Read today's news --> ⚡️Click here 

আসাম DA DR ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি: ৮ লক্ষেরও বেশি কর্মচারী ও পেনশনভোগী উপকৃত

আসাম DA DR ৬০ শতাংশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। ৫ জুন নবগঠিত হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান ৫৮ শতাংশ থেকে সরাসরি ২ শতাংশ বাড়িয়ে মহার্ঘ ভাতা (DA) ও মহার্ঘ ত্রাণ (DR) ৬০ শতাংশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং এটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।

এই বৃদ্ধিতে রাজ্যের ৮ লক্ষেরও বেশি কর্মচারী ও পেনশনভোগী সরাসরি উপকৃত হবেন। কর্মরত সরকারি কর্মচারী ছাড়াও সাধারণ পেনশনভোগী, পারিবারিক পেনশনভোগী, অসাধারণ পেনশনভোগী এবং করুণামূলক পারিবারিক পেনশনভোগীরা সকলেই এই বর্ধিত হারের সুবিধা পাবেন।

DA DR বৃদ্ধির পটভূমি তাৎপর্য

আসাম DA DR ৬০ শতাংশ বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ আসেনি। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে রাজ্য ক্যাবিনেট DA ও DR ৫৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫৮ শতাংশ করেছিল, যা ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে পূর্ববর্তী কার্যকারিতায় প্রযোজ্য হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের মাত্র আট মাসের মধ্যে এবার আরও ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেল।

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সাংবাদিক বৈঠকে জানান, “বর্ধিত হারে DA ও DR রাজ্য সরকারের কর্মচারী, পেনশনভোগী, পারিবারিক পেনশনভোগী, অসাধারণ পেনশনভোগী এবং করুণামূলক পারিবারিক পেনশনভোগীদের সকলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।” এই সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় সরকারের DA বৃদ্ধির নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আসামের পাশাপাশি বিহার, ওড়িশা, তামিলনাড়ু এবং উত্তরপ্রদেশ-সহ একাধিক রাজ্য ২০২৬ সালে DA বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। তবে নতুন সরকার গঠনের প্রথম দিনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

আসাম সরকারি কর্মচারী পেনশন ভাতা ও MLALAD তহবিল বৃদ্ধি

একই ক্যাবিনেট বৈঠকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আসাম DA DR ৬০ শতাংশ বৃদ্ধির পাশাপাশি বিধায়কদের স্থানীয় এলাকা উন্নয়ন তহবিল (MLALAD) বৃদ্ধিও ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতি বিধায়কের জন্য বার্ষিক ১ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, যা ২০১৬ সাল থেকে একই ছিল।

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই প্রসঙ্গে বলেন, “MLALAD তহবিল ২০১৬ সাল থেকে ১ কোটি টাকাতেই আটকে ছিল। আমরা এখন চলতি বছরের জন্য এটি ১.৫ কোটি টাকায় উন্নীত করেছি এবং আগামী এপ্রিল থেকে ২ কোটি টাকা করা হবে।” চলতি বছর অর্থবর্ষের অর্ধেকেরও বেশি সময় কেটে গেছে বলে এ বছর ১.৫ কোটি এবং পূর্ণ ২ কোটি কার্যকর হবে ২০২৭-২৮ অর্থবর্ষ থেকে।

এই তহবিলের ব্যবহার সংক্রান্ত নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে পুরো অর্থ শুধুমাত্র পরিকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করতে হতো। কিন্তু এখন বার্ষিক বরাদ্দের ১০ শতাংশ পর্যন্ত সামাজিক, শিক্ষামূলক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ও প্রতিবন্ধী সহায়তার সরঞ্জাম কেনা ও বিতরণের কাজে ব্যবহার করা যাবে।

হাইলাকান্দি জেলা এবং লালা টাউনের জন্য এই সিদ্ধান্তটি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। জেলার সরকারি কর্মচারী ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা DA ও DR বৃদ্ধির সরাসরি সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি MLALAD তহবিল বৃদ্ধির ফলে স্থানীয় বিধায়কের হাতে এলাকা উন্নয়নের জন্য আরও বেশি অর্থ আসবে, যা গ্রামীণ রাস্তা, বিদ্যালয় পরিকাঠামো এবং জনকল্যাণমূলক সরঞ্জাম ক্রয়ে কাজে লাগবে।

ডিব্রুগড় দ্বিতীয় রাজধানী উন্নয়ন: ৫০০ কোটির প্রকল্প

একই বৈঠকে ডিব্রুগড় দ্বিতীয় রাজধানী উন্নয়নের একটি বড় প্রকল্পও অনুমোদিত হয়েছে। ডিব্রুগড়কে আসামের দ্বিতীয় রাজধানী অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং ডিব্রুগড় ক্যাপিটাল কমপ্লেক্স থেকে ২০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা অঞ্চলকে ‘সেকেন্ড স্টেট ক্যাপিটাল রিজিয়ন’ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই অঞ্চলের পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য ‘সেকেন্ড স্টেট ক্যাপিটাল রিজিয়ন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি, ডিব্রুগড়’ (SCRDA-D) নামে একটি নতুন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ডিব্রুগড়ের বিধায়ক প্রশান্ত ফুকন SCRDA-D-এর এক্স-অফিসিও চেয়ারম্যান হিসেবে ক্যাবিনেট মর্যাদা পাবেন। পাঁচ বছরের মধ্যে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের বাইরে অতিরিক্ত ৫০০ কোটি টাকা এই অঞ্চলের পরিকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।

এই সিদ্ধান্তটি আকস্মিক নয়। গত জানুয়ারিতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ডিব্রুগড়কে আসামের দ্বিতীয় প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে ১,৭১৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। আজকের SCRDA-D গঠন সেই পরিকল্পনারই পরবর্তী ধাপ।

শিক্ষা খাতে প্রমোশন বিধি সংশোধন

ক্যাবিনেট বৈঠকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে শিক্ষা খাতে। আসাম সেকেন্ডারি এডুকেশন (প্রভিনশিয়ালাইজড স্কুলস) সার্ভিস রুলস, ২০২৬ সংশোধন করা হয়েছে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে প্রভিনশিয়ালাইজড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত গ্রেড-IV কর্মচারীদের গ্রেড-III পদে পদোন্নতির জন্য একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া তৈরি করা সম্ভব হবে।

এই সিদ্ধান্তটি সারা রাজ্যের সরকারি বিদ্যালয়ে কর্মরত চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করল। হাইলাকান্দি জেলার বিভিন্ন প্রভিনশিয়ালাইজড বিদ্যালয়েও এই শ্রেণির কর্মচারীরা রয়েছেন, যারা এই সংশোধনীর ফলে পদোন্নতির সুযোগ পাবেন।

একটি দিনেই মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধি, বিধায়ক উন্নয়ন তহবিল বৃদ্ধি, ডিব্রুগড়ের দ্বিতীয় রাজধানী অঞ্চলের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং শিক্ষা বিভাগে প্রমোশন বিধি সংস্কার — নতুন সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকটি স্পষ্টতই একটি বার্তা দিয়েছে। কর্মচারী সমাজ থেকে শুরু করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাকর্মী থেকে ভবিষ্যৎ শহুরে উন্নয়নের ব্লুপ্রিন্ট — সবকিছুকেই এই বৈঠক ছুঁয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন একটাই — জুলাইয়ের বাজেট অধিবেশনে এই প্রতিশ্রুতিগুলি কতটা বাস্তব অর্থবরাদ্দ পায়।

আসাম DA DR ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি: ৮ লক্ষেরও বেশি কর্মচারী ও পেনশনভোগী উপকৃত
Scroll to top