আসাম সরকারের অর্থ দপ্তর রাজ্যের পুরুষ সরকারি কর্মচারীদের জন্য পিতৃত্বকালীন ছুটির বিধান চালু করেছে, যার আওতায় যোগ্য কর্মচারীরা ১৪ দিনের ছুটি পাবেন। অর্থ দপ্তরের জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে সন্তানের প্রত্যাশিত জন্মের ১৪ দিন আগে থেকে জন্মের ছয় মাস পর্যন্ত যে কোনো সময়ে এই ছুটি ভোগ করা যাবে । আসামে ১৪ দিনের পিতৃত্বকালীন ছুটির এই নতুন নিয়ম রাজ্যের হাজার হাজার সরকারি কর্মচারী পরিবারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা নিয়ে এসেছে।
নতুন বিধানের বিস্তারিত শর্তাবলি
এই সুবিধা শুধুমাত্র সেই সমস্ত পুরুষ সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে, যাদের দুইটির বেশি সন্তান নেই । এই শর্তের মাধ্যমে সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে এই সুবিধা পরিবার পরিকল্পনা নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা হয়েছে। অর্থ দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো সরকারি কর্মচারীদের নবজাতক সন্তানের সাথে সময় কাটানোর সুযোগ প্রদান করা এবং পিতৃত্বের প্রাথমিক পর্যায়ে পরিবারকে সহায়তা করার সুযোগ তৈরি করা।
এই বিধান কার্যকর হওয়ার ফলে বাবারা এখন সন্তান জন্মের সময় সরাসরি উপস্থিত থাকতে পারবেন এবং জন্মের পরের মাসগুলিতেও সন্তান পরিচর্যায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই সিদ্ধান্ত সরকারি কর্মচারীদের জন্মকালীন সময়ে অধিক নমনীয়তা প্রদান করবে এবং পিতাদের নবজাতকের প্রাথমিক পরিচর্যা ও পরিবারের প্রতি সহায়তায় অধিকতর সক্রিয় ভূমিকা নিতে সাহায্য করবে ।
কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়মের সাথে তুলনা
কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিয়ম পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে সেন্ট্রাল সিভিল সার্ভিসেস লিভ রুলসের আওতায় কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা ১৫ দিনের পিতৃত্বকালীন ছুটির অধিকারী, যা আসামের নতুন বিধানের চেয়ে এক দিন বেশি । ভারতে বেসরকারি ক্ষেত্রের কর্মচারীদের জন্য এখনও কোনো কেন্দ্রীয় বিধিবদ্ধ পিতৃত্বকালীন ছুটির নিয়ম নেই, এবং প্রায় ১৪ শতাংশ ভারতীয় বেসরকারি কোম্পানির একটি আনুষ্ঠানিক পিতৃত্বকালীন ছুটির নীতি রয়েছে, যা সাধারণত পাঁচ থেকে পনেরো দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সুপ্রিম কোর্ট চলতি বছরের ১৭ মার্চ হংসানন্দিনী নন্দুরি বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া মামলায় কেন্দ্রীয় সরকারকে একটি সর্বজনীন পিতৃত্বকালীন ছুটির আইনি কাঠামো প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছিল, যদিও এখনও পর্যন্ত এমন কোনো সর্বভারতীয় কাঠামো কার্যকর হয়নি । এই প্রেক্ষিতে আসাম সরকারের এই পদক্ষেপ রাজ্যস্তরে একটি অগ্রগামী সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যা কর্মচারী কল্যাণ নীতির ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি নির্দেশ করে।
সরকারি কর্মচারী কল্যাণে রাজ্যের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ
আসাম সরকার সম্প্রতি সরকারি কর্মচারীদের জন্য আরও কিছু কল্যাণমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। রাজ্য সরকার সম্প্রতি সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা ৪ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে । এই ধারাবাহিক পদক্ষেপগুলি প্রমাণ করে যে রাজ্য সরকার সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একাধিক দিক থেকে কাজ করছে।
পিতৃত্বকালীন ছুটির এই নতুন বিধান বিশেষত তরুণ সরকারি কর্মচারীদের জন্য উল্লেখযোগ্য গুরুত্ব বহন করে, যারা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে চাকরিতে যুক্ত হয়েছেন এবং পরিবার গঠনের পর্যায়ে রয়েছেন। কর্মক্ষেত্রে পরিবার-বান্ধব নীতির এই সম্প্রসারণ সরকারি চাকরির আকর্ষণ বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
হাইলাকান্দি ও লালা টাউনের সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রাসঙ্গিকতা
আসামে ১৪ দিনের পিতৃত্বকালীন ছুটির এই নতুন নিয়ম হাইলাকান্দি জেলা ও লালা টাউনের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত পুরুষ কর্মচারীদের জন্যও সরাসরি প্রযোজ্য। জেলার স্কুল, প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ব্লক অফিস এবং অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হাজারেরও বেশি কর্মচারী এই সুবিধার আওতায় আসবেন, যা তাদের পরিবার পরিকল্পনা ও সন্তান পরিচর্যার ক্ষেত্রে সরাসরি সহায়ক হবে।
লালা টাউনের মতো ছোট শহরে কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের জন্য এই সুবিধা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রান্তিক এলাকায় প্রায়শই সন্তান জন্মের সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা ও পরিবহনের জন্য অতিরিক্ত সময় ও পরিশ্রমের প্রয়োজন হয়। এই ছুটির সুবিধা এই ধরনের ক্ষেত্রে পরিবারগুলিকে অতিরিক্ত নমনীয়তা প্রদান করবে।
আগামী দিনে প্রত্যাশিত প্রভাব
আসামে ১৪ দিনের পিতৃত্বকালীন ছুটি চালু হওয়ার ফলে আগামী দিনে রাজ্যের সরকারি চাকরিতে কর্মচারী কল্যাণ নীতির আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে বেসরকারি ক্ষেত্রেও অনুরূপ নীতি গ্রহণের জন্য চাপ সৃষ্টি হতে পারে, বিশেষত যখন সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় স্তরে একটি সর্বজনীন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছে। হাইলাকান্দি জেলা তথা লালা টাউনের সরকারি কর্মচারীরা এই নতুন সুবিধা কীভাবে ব্যবহার করেন এবং এর ফলে তাদের পরিবারিক জীবনে কী প্রভাব পড়ে, তা আগামী দিনে স্পষ্ট হবে।