চিত করে? গুদামঘরের চাবি কার কাছে থাকে? এবং বছরের পর বছর ধরে এই ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকলেও জবাবদিহিতার ব্যবস্থা কেন জোরদার হচ্ছে না? অভিভাবক সমাজের এই প্রশ্নগুলো কেবল একটি স্কুলের চাল চুরির ঘটনাকে ছাড়িয়ে গিয়ে সামগ্রিক সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বৃহত্তর ইস্যুকে সামনে আনছে।

হাইলাকান্দি লালা অঞ্চলের প্রাসঙ্গিকতা

কাছাড়ের নার্সিংপুরের এই ঘটনা হাইলাকান্দি ও করিমগঞ্জের মানুষদের কাছেও সমান প্রাসঙ্গিক — কারণ বরাক উপত্যকার তিন জেলাতেই PM POSHAN প্রকল্পের আওতায় শত শত সরকারি বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল চালু রয়েছে। লালা ও হাইলাকান্দির গ্রামীণ এলাকায় এমন বহু পরিবার আছে যাদের সন্তানদের স্কুলে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণই হল মিড-ডে মিলের নিশ্চিত খাবার। সেই খাবারের উপকরণ যদি চুরি হয়ে যায়, তাহলে প্রকল্পের উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে পড়ে।

স্থানীয় সচেতন মহল থেকে দাবি উঠেছে — সকল সরকারি বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিলের গুদামে ডিজিটাল তালা ও CCTV লাগানো হোক এবং প্রতি মাসে মজুত তালিকা সরকারি পোর্টালে আপলোড করা বাধ্যতামূলক করা হোক। এই ধরনের স্বচ্ছতার ব্যবস্থা না থাকলে ছুটির সুযোগে চুরির ঘটনা বারবার ঘটতে থাকবে।

কাছাড় জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগ তদন্ত শুরু করেছে — কিন্তু প্রশ্ন হল, এই তদন্ত কতটা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে এগোবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা। অতীতে দেখা গেছে, এই ধরনের ঘটনায় তদন্ত শুরু হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়। নার্সিংপুরের ঘটনা যদি সত্যিকারের জবাবদিহিতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে, তাহলে তা সমগ্র বরাক উপত্যকার সরকারি স্কুলগুলোর জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা হবে।

মিড-ডে মিল চুরি কাছাড়ের নার্সিংপুর স্কুলে — বিহু ছুটিতে গুদাম ফাঁকা, তদন্তের নির্দেশ
Scroll to top