Read today's news --> ⚡️Click here 

গুয়াহাটিতে কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ আটক, সিইসির অপসারণ দাবি

আসাম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি গৌরব গগৈ শুক্রবার গুয়াহাটিতে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচির সময় পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন।  মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজীব ভবনে আয়োজিত এই বিক্ষোভে গগৈর সাথে দলের একাধিক নেতা ও কর্মীকেও আটক করা হয় । কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ আটকের এই ঘটনা কংগ্রেসের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে চালানো একটি দেশব্যাপী আন্দোলনের অংশ, যেখানে দলটি ভোটার তালিকা প্রণয়নে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে এবং এটিকে “ভোট চোরি” বলে অভিহিত করছে।

গুয়াহাটির বিক্ষোভ ও আটকের ঘটনাক্রম

বিক্ষোভের সময় গৌরব গগৈ ও অন্যান্য কংগ্রেস নেতাদের পুলিশ আটক করার পর তাঁদের কাহিলিপাড়ায় অবস্থিত দশম আসাম পুলিশ ব্যাটালিয়ন ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয় । কংগ্রেস মুখ্য নির্বাচন কমিশনার কুমারের অপসারণের দাবির পাশাপাশি তাঁর মেয়াদকালে গৃহীত ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলির একটি স্বাধীন পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। আসাম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি জানিয়েছে যে তারা এই আন্দোলন রাজ্যের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকা ও জেলা পর্যায়ের কেন্দ্রগুলিতেও সম্প্রসারিত করবে।

গুয়াহাটির পাশাপাশি জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, চণ্ডীগড় এবং পশ্চিমবঙ্গেও একই দিনে অনুরূপ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা প্রমাণ করে এটি একটি সুসংগঠিত জাতীয় স্তরের আন্দোলন । মণিপুরে বিক্ষোভ সবচেয়ে উত্তপ্ত রূপ নেয়, যেখানে বিক্ষোভকারীরা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কার্যালয়ের সামনে কুমারের কুশপুতুল পোড়ান এবং পরিস্থিতি সংঘাতপূর্ণ হয়ে ওঠায় পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে ।

আন্দোলনের মূল অভিযোগ ও কংগ্রেসের দাবি

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কেসি ভেণুগোপাল অভিযোগ করেছেন যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার কুমার বিজেপির নিয়ন্ত্রণে থেকে একটি “ব্যাপক ভোট চোরি” প্রক্রিয়া পরিচালনা করছেন । তিনি জানান, দলের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে, এবং ২৮ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় পর্যায়ে সমস্ত জেলা কংগ্রেস কমিটি স্থানীয় জেলাশাসকের কার্যালয়গুলিতে অনুরূপ বিক্ষোভ মিছিল আয়োজন করবে ।

মণিপুর কংগ্রেস প্রদেশ কমিটির সভাপতি ওক্রাম ইবোবি সিং ও বিধানসভা দলের নেতা কেইশাম মেঘচন্দ্র সিংয়ের নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছেন যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় জেন-জি ভোটারদের বাদ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে । এই প্রতিবাদ একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের পর তীব্রতা পায়, যেখানে দাবি করা হয়েছিল দুইজন নির্বাচন কমিশনার ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে বারবার আপত্তি জানিয়েছিলেন । তবে একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে নির্বাচন কমিশন তাদের প্রক্রিয়া রক্ষা করে বলেছে, তাদের সমস্ত নির্দেশ প্রতিষ্ঠিত নিয়ম অনুসরণ করেই জারি করা হয়েছে ।

আসামে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

ফোরাম ফর সোশ্যাল হারমনি-নাগরিক উদ্যোগ শুক্রবার আসামে চলমান ভোটার তালিকা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানিয়েছে, এবং প্রকৃত ভোটারদের নাম পুনরুদ্ধার এবং তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আগে স্বচ্ছ আপিলের সুযোগ প্রদানের আহ্বান জানিয়েছে । সংগঠনটি অভিযোগ করেছে যে এই সংশোধন প্রক্রিয়া নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ করেছে, এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার কুমারের অপসারণের দাবিও পুনরাবৃত্তি করেছে ।

এই প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে যে ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত বিতর্ক আসামে কেবল রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলিও এই বিষয়ে সরাসরি উদ্বেগ প্রকাশ করছে। রাহুল গান্ধী নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার পরের দিনই এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা প্রমাণ করে এই ইস্যু কংগ্রেসের জাতীয় নেতৃত্বের কাছেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

হাইলাকান্দি ও লালা টাউনের জন্য এই আন্দোলনের তাৎপর্য

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া আসামের প্রতিটি জেলায় প্রযোজ্য, যার মধ্যে হাইলাকান্দি জেলাও অন্তর্ভুক্ত। কংগ্রেসের ঘোষিত দ্বিতীয় পর্যায়ের আন্দোলন অনুযায়ী ২৮ সেপ্টেম্বর সমস্ত জেলা কংগ্রেস কমিটি স্থানীয় জেলাশাসকের কার্যালয়ে বিক্ষোভ আয়োজন করবে, যার অর্থ হাইলাকান্দি জেলা কংগ্রেস কমিটিও এই কর্মসূচির আওতায় পড়তে পারে।

লালা টাউন ও হাইলাকান্দি জেলার ভোটারদের জন্য ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া সরাসরি প্রাসঙ্গিক, কারণ এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে কারা ভবিষ্যতের নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। স্থানীয় ভোটারদের উচিত তাদের নিজ নিজ ভোটার তালিকায় নাম যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত আছে কিনা, তা নিয়মিত যাচাই করা এবং কোনো অসঙ্গতি দেখা গেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশোধনের জন্য আবেদন করা।

আগামী দিনে আন্দোলনের অগ্রগতির দিকে নজর কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ আটকের এই ঘটনার পর এখন সবার নজর থাকবে ২৮ সেপ্টেম্বর জেলা পর্যায়ে ঘোষিত দ্বিতীয় পর্যায়ের আন্দোলনের দিকে, যা হাইলাকান্দিসহ আসামের প্রতিটি জেলায় সম্প্রসারিত হতে পারে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবি নিয়ে কংগ্রেস ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে এই বিতর্ক কীভাবে সমাধান হয় এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে ভবিষ্যতে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তার দিকেই এখন নজর থাকবে সমগ্র আসামবাসীর, যাদের ভোটাধিকার সরাসরি এই প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত।

গুয়াহাটিতে কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ আটক, সিইসির অপসারণ দাবি
Scroll to top