অরুণোদয় প্রকল্পের মাসিক সহায়তা ভবিষ্যতে ২০০০ টাকায় পৌঁছতে পারে—এমন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা তৈরি হলেও অসম সরকার এখনই ওই অঙ্কের ভাতা অনুমোদন করেনি। বর্তমানে যোগ্য মহিলা সুবিধাভোগীদের নিয়মিত মাসিক সহায়তা ১২৫০ টাকা। দুর্গাপুজো উপলক্ষে শুধু অক্টোবর মাসের জন্য তা বাড়িয়ে ১৫০০ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। অরুণোদয় ভাতা ২০০০ টাকা নিয়ে খবরের শিরোনাম দেখলে এই তিনটি বিষয় আলাদা করে বোঝা জরুরি: ভবিষ্যতের লক্ষ্য, এখনকার নিয়মিত ভাতা এবং অক্টোবরের বিশেষ বরাদ্দ এক নয়। ২৪ সেপ্টেম্বর মুখ্যমন্ত্রী ডঃ হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অক্টোবরের অতিরিক্ত অর্থের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রাপ্য ১৫০০ টাকা হলো ওই মাসের মোট অরুণোদয় সহায়তা—নিয়মিত ১২৫০ টাকার সঙ্গে আরও ১৫০০ টাকা যোগ করে দেওয়া হবে না। অর্থাৎ যোগ্য সুবিধাভোগী নিয়মিত অঙ্কের তুলনায় অতিরিক্ত ২৫০ টাকা পাবেন। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে জানানো মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে মুখ্যমন্ত্রী এই বাড়তি সহায়তাকে দুর্গাপুজো উপলক্ষে দেওয়া বিশেষ অর্থ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে অক্টোবরের পর প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা দেওয়া হবে, এমন সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি। ২০০০ টাকার মাসিক ভাতা চালুর কোনও কার্যকর সরকারি নির্দেশ বা শুরুর তারিখও যাচাই করা প্রকাশিত তথ্য থেকে পাওয়া যায়নি।
অরুণোদয় ভাতা ২০০০ টাকা: সিদ্ধান্ত কোথায় দাঁড়িয়ে
অরুণোদয় ভাতা ২০০০ টাকা করার লক্ষ্য নিয়ে প্রকাশিত সংবাদে ভবিষ্যতে সহায়তার অঙ্ক আরও বাড়ার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। কিন্তু সম্ভাবনা বা লক্ষ্যকে ইতিমধ্যে কার্যকর হওয়া সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যাবে না। কোনও নতুন মাসিক অঙ্ক চালু করতে সরকারকে তার অনুমোদন, কার্যকারিতার তারিখ এবং অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া স্পষ্ট করতে হবে। এখন পর্যন্ত যাচাই করা মন্ত্রিসভার ঘোষণায় অক্টোবরের জন্য ১৫০০ টাকাই নির্দিষ্ট করা হয়েছে; নিয়মিত ভাতা ১২৫০ টাকা থেকে স্থায়ীভাবে বদলানোর কথা সেখানে নেই। তাই ২০০০ টাকা কবে থেকে দেওয়া হবে, কিংবা সব বর্তমান সুবিধাভোগীই তা পাবেন কি না—এমন প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর এখন দেওয়া সম্ভব নয়।
এই পার্থক্য সুবিধাভোগীদের পারিবারিক হিসাবের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। কোনও পরিবার যদি ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ২০০০ টাকাকে বর্তমান মাসের নিশ্চিত প্রাপ্য ধরে খরচের পরিকল্পনা করে, তা হলে প্রত্যাশা ও বাস্তব প্রাপ্তির মধ্যে ফারাক তৈরি হবে। একইভাবে অক্টোবরের ১৫০০ টাকাকে পরবর্তী মাসগুলির স্থায়ী ভাতা বলেও ধরে নেওয়া ঠিক নয়। দ্য ইকোনমিক টাইমস ও এনডিটিভির প্রকাশিত মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত—দুই ক্ষেত্রেই অক্টোবরের বিশেষ সহায়তাকে নিয়মিত ১২৫০ টাকার পরিবর্তে ওই মাসের জন্য নির্ধারিত অঙ্ক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। নতুন ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সরকারি সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এই হিসাবই প্রযোজ্য।
প্রকল্পের পরিসর ও অর্থ দেওয়ার পদ্ধতি
অরুণোদয় অসম সরকারের নারী-কেন্দ্রিক সরাসরি অর্থ সহায়তা প্রকল্প। যোগ্য পরিবারের মনোনীত মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা DBT-এর মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে। অসম সরকারের প্রকল্প-বিবরণে বলা হয়েছে, পরিবারের দৈনন্দিন প্রয়োজন, বিশেষ করে খাদ্য ও স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত ব্যয়ে সহায়তার উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ শুরু হয়। প্রকল্পটি চালু হয় ২০২০ সালের ২ অক্টোবর; তখন প্রাথমিক মাসিক সহায়তার অঙ্ক ছিল ৮৩০ টাকা। সরকারি ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে সুবিধাভোগীর সংখ্যা এবং নিয়মিত অর্থের পরিমাণ—দুটিই বেড়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতা শুরুর সময়ের প্রায় ১৮ লাখ মহিলা থেকে বেড়ে প্রায় ৪০ লাখ সুবিধাভোগী পর্যন্ত পৌঁছেছে। নিয়মিত মাসিক সহায়তাও বেড়ে হয়েছে ১২৫০ টাকা। চলতি বছরের মার্চে প্রায় ৪০ লাখ সুবিধাভোগীর অ্যাকাউন্টে ৯০০০ টাকা করে পাঠানোর কথাও জানানো হয়েছিল; ওই অর্থের মধ্যে একাধিক মাসের কিস্তি এবং বিহু উপলক্ষের বিশেষ সহায়তা ছিল। অতীতের এমন এককালীন বা একসঙ্গে পাঠানো অর্থকে বর্তমান মাসিক ভাতার অঙ্কের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। ৯০০০ টাকার ওই লেনদেন যেমন স্থায়ী মাসিক ভাতা ছিল না, তেমনই অক্টোবরের ১৫০০ টাকাও এখন পর্যন্ত বিশেষ মাসিক সিদ্ধান্ত। 2657
লালা ও হাইলাকান্দির পাঠকদের জন্য
লালা টাউন ও হাইলাকান্দি জেলার অরুণোদয় সুবিধাভোগীদের ক্ষেত্রেও রাজ্য মন্ত্রিসভার একই অক্টোবরের সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য: যোগ্য হলে ওই মাসের সহায়তা ১৫০০ টাকা। হাইলাকান্দির জন্য আলাদা কোনও ২০০০ টাকার মাসিক হার ঘোষণা করা হয়েছে—এমন তথ্য যাচাই করা সরকারি সিদ্ধান্তে নেই। অর্থ জমা হয়েছে কি না, তা জানতে নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেন বিবরণ দেখা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়। কোনও প্রচারমূলক বার্তা, অসমর্থিত তালিকা বা শুধু শিরোনামের ভিত্তিতে নতুন অঙ্ক চালু হয়েছে বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে একই সময়ে নিয়মিত ভাতা, উৎসবের অতিরিক্ত অর্থ এবং সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির কথা প্রচারিত হলে বিভ্রান্তি হওয়া স্বাভাবিক।
প্রকল্পে সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সরকারি প্রক্রিয়ার গুরুত্ব রয়েছে। অসম সরকারের প্রকাশিত প্রকল্প-বিবরণ অনুযায়ী, গ্রাম পঞ্চায়েত বা শহুরে স্থানীয় সংস্থার স্তরে প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত হয় এবং জেলা পর্যায়ে তা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকে। তবে সরকারি ওয়েবপেজটির বহু তথ্য প্রকল্প শুরুর সময়ের; সেটিকে বর্তমান ভাতার অঙ্ক বা নতুন আবেদনের নিয়মের একমাত্র ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক হবে না। লালা বা হাইলাকান্দির কোনও বাসিন্দার নিজের নাম, যোগ্যতা বা টাকা জমা হওয়া নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসন এবং নিজের ব্যাঙ্কের যাচাই করা তথ্য মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অরুণোদয় ভাতা ২০০০ টাকা হবে কি না, তা স্পষ্ট হবে কেবল পরবর্তী সরকারি অনুমোদন ও বাস্তবায়নের নির্দেশ প্রকাশিত হলে। আপাতত নিশ্চিত সিদ্ধান্ত হলো: নিয়মিত মাসিক সহায়তা ১২৫০ টাকা এবং দুর্গাপুজো উপলক্ষে অক্টোবরের জন্য মোট ১৫০০ টাকা। ভবিষ্যতের কোনও লক্ষ্যের সঙ্গে বর্তমান প্রাপ্যকে না মেলানোই সুবিধাভোগীদের জন্য সবচেয়ে জরুরি। পরবর্তী ঘোষণায় নতুন অঙ্ক, কার্যকারিতার মাস এবং কারা তা পাবেন—এই তথ্যগুলি স্পষ্ট করা হলে লালা, হাইলাকান্দিসহ অসমের পরিবারগুলি নিজেদের প্রাপ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারবেন।