Read today's news --> ⚡️Click here 

আসাম বিদ্যুৎ কভারেজ ৯৬.৪%-এ পৌঁছে গেছে

আসাম বিদ্যুৎ কভারেজ ৯৬.৪%-এ পৌঁছে গেছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই অগ্রগতির ঘোষণা দিয়েছেন। বর্তমানে রাজ্যের প্রায় সব বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। গ্রাম ও শহর উভয় এলাকায় এই উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই অর্জনটি আসামের জন্য গর্ভের ব্যাপার।

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন, “আমরা বিদ্যুৎ বিতরণের কাজে প্রচুর অগ্রগতি অর্জন করেছি। গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল। এখন আমরা ৯৬.৪% কভারেজ অর্জন করেছি।” এই ঘোষণা রাজ্যের উন্নয়নের ইতিবাচক দিক তুলে ধরে। আসাম বিদ্যুৎ কভারেজ বৃদ্ধি রাজ্যের অর্থনীতি ও জনজীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

বিদ্যুৎ বিতরণের অগ্রগতি পরিসংখ্যান

আসাম বিদ্যুৎ কভারেজ ৯৬.৪%-এ উন্নীত হওয়ার পরে, রাজ্য সরকার আরও উন্নতির পরিকল্পনা করছে। ২০২১ সালে ৮৮% কভারেজ ছিল, যা এখন ৯৬.৪%-এ উন্নীত হয়েছে। এই ৮.৪% বৃদ্ধি চার বছরে অর্জন করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫ লক্ষ নতুন বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে।

রাজ্যের জেলাগুলোতে বিদ্যুৎ বিতরণের হার ভিন্ন। বরাক উপত্যকার জেলাগুলিতে (সিলচর, করিমগঞ্জ, হাইলাকান্দি, কাছাড়) কভারেজ ৯৪% থেকে ৯৭% এর মধ্যে রয়েছে। উত্তর আসামের জেলাগুলিতে ৯৬% থেকে ৯৮% কভারেজ দেখা যাচ্ছে। এই পরিসংখ্যান সরকারি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বরাক উপত্যকা হাইলাকান্দি জেলার প্রেক্ষাপট

বরাক উপত্যকার জন্য আসাম বিদ্যুৎ কভারেজ বাড়ার ফলে বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এই অঞ্চলের গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুতের অভাব ছিল। এখন সিলচর, করিমগঞ্জ, হাইলাকান্দি ও কাছাড় জেলার প্রায় সব গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। লালা টাউন ও হাইলাকান্দি জেলের মানুষও এই সুবিধা ভোগ করছে।

লালা বাজার এলাকার ব্যবসায়ীরা ও ছাত্ররা এই খবরে খুশি। কারণ বিদ্যুৎ সংযোগ বাড়লে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় সুবিধা হবে। হাইলাকান্দি জেলায় কৃষি, মৎস ও লঘু শিল্পে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়বে। স্থানীয়রা মনে করেন, এই উন্নয়ন জেলার অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সরকারি পরিকল্পনা ভবিষ্যতের লক্ষ্য

হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন, “আমরা ২০২৭ সালের মধ্যে ১০০% বিদ্যুৎ কভারেজ অর্জন করতে চাই। আমাদের পরিকল্পনা হলো সব গ্রামে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সরকার বড় প্রকল্প গ্রহণ করেছে। নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ট্রান্সমিশন লাইন এবং ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ চলছে।

রাজ্যের বিদ্যুৎ দপ্তর নতুন প্রকল্পে ১,৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। এই প্রকল্পে ৫০০ কিমি নতুন ট্রান্সমিশন লাইন স্থাপন করা হবে। ২০২৬-২৭ সালের মধ্যে ১০ হাজার নতুন গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। এসব প্রকল্পের ফলে আসাম বিদ্যুৎ কভারেজ ১০০%-এ পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জনজীবনে বিদ্যুৎ উন্নতির প্রভাব

বিদ্যুৎ কভারেজ বাড়ার ফলে রাজ্যের জনজীবনে বড় পরিবর্তন আসছে। গ্রামের শিক্ষার্থীরা এখন সন্ধ্যায় পড়াশোনা করতে পারছে। ছোট ও লঘু শিল্পে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় চিকিৎসার মান উন্নত হয়েছে।

কৃষকরা বিদ্যুৎ ব্যবহার করে পাম্প চালিয়ে সেচ দিচ্ছেন। মৎস চাষ ও পশুপালনে বিদ্যুতের সুবিধা বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা বিদ্যুতের সাহায্যে ফ্রিজ, আলো ও অন্যান্য যন্ত্র চালাচ্ছেন। আসাম বিদ্যুৎ কভারেজ বৃদ্ধি জনজীবনের সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

স্থানীয় উদ্যোগ সচেতনতা

লালা টাউন ও হাইলাকান্দি জেলায় বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ও সঠিক ব্যবহারের সচেতনতা কর্মসূচি চলছে। স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি সেন্টারে বিদ্যুৎ বাঁচানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অভিভাবকরাও শিশুদের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ব্যবহার শিখিয়ে দিচ্ছেন।

হাইলাকান্দি জেলার পঞ্চায়েতগুলি বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের সুবিধা বাড়িয়েছে। অনলাইন বিল পেমেন্ট ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল দেওয়া এখন সহজ। এই উদ্যোগ জনসাধারণের জন্য সুবিধাজনক। আসাম বিদ্যুৎ কভারেজ বাড়ার ফলে মানুষের জীবনমানও উন্নত হচ্ছে।

আসাম বিদ্যুৎ কভারেজ ৯৬.৪%-এ পৌঁছানো একটি বড় অর্জন। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে এই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সরকার ২০২৭ সালের মধ্যে ১০০% কভারেজ লক্ষ্য অর্জনে প্রস্তুত। বরাক উপত্যকা ও হাইলাকান্দি জেলার মানুষও এই সুবিধা ভোগ করছে। ভবিষ্যতে আসামের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে বলে আশা করা যায়।

আসাম বিদ্যুৎ কভারেজ ৯৬.৪%-এ পৌঁছে গেছে
Scroll to top